সময় কলকাতা ডেস্ক, ১১ ফেব্রুয়ারিঃ আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি কৃষকদের বিভিন্ন সংগঠন ‘দিল্লি চলো’র ডাক দিয়েছে। কৃষকদের জন্য পেনশন, ফসলের জন্য ন্যূনতম সমর্থন মূল্যের গ্যারান্টি দেওয়ার আইন, শস্যবিমা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর বাতিলের দাবিতে ১৩ ফেব্রুয়ারি, ‘দিল্লি চলো’র ডাক দিয়েছেন পঞ্জাব, হরিয়ানা সহ একাধিক রাজ্যের কৃষকেরা। জানা গিয়েছে, কিষান মজদুর মোর্চা-সহ ২০০টিরও বেশি কৃষক সংগঠন এই আন্দোলনে শামিল হবে। এবার এই কৃষক আন্দোলন ‘রুখতে’ কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ হরিয়ানা সরকারের। হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে।

জানা গিয়েছে, ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬ টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১ টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে পরিষেবা। তবে, ভয়েস কলের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকেও আপাতত পঞ্জাবে যেতে বারণ করা হয়েছে। চণ্ডীগড় থেকে দিল্লি যাওয়ার জন্যও বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের মিছিল রুখতে হরিয়ানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে রাস্তায় ত্রিস্তরীয় ব্যারিকেড বসানোর কাজও শুরু করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত ৫০ কোম্পানি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা যাতে অন্যান্য জেলা থেকে হরিয়ানায় ঢুকতে না পারে, কার্যত সেই কারণেই রাজ্যের সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারী কৃষকদের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, প্রশাসনের অনুমতি না মেলা পর্যন্ত মিছিলে অংশ না নিতে। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া মিছিলে অংশ নিলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। সব মিলিয়ে হরিয়ানায় উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।
আরও পড়ুন সিকিমে মেলার ভিড়ে ঢুকে পড়ল বেপরোয়া গতিতে থাকা দুধের ট্যাঙ্কার, মৃত ৩, আহত শতাধিক
প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে আন্দোলনকারী কৃষকরা কার্যত মরিয়া হয়ে উঠেছে মোদি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে। সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠনগুলিও কৃষকদের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। এর আগে ২০২০ সালে কৃষক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা দেশ। উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে লাগাতার আন্দোলন চলেছে। সেই আন্দোলনের জেরে শেষ পর্যন্ত পিছু হটেছিল মোদি সরকার। ‘বিতর্কিত’ কৃষি বিল প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এর আগে গত বৃহস্পতিবার নয়ডা এবং গ্রেটার নয়ডার প্রায় ১০০ গ্রামের হাজার হাজার কৃষক সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণকৃত জমির জন্য ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় নামেন। কৃষকরা এক বছরেরও বেশি সয়ম ধরে দিল্লি তিন সীমানায় বসে লাগাতার আন্দোলন চালিয়েছিলেন কৃষকরা। এই আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁরা তিন কৃষক আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করিয়েছিলেন। এই তিন আইনকে ‘কালা কানুন’ নামে আখ্যায়িত করেছিলেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি ক্ষমা চাওয়ায় তাঁরা আন্দোলন তুলে নিলেও সেই সময় কৃষকরা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন শেষ হয়নি আন্দোলন।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোদি ও বিজেপিকে খোঁচা : আগাম জামিন পেলেন নিয়ে নেহা সিং রাঠোর