সময় কলকাতা ডেস্ক, ২০ ফেব্রুয়ারি : তাঁর দেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত না হলে দক্ষিণ আফ্রিকার অসাধারণ এক ক্রিকেটার বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হতে পারতেন। তাঁর নাম মাইক প্রোক্টর । তিনি যখন তাঁর ফর্মের মধ্য গগনে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তখনও ইয়ান বোথাম, কপিল দেব, রিচার্ড হ্যাডলি ও ইমরান খান – এই চার বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের আবির্ভাব ঘটে নি। রিচি বেনো,গ্যারি সোবার্স – ষাট ও সত্তর দশকের সেরা দুই অলরাউন্ডারের যুগ শেষ হয়েছে । অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিনি তাঁর দক্ষতার দুর্দান্ত প্রদর্শন করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক ঘটিয়েছিলেন।
মাইক প্রোক্টর যখন খেলতেন, সে সময়ে ষাটের দশকের শেষ বা সত্তর দশকের অলরাউন্ডার বলতে মানুষ জানে টনি গ্রেগের কথা। টনি গ্রেগের ভাগ্য প্রসন্ন ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা জাত ক্রিকেট তারকা টনি গ্রেগ ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রায় সমসাময়িক দুজন তারকা যারা বড় মাপের অলরাউন্ডার ছিলেন তাঁরা সে অর্থে খেলার সুযোগই পাননি সে সময় দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক খেলা থেকে নির্বাসিত থাকায়। এদের একজন মাইক প্রোক্টর। অন্যজন ক্লাইভ রাইস প্রায় ক্যারিয়ার শেষে তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তাঁর নাম ক্লাইভ রাইস। প্রোক্টর যখন অবসর নেন তখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরে নি দক্ষিণ আফ্রিকা। নিষেধাজ্ঞা ওঠে নি। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ এই তিন বছর সময় তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ পান । তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর জীবনের ৭ টি টেস্ট খেলেছিলেন। এই সময় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দারুণ দাপট দেখিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। জয় তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। জীবনের ৭ টি টেস্ট ম্যাচে ৪১টি উইকেট পেয়েছিলেন মাইক প্রোক্টর। ব্যাটেও ২২৬ রান করেছিলেন। ব্যাটিং গড় আহামরি না হলেও ছিল পঁচিশের বেশি। তিনি সেভাবে ব্যাটিং করার সুযোগও পাননি। তবে তিনি যে চমৎকার ব্যাটসম্যান ছিলেন তার প্রমাণ বহুবার দিয়েছেন। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে টানা ছটি সেঞ্চুরি তিনি করেছিলেন। বল হাতে ভয়ংকর ছিলেন এই ফাস্ট বোলার। তাঁর বোলিং গড়ও ছিল অবিশ্বাস্য। টেস্টে মাত্র ১৫.০২ গড়ে ৪১ টি উইকেট পান তিনি। কিন্তু এটুকুই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ ঘটেছিল তাঁর। অথচ ঘরোয়া ক্রিকেটে ৪০১ ম্যাচে ১৪১৭ উইকেট পান তিনি।এখানেও উইকেট প্রতি গড় কুড়ির কম।ব্যাট হাতে ২২হাজার রান। ৪৮ টি শতরান ছিল তাঁর। ব্যাটিং গড় ছত্রিশ।
প্রায় সবার অজান্তে চলে গেলেন এহেন অসামান্য ক্রিকেটার মাইক প্রোক্টর। সম্প্রতি হৃদযন্ত্রের সমস্যায় তাঁর সার্জারি হয়েছিল। শল্য চিকিৎসা পরবর্তী সময় দেখা দেয় শারীরিক জটিলতা। অচেতন হয়ে পড়েছিলেন, জ্ঞান আর ফেরে নি। ৭৭ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন মাইক প্রোক্টর। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাচ রেফারি হিসেবে ক্রিকেটপ্রেমীদের বর্তমান প্রজন্ম দেখতে পেলেও তাঁর ব্যাট ও বল হাতে তাঁর দক্ষতা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অদৃশ্য থেকে গেল। টেস্ট ক্রিকেটে সেভাবে নিজের প্রতিভা দেখানোর সময় বা সুযোগ পান নি, অথচ তিনি যে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হতে পারতেন সেকথাই বলেন সমসাময়িক ক্রিকেটাররা। তাঁর প্রমাণ তিনি রেখেছেন বাইশ বছর ধরে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর পারফরমেন্সে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন বছরে তাঁর খেলা ৭ টি টেস্টে।।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার