পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা : ‘ মোদের গরব মোদের আশা আ মরি বাংলা ভাষা।” ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস । বরাবরের ঐতিহ্য মেনে তারকাটার বেড়াজাল সত্বেও যথারীতি মিশে গেল এপার বাংলা ওপার বাংলা। মিলে গেল আবেগ ও সংহতির জোয়ার,যার কেন্দ্র ভাষা। কাঁটাতারের বেড়াজাল ছিন্ন করে মিশল দুই দেশের মানুষ,যাদের ভাষা এক সংস্কৃতি এক। যাদের হৃদয় এক। যাদের মননে রবীন্দ্র নজরুল। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁর পেট্রাপোল সীমান্তে পালিত হলো আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস।বেনাপোল – পেট্রাপোল বন্দরে জিরো পয়েন্টে ভারত বাংলাদশের যৌথ ভাষা দিবস উদযাপিত হৃদয়ের ভাষায় রাঙিয়ে।
প্রতিবছরের মত এবছরও ভারত এবং বাংলাদেশ যৌথ ভাবে পেট্রাপোল ও বেনাপোল বন্দরের জিরো পয়েন্ট ভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ যশোর সাংসদ সহ একটি প্রতিনিধি দল এবং বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ, জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামীর, নির্মল ঘোষ, বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস সহ ভারতের একটি প্রতিনিধি দল জিরো পয়েন্টের অস্থায়ী শহিদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে। দুই দেশের মধ্যে চলে মিষ্টি বিনিময়।
এদিনের এই ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পেট্রোল বন্দরে কঠোর নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলেছিল সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। নিরাপত্তার কারনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মিলন হলেও ভাষা প্রেমী সাধারণ মানুষের মিলনে ভাটা পড়ল। ভাষার টানে দুই দেশের যেসমস্ত মানুষ পেট্রাপোল এবং বেনাপোল বন্দরের এসেছিলেন তাদের বন্দরের গেটে আটকে দেয় দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী।
তবুও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস দিনটিকে ঘিরে বুধবার সকাল থেকেই বেশ সাজোসাজো রব পেট্রাপোল সীমান্তে।। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরই একুশে ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষিত হয়। এদিন শহীদ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে রেডিও, টেলিভিশন এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দেশের সংবাদপত্রগুলিও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। বাংলা একাডেমি ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে ঢাকায় একুশে বইমেলার আয়োজন করার ঐতিহ্য ও চালু হয়েছে দীর্ঘদিন।
১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বলে ঘোষণা করেছিল। এই মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার পেছনে রযেছে আব্দুল জব্বার , আবদুল বরকত ,আবদুস সালাম ,রফিকউদ্দিন প্রমুখের বলিদানের ইতিহাস।১৯৫২সালে ঢাকায় বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্বে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের পুলিশের দমন নীতি শুরু হয়। ২১ ফেব্রুয়ারী হরতাল দিবসে গুলি চলে ও প্রাণ হারান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। ১৯৪৮ সালে উর্দু কে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিয়ে উর্দু আর ইংরেজিকে সরকারি ভাষা হিসেবে গৃহীত হওয়ার প্রস্তাব আসতেই শুরু হয় সে সময় পাকিস্তানে গরিষ্ঠ অংশের ভাষা বাঙ্গলায় কথা বলা মানুষ দের বিক্ষোভ। আর এই দিন কাঁটাতারের বিভেদ থাকলেও আবেগে, হৃদয়ের টানে মিশে যায় দুই বাংলা।।


More Stories
রবীন্দ্রনাথের পরলোক চেতনা ও প্রেতচৰ্চা
অভিনেতাদের কাছে সেরা-টুকু নেওয়ার মাস্টার আর্ট ছিল সত্যজিৎ রায়ের জানা
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস