সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৭ ফেব্রুয়ারি : বিখ্যাত সাহিত্যিক , শায়র (শায়েরিকার) তথা কবি গুলজারের জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পাওয়ার খবর ইতিমধ্যে অনেকেই জানেন। মানুষ জেনেছেন, দেশের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান জ্ঞানপীঠ পুরস্কার গুলজারকে প্রদানের কথা ঘোষণা করেছে জ্ঞানপীঠ নির্বাচন কমিটি। গুলজার উর্দু ভাষার পঞ্চম জ্ঞানপীঠ প্রাপক।২০২৩ সালের (৫৮ তম) জ্ঞানপীঠ পুরস্কারের জন্য দুজনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। উর্দু ভাষায় রচনার জন্য গুলজারের পাশাপাশি সংস্কৃতের জন্য রামভদ্রাচার্যকে জ্ঞানপীঠ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
গুলজারের বয়স এখন ৯০। তিনি হিন্দি সিনেমার গীতিকার হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছেন। তা ছাড়া তিনি চলচ্চিত্র নির্দেশক, স্ক্রিন রাইটার এবং একজন কবি। তাঁর রচনা মূলত তিনটি ভাষায়। হিন্দি,উর্দু ও পাঞ্জাবি ভাষায় তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন মুগ্ধতার সম্ভার । তাঁকে গুলজার নামেই অধিকাংশ মানুষ চেনেন। খুব কম মানুষ জানেন তাঁর প্রকৃত নাম যে সম্পূরণ সিং কারলা।
তাঁর ধর্ম কি তাও অধিকাংশ মানুষ জানেন না। ধর্ম বলতে সাধারণ মানুষ যা বোঝে গুলজার নিজেও তা বোঝার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না। তিনি ভাবতে পারেন নি নামের আগে ধর্মের কথা জিজ্ঞেস করা হতে পারে। কিন্তু এরকম প্রশ্ন উঠেছিল যা একটা সময় ক্ষুব্ধ করেছিল গুলজারকে।
সালটা ২০১৫। মাস অক্টোবর। একবছর আগেই দাদাসাহেব একাডেমী পুরস্কার পেয়েছিলেন গুলজার। তিনি বলেছিলেন, দেশের বর্তমান অসহিষ্ণু অবস্থার কারণ সরকারের সিস্টেম এবং পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়াটা কোনও সমাধান হতে পারে না। কিন্তু ২০১৫ সালে সরব হয়েছিলেন বেড়ে ওঠা অসহিষ্ণুতাকে নিয়ে, তথাকথিত ধর্ম নিয়ে উঠতে থাকা প্রশ্ন নিয়ে। পরিস্থিতিকে দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়েছিলেন গুলজার।আর হবেন না কেন? ধর্ম যে তাঁর চোখে এক ও অভিন্ন। তাঁর কাছে মানুষ ধর্মই শেষ কথা, মানুষের শেষ পরিচয় মনুষ্যত্ব। তাই গুলজার হয়েই তিনি আছেন, সম্পূরণ সিং কারলা নাম থেকে যায় অগোচরে।।
আরও পড়ুন যে সমকামী কবির দেহ খুঁজে পাওয়া যায় নি


More Stories
ডিএ এবং বেতনবৃদ্ধি, সরকারি কর্মীদের নিয়ে রাজ্য কী বলছে?
জামাইষষ্ঠীর নতুন অতিথি,গাছ থেকে আম পেড়ে খেল হাতি
বিয়ের গাড়ি সাজিয়ে গরুপাচারের ধুরন্ধর কায়দা ব্যর্থ