সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৫ ফেব্রুয়ারি: না ফেরার দেশে চলে গেলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক কুমার সাহনি (KUMAR SHAHANI)। ভারতে সমান্তরাল সিনেমার অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন তিনি। মায়দর্পণ, দ্যা টাউনশিপ, তরঙ্গ, খেয়ালগাথা, কসবার মতো অসংখ্য জনপ্রিয় ছবি তৈরী করেছিলেন। শনিবার কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

অবিভক্ত ভারতের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায়, বর্তমানে যা পাকিস্তানের অন্তর্গত ১৯৪০ সালের ৭ ডিসেম্বর জন্মেছিলেন কুমার সাহনি। ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাকাপাকি ভাবে বোম্বে বা মুম্বইয়ে চলে আসে তার পরিবার। বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন তিনি। তারপর পুণে ফিল্ম ইনসটিউটে (ফটিআইআই) পড়ার সুযোগ পান সাহনি।সেখানে শিক্ষক হিসেবে তিনি পেয়েছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের দিকপালদের। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ঋত্বিক ঘটক। ঋত্বিক ভারতীয় চলচ্চিত্রে পরিচিত তার নিজস্ব ঘরানার জন্য। সেই ঘরানায় আকৃষ্ট হয়েছিলেন কুমার সাহনি। পরে যখন সিনেমা বানানোর সুযোগ পেয়েছেন সেই ছবিগুলিতে ঋত্বিকের প্রভাব ছিল সব থেকে বেশী।পরবর্তী সময়ে ফরাসি সরকারের স্কলারশিপ পেয়ে সেদেশে পাড়ি দেন কুমার সাহনি। প্রখ্যাত ফরাসি পরিচালক রবার্ট ব্রেসঁর সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজের সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি। সেই ছবির নাম ‘আ জেন্টল উওম্যান’।
আরও পড়ুন: OPTICAL ILLUSION: হাতে সময় মাত্র ৩০ সেকেন্ড, নীচের দেওয়া ছবি দুটি থেকে ৩ টি পার্থক্য খুঁজে বের করুন
ষাটের দশকে স্বল্প দৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্রের মধ্যে দিয়ে পরিচালনায় হাতেখড়ি হয় কুমার সাহনির। আটের দশকের গোড়াতে মক্তি পায় তাঁর পরিচালিত প্রথম কাহিনিচিত্র ‘মায়া দর্পণ’। ১৯৭২ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি দর্শক ও চলচ্চিত্রের নিন্দুকদের প্রশংসা অর্জন করে। সে বছর সেরা হিন্দি ছবির জাতীয় পুরস্কার জিতে নেয় ‘মায়া দর্পণ’। প্রথম ছবি সফল হলেও দ্বিতীয় ছবি তৈরী করতে প্রায় একযুগ অপেক্ষা করতে হয়েছিল তাকে। কারণ পরবর্তী ছবির প্রযোজক পাননি তিনি।১৯৮৪ সালে মুক্তি পায় তার দ্বিতীয় ছবি তরঙ্গ। সেখানে অভিনয় করেছিলেন ওম পুরী, স্মিতা পাটিল, গিরিশ কারনাড ও অমল পালেকরের মতো দিকপাল অভিনেতারা। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায় কুমার সাহনি পরিচালিত ‘চার অধ্যায়’। মোট তিনবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন কুমার সাহনি। প্রথমটি ১৯৭২ সালে মায়া দর্পণের জন্য। দ্বিতীয়টি ১৯৮৪ সালে তরঙ্গের জন্য। আত্মজীবনীমূলক ওড়িশি ছবি ‘ভাবন্তরণ’-এর জন্য ১৯৯১ সালে তৃতীয় বারের জন্য জাতীয় পুরস্কার পান তিনি। তার প্রয়াণের খবরে শোকের ছায়া চলচ্চিত্র জগতের একাংশে।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
প্রয়াণে শ্রদ্ধার্ঘ্য, হা হা করে হাসি ও কুশিক্ষা
চলে গেলেন শংকর