সময় কলকাতা ডেস্ক, ৯ মার্চ : india-England Testseries ইংল্যান্ড এবার ভারতে এসে ফল যাই করুক, তাদের ওপেনারদ্বয় ক্রলে ও ডাকেট প্রায় প্রতিটি ইনিংসে শুরুটা ভালোই করছিলেন। ধরমশালা টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫৯ রানে পিছিয়ে থেকে খেলতে নামে ইংল্যান্ড। কিছুটা নজিরবিহীন ভাবে এই প্রথম দুজন ওপেনারই খুব দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। শুরু থেকেই ভয়ঙ্কর রূপ ধরেন আশ্বিন। তাঁর পাঁচ উইকেট প্রাপ্তির এবং ইংল্যান্ড দলের শেষের শুরু সেখান থেকেই।তখনই কার্যত বোঝা গিয়েছিল ধরমশালা টেস্টে ইনিংস হার থেকে ইংল্যান্ডের উদ্ধার পাওয়া কঠিন। বাস্তবে তাই হল। একা কুম্ভ হয়ে নকল বুদিগড় রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন জো রুট। তাঁর পাশে বেয়ারস্টো ছাড়া কেউই সামান্যতম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। জো রুটের ৮৪ রানের ইনিংস শেষ হয় দ্রুত রান করার মরিয়া চেষ্টা করতে গিয়ে, ইংল্যান্ডে ইনিংসের শেষ উইকেট হিসাবে রুট আউট হন। তখনও ইনিংস হার এডাতে ৬৪ রান দরকার ছিল। ১৯৫ রানে ইংল্যান্ড ইনিংস মুড়িয়ে দিয়ে ভারতীয় বোলাররা আড়াই দিনে খেলা শেষ করে দেন। ব্যাজবল ক্রিকেটের ভারত সিরিজে করুণ পরিসমাপ্তি ঘটে, যা সারা সিরিজ ধরেই দেখা গিয়েছে।পঞ্চম টেস্টে ইনিংসে জয় ভারতের হলেও তিনটি টেস্টে টানটান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। তবে, ইংল্যান্ডের একটি টেস্ট জিতলেও প্রত্যেক টেস্টে প্রায় নিয়ম করে পঞ্চম দিনে খেলা গড়াচ্ছে না। ইংল্যান্ড মারকুটে ব্যাট করে দর্শকদের আনন্দ দিতে চেষ্টা করলেও তাদের ইনিংস দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। চতুর্থ -পঞ্চম দিনে দর্শকদের মাঠমুখী করা যাচ্ছে না কারণ খেলা তিন- সাড়ে তিনদিনে শেষ হয়ে যাচ্ছে। পাঁচ দিনের টেস্টের আনন্দ বেশ সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে।
সিরিজে ভারত ইংল্যান্ডের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির বিচার করলে দু দলের কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। ইনিংস ও ৬৪রানে টেস্ট পঞ্চম জিতে সিরিজের ফল ৪-১ করে ফেলার পাশাপাশি বিশ্ব টেষ্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্টের বিচারে নিজেদের অবস্থান আরও কিছুটা মজবুত করে ফেলল ভারত। ইংল্যান্ড দলের হয়ে এই টেস্টে রেকর্ডের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য দিক তৃতীয় দিনে অ্যান্ডারসনের ৭০০ উইকেট। সিরিজে ইংল্যান্ড দলের প্রাপ্তি শোয়েব বশির ও হার্টলে। শোয়েব বশির আবার ৫ উইকেট পেলেন ভারতের একমাত্র ইনিংসে। অন্যদিকে, ভারতের প্রাপ্তি হয়ে দেখা দিয়েছেন এক ঝাঁক নবীন তারকা। ধ্রুব জুরেল, দেবদূত পাড়িক্কাল, সরফরাজদের উত্থান এবং যশস্বী, গিলদের প্রতিষ্ঠা লাভ ভারতীয় ব্যাটিংকে আগামী দিনেও মজবুত রাখার স্বপ্ন দেখাবে। বোলিং বিভাগে আকাশদীপ ছাড়া কোনও নতুন মুখ উঠে আসে নি। সেভাবে নতুন বোলারদের সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবেও নি ভারত। ব্যাটে রোহিত – বিরাট এমনকি শ্রেয়সের বিকল্প ভাবার কাজ দুর্দান্তভাবে শুরু হলেও স্পিনে আশ্বিন- জাদেজার বিকল্প ভাবার কাজ শুরু করে নি ভারত। ভবিষ্যত সময়ে এই বিষয় হয়তো কিছুটা অসুবিধেয় ফেলতে পারে টিম ইন্ডিয়াকে। নবীন ব্যাটার আর প্রবীণ বোলাররা সিরিজ জেতালেন ভারতকে। ভারতীয় দলের ক্ষেত্রে সিরিজের ট্যাগলাইন হতে পারে অনেকটা এরকমভাবেই। ভারতের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি দেখা যেতে পারে এভাবেই।।
আরও পড়ুন James Anderson: ধর্মশালায় ইতিহাস অ্যান্ডারসনের, প্রথম পেসার হিসেবে নিলেন ৭০০ উইকেট


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার