সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩ এপ্রিলঃ রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতারের পর এবার ধীরে ধীরে মুখ খুলছেন শেখ শাহজাহান। বুধবার মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য সন্দেশখালির‘বেতাজ বাদশাকে’ ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল ইডি। সেখান থেকে বেরোনোর সময় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শাহজাহান বলেন,‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যে। আমি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। বুঝতেই পারছি কারা এই ষড়যন্ত্র করেছে?’এদিনে শেখ শাহজাহানকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, ‘জেলিয়াখালির শরিফুল মোল্লাকে চিনতেন? কেনো শরিফুলের অ্যাকাউন্টে টাকা দিয়েছিলেন?” এরপর শাহজাহান বলেন, ‘সব মিথ্যা।’
আরও পড়ুন দীর্ঘদিন ধরে আলসারের সমস্যায় ভুগছেন? দারুণ কাজ দেবে এলাচ
উল্লেখ্য, রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে , ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই ইডি আধিকারিকরা একের পর এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন আদালতে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, চিংড়ির ব্যবসার আড়ালে ১৩৭ কোটি কালো টাকা সাদা করেছেন সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহান। জানা গিয়েছে, চিংড়ি মাছের রফতানির কাজ করা দুটি সংস্থার মাধ্যমে শাহজানের সংস্থায় ওই পরিমাণ টাকা ঢুকেছিল। ইতিমধ্যেই সেই টাকা লেনদেনের নথিও সংগ্রহ করেছে ইডি। ইডির দাবি, ভুয়ো ভেড়ির মালিকদের কাছ থেকে মাছ কেনার নামে চলত কালো টাকা সাদা করার কাজ। এসকে সাবিনা নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করত। তারা ভুয়ো ভেড়ি মালিকদের কাছ থেকে মাছ কিনত। তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবীর দাবি, আদিবাসীদের জমি দখলদারি সিন্ডিকেটের মাস্টারমাইন্ডও ছিলেন সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’। শাগরেদদের সামনে রেখে চলত সেই দখলদারিও। আর সেই কাজ করত শেখ শাহজাহান ও তাঁর অনুগামীরা।
এদিকে, শাহজাহানকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে বিশেষ আদালতে আবেদন জানিয়েছিল ইডি। ইডির আবেদনের ভিত্তিতে গত সোমবার বিকেল চারটের সময় শাহজাহান বসিরহাট আদালতে হাজিরা দেয়। ইডির দাবি, ৩১ কোটি ২০ লাখ টাকার মানি লন্ডারিং মামলায় তাঁরা শেখ শাহজাহানকে জেরা করেন। যদিও গত শনিবারই রেশন দুর্নীতি মামলা, বিদেশের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন-সহ একাধিক বিষয়ে শাহজাহানকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালতে আবেদন করেছিল ইডি। বসিরহাট আদালতের অনুমতি নিয়ে এদিন ইডি কর্তারা সোজা পৌঁছে যান বসিরহাট সংশোধনাগারে। আপাতত এই সংশোধনাগারই হল তৃণমূল নেতা শেখ শাহাজাহানের ঠিকানা। এদিন সব মিলিয়ে ইডির পাঁচ জনের একটি প্রতিনিধি দল এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী আসে আদালতে। আধিকারিকদের সঙ্গে ছিল ল্যাপটপ, স্ক্যানার, প্রিন্টার- সহ বেশ কিছু কাগজপত্র। এদিকে, শাহজাহানের নির্দেশেই গত ৫ জানুয়ারি ইডি আধিকারিকদের উপর হামলা চালানো হয়েছিল। তিনি বাড়ির পাশ থেকে ফোন করে ‘অনুগামী’-দের জড়ো হতে বলেছিলেন। ইতিমধ্যেই বসিরহাট আদালতে এমনটাই দাবি করেছিলেন সিবিআইয়ের আইনজীবী।
#SheikhShahjahan
#শেখশাহজাহান
#latestbengalinews
#rationcorruptioncase


More Stories
অভিষেকের দুয়ারে ইডি
রথীন ঘোষ ফিরলেন ইডি দফতর থেকে
গ্রেফতার সুজিত বসু