Home » Mohun Bagan: প্রাক্তনী রয় কৃষ্ণার গোল, ভুবনেশ্বরে ওড়িশা কাঁটায় ফের বিদ্ধ মোহনবাগান

Mohun Bagan: প্রাক্তনী রয় কৃষ্ণার গোল, ভুবনেশ্বরে ওড়িশা কাঁটায় ফের বিদ্ধ মোহনবাগান

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ২৪ এপ্রিল:  জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ভুবনেশ্বর গিয়েছিল মোহনবাগান। সবুজ মেরুন কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস চেয়েছিলেন কলিঙ্গ স্টেডিয়াম থেকে জিতে মাঠ ছাড়তে। কিন্তু ইন্ডিয়ান সুপার লিগের সেমিফাইনালের প্রথম পর্বের ম্যাচে হারের মুখ দেখতে হল লিগ শিল্ড জয়ীদের। ওড়িশা এফসির কাছে ১-২ ব্যবধানে হেরে গেল তারা। মনবীর সিং গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। সেই গোল ধরে রাখতে পারলনা গঙ্গাপারের ক্লাব। ফলে ঘরের মাঠে ফিরতি পর্বের ম্যাচে ১ গোলে পিছিয়ে থেকেই মাঠে নামতে হবে গতবারের আইএসএল জয়ীদের।

ভুবনেশ্বরে হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচের সাক্ষী থাকতে উপস্থিত হয়েছিলেন মোহন সমর্থকারাও। কিন্তু নিরাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে হল তাদের। ঘরের মাঠে প্রথম থেকেই দাপুটে ফুটবল খেলেন আহমেদ জাহু, রয় কৃষ্ণারা। মাঝমাঠের দখল নেন সের্জিও লোবেরার ছেলেরা। যদিও ম্যাচ শুরুর ৩ মিনিটের মধ্যে এগিয়ে গিয়েছিল মোহনবাগান। কর্নারে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন মনবীর সিং। পিছিয়ে পড়ে আক্রমণে আরও চাপ বাড়ায় ওড়িশা । ফলও মেলে। ১১ মিনিটের মাথায় ম্যাচে সমতা ফেরায় তারা। এই গোলটিও হয় কর্নার থেকে। মোহনবাগান গোলরক্ষক ও রক্ষণের ভুলে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে যান কার্লোস ডেলগাডো। প্রায় বিনা বাধায় তিনি বল জড়িয়ে দেন জালে। প্রথম গোলের তিন মিনিটের মধ্যে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল লোবেরা ব্রিগেড। বক্সের মধ্যে বিশাল কাইথের বিরুদ্ধে রয় কৃষ্ণাকে ফাউলের আবেদন জানায় ওড়িশা। কিন্তু তাদের সেই আবেদনে কর্ণপাত করেননি রেফারি। ওড়িশার একের পর এক আক্রমণের সামনে চাপ বাড়তে থাকে মোহনবাগান শিবিরে। ওড়িশার গতির সঙ্গেও পাল্লা দিতে পারছিলেন না হাবাসের ছেলেরা। কাউকো, হেক্টর উতসেদের দেখে মনে হচ্ছিল ক্লান্ত। একা গোটা মাঠে দাপিয়ে গেলেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। কিন্তু সতীর্থদের থেকে সাহায্য পেলেননা। ২৪ মিনিটে পেত্রাতোসের দুরন্ত শট রুখে দেন গোলরক্ষক অমরিন্দর সিং। ৩৯ মিনিটে আবার রক্ষণের ভুলে গোল হজম করে মোহনবাগান। প্রায় মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে উঠে গোল করেন মোহনবাগানের প্রাক্তনী রয় কৃষ্ণা। পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যান মোহন ফুটবলাররা।

আরও পড়ুন: Mohun Bagan: বিপক্ষকে সমীহ করলেও, ৯০ মিনিটেই কলিঙ্গ জয় করতে চান হাবাস

দ্বিতীয়ার্ধে গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও গোল করতে পারেনি কোনও দল। ৬৭ মিনিটে মোহনবাগানের বিপদ বাড়ান সাদিকু। মাথা গরম করে ফাউল করায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড এবং লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি। দশজনে আরও চাপ পড়ে যায় মোহনবাগান। ৭৪ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ডেলগাডো। ফলে দু’দলই দশ জনে হয়ে যায়। তাতেও বিশেষ লাভ হয়নি মোহনবাগানের। ৮২ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন জেরি। কৃষ্ণার কাছ থেকে বক্সের ভাল জায়গায় বল পেয়েও গোল করতে পারেননি তিনি। এর পরে মুহূর্তেই প্রতিআক্রমণে উঠে প্রায় সমতা ফিরিয়ে ফেলেছিল মোহনবাগান। কিন্তু অনিরুদ্ধ থাপার শট পোস্টে লাগে। শেষ দিকে অলআউট আক্রমণে উঠে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করে হাবাসের ছেলেরা। কিন্তু ওড়িশার রক্ষণ সতর্ক থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

আগামী ২৮ এপ্রিল কলকাতার যুবভারতীতে ফিরতি পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। ফাইনালে পৌঁছতে সেই ম্যাচে জিততেই হবে মোহনবাগানকে। অন্যদিকে ম্যাচ ড্র হলেই ফাইনালে চলে যাবে ওড়িশা । কাজটা কঠিন হলেও দলের উপর আশা রাখছেন মোহনবাগানের বর্ষীয়ান কোচ।

About Post Author