Home » IPL 2024: স্টোইনিসের দাপুটে শতরান, চিপকে ধোনিদের হারাল রাহুলের লখনউ

IPL 2024: স্টোইনিসের দাপুটে শতরান, চিপকে ধোনিদের হারাল রাহুলের লখনউ

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ২৪ এপ্রিল: জমজমাট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। মঙ্গলবার চিপকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চেন্নাই সুপার কিংসকে হারাল লখনউ সুপার জায়ান্ট। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২১০ রান তোলে চেন্নাই। দলের হয়ে দুরন্ত শতরান করেন অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড। শিবম দুবের ব্যাট থেকে আসে দাপুটে অর্ধশতরান। তাতেও শেষরক্ষা হল না। মার্কোস স্টোইনিসের তাণ্ডবে ব্যাটিংয়ে ধরাশায়ী হতে হল ধোনিদের। ১৯.৩ ওভারে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের রান তুলে নেয় লখনউ। শতরান করে শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন স্টোইনিস।   

টসে জিতে চেন্নাইকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন লখনউ অধিনায়ক কেএল রাহুল। রচিন রবীন্দ্র না থাকায় অধিনায়ক রুতুরাজের সঙ্গে ওপেন করেন অজিঙ্ক রাহানে। এই মরশুমে ব্যাটে রান নেই রাহানের। ওপেন করেও রান পেলেন না তিনি। ম্যাট হেনরির প্রথম ওভারেই ফিরলেন ১ রান করে। এই ম্যাচে দলে ফেরা ড্যারিল মিচেলও রান পাননি। যশ ঠাকুরের বলে ১১ রান করে আউট হন কিউয়ি ব্যাটার। চার নম্বরে নেমে চেনা মেজাজে পাওয়া গেল না রবীন্দ্র জাদেজাকে। তিনি করলেন ১৬ রান। খরচ করলেন ১৯ বল। জাদেজা ফিরতে দলের হাল ধরেন রুতুরাজ ও শিবম দুবে। এদিন শুরু থেকে আগ্রাসী ব্যাটিং করছিলেন চেন্নাই অধিনায়ক। ২৮ বলে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন শিবম। যশ ঠাকুরের এক ওভারে পরপর তিনটি ছক্কা মারেন। একটা সময় মনে হয়নি দুশো রানের গণ্ডি পেরোতে পারে চেন্নাই। কিন্তু এই দুই ব্যাটারের দাপটে রানের গতি বাড়িয়ে নেয় তারা। পরপর দু’বলে ছক্কা ও চার মেরে আইপিএলে দ্বিতীয় শতরান করেন রুতু। ২২ বলে অর্ধশতরান করেন শিবম। দুজনে চতুর্থ উইকেটের জুটিতে তোলেন ১০৪ রান। অবশেষে ২৭ বলে ৬৬ রান করে আউট হন শিবম। মারেন ৩ টি চার ও ৭ টি ছয়। শিবম ফিরলেও ১০৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন রুতুরাজ। তার ব্যাট থেকে আসে ১২ টি চার ও ৩ টি ছয়।

আরও পড়ুন:Harbhajan Singh: হার্দিক বা গিল নন, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভারতের পরবর্তী নেতা বেছে নিলেন হরভজন সিং

২১১ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ব্যাট করতে নেমে দ্রুত দুই ওপেনারের উইকেট হারায় লখনউ। প্রথম ওভারে রানের খাতা না খুলেই দীপক চাহারের বলে বোল্ড হন কুইন্টন ডি’কক। ভাল শুরু করেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অধিনায়ক রাহুলও। ১৬ রান করে মুস্তাফিজের বলে আউট হন তিনি। পাওয়ার প্লে চলায় মার্কোস স্টোইনিসকে তিন নম্বরে ব্যাট করতে পাঠানো হয়। সিদ্ধান্ত কাজে লাগে। শুরু থেকেই বড় শট খেলছিলেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা। কিন্তু চার নম্বরে নেমে ধীরে ব্যাটিং করছিলেন দেবদত্ত পাড়িক্কল। কিন্তু দলের রানের গতি কমতে দেননি স্টোইনিস। ২৮ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। ১৯ বলে ১৩ রান করে আউট হন দেবদত্ত। তিনি ফিরতে শাপে বর হয় লখনউয়ের। পাঁচ নম্বরে নেমে চালিয়ে খেলতে থাকেন নিকোলাস পুরান। শেষ ছয় ওভারে লখনউয়ের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৮৭ রান। প্রথম দুই ওভারে ওঠে ৩৩ রান। শেষ চার ওভারে দরকার ছিল ৫৪ রান। তখন বড় ধাক্কা খায় লখনউ। পাথিরানাকে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন নিকোলাস পুরান। তিনি করেন ৩৪ রান।

পুরান ফিরতে দলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন স্টোইনিস। মাত্র ৫৬ বলে আইপিএলে নিজের প্রথম শতরান  করেন তিনি। শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য ৩২ রান দরকার ছিল লখনউয়ের। ১৯ তম ওভারে ওঠে ১৫ রান। তখন স্টোইনিসের সঙ্গে হাত খোলেন দীপক হুডাও। শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ১৭ রান। মু্স্তাফিজের শেষ ওভারের প্রথম তিন বলে সেই রান তুলে নেন স্টোইনিস। শেষ পর্যন্ত ৬৩ বলে ১২৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ১৩ টি চার ও ৬ টি ছয় আসে অস্ট্রেলিয়ান তারকার ব্যাট থেকে। ম্যাচের সেরাও নির্বাচিত হন তিনি।

About Post Author