সানী রায়, সসময় কলকাতা, ৮ মে: ২৫ শে বৈশাখ বাঙালির কাছে আবেগের। এই দিনটি সর্বকালের অন্যতম সেরা বাঙালি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। কিন্তু সাহিত্য প্রেমী মানুষের কাছে এই দিনটি শূন্যতারও। কারণ গত বছর এই দিনেই সকলকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার। আজ তাঁর মৃত্যুর প্রথম বর্ষপূর্তি। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে অভিনব উদ্যোগ নিলেন করলেন সমরেশ অনুরাগীরা। প্রয়াত সাহিত্যিকের জন্মভিটায় বৃক্ষরোপণ করলেন তারা।

‘সমরেশ মজুমদার’ ও ‘উত্তরবঙ্গের প্রকৃতি’ শব্দ দুটি অনেকটা সমার্থক। তাঁর লেখা একাধিক সাহিত্যে বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে উত্তরবঙ্গের সৌন্দর্য্য। এই সৌন্দর্য্য প্রাকৃতিক। প্রিয় সাহিত্যিকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার জন্মভিটেতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্যোগ নেয় সমরেশ মেমোরিয়াল সোসাইটির সদস্যরা। তাদের সঙ্গে ছিলেন গয়েরকাটা নাগরিক উন্নয়ন মঞ্চ ও গয়েরকাটার সাধারণ বাসিন্দারা।
এই গয়েরকাটা চা বাগানের কোয়াটারে জন্ম হয়েছিল সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের। তার ছবিতে মাল্য ও পুষ্পদান করেন তারা। পাশাপাশি কোয়ার্টারের পাশে প্রয়াত সাহিত্যিকের ছোটবেলার খেলার মাঠে বকুল গাছও রোপন করেন। এই বকুল ফুল যে অনিমেষ মাধবীলতার স্রষ্ঠার প্রিয় ছিল তার উদাহরণ বিভিন্ন প্রবন্ধে পাওয়া যায়। জানা গিয়েছে, তিনি জীবিত থাকাকালীন তার ইচ্ছেতেও তার জন্মভিটেতে চাপা গাছ রোপন করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: Mohun Bagan: পাখির চোখ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, মোহনবাগানে যোগ দিতে পারেন আরও এক বিশ্বকাপার, কে তিনি?
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সমরেশ মজুমদার ডুয়ার্সের একটি চা বাগান থেকে উঠে এসে সারা পশ্চিমবঙ্গ সহ বাংলাদেশে সাহিত্য প্রেমীদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত সাহিত্যিক এখানেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেছিলেন। সমরেশ মজুমদার মেমোরিয়াল সোসাইটির সদস্য কানাইলাল চট্টোপাধ্যায়, কৃষন কুমার দাসরা উপস্থিত ছিল। তারা জানান, “সমরেশ বাবুর বকুল গাছ খুব প্রিয় ছিল। উনি জীবিত থাকাকালীন তার ছোট বেলার খেলার মাঠে বকুল গাছ লাগানোর কথা বলেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে তিনি গত বছর মারা য়ান। তাই তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি গাছ আমরা আজ রোপন করি।”


More Stories
রবীন্দ্রনাথের পরলোক চেতনা ও প্রেতচৰ্চা
অভিনেতাদের কাছে সেরা-টুকু নেওয়ার মাস্টার আর্ট ছিল সত্যজিৎ রায়ের জানা
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস