Home » ডাইনি সন্দেহে মারধর, ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুবলে তুলে নেওয়া হল শরীরের মাংস

ডাইনি সন্দেহে মারধর, ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুবলে তুলে নেওয়া হল শরীরের মাংস

সানী রায়, সময় কলকাতা, ২ জুলাই :ট্র্যাডিশন সমানে চলছে। কয়েকশো বছর যে কুসংস্কার মানুষের মধ্যে ছিল, দু বছর আগেও তা ছিল, একমাস আগেই তেমনটাই ছিল। আজও আছে, বিন্দু মাত্র পাল্টায়নি ডাইনি নিদান দেওয়া, ডাইনি সন্দেহে অত্যাচার এবং ডাইনি সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলা। মূলত আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলিতেই এরকম ঘটে আসছে। ২০২২ সালের জুলাই মাসে মালদার গাজল এলাকার ইন্দ্রসোহেলে গ্রামের বহু মানুষ জ্বর, কাশির প্রকোপে পড়েন। মারাও যান কয়েকজন। এরপরে গ্রামের মোড়ল ওঝা বা তান্ত্রিকের পরামর্শে গ্রামের ১৫ জন মহিলাকে ডাইনি হিসেবে চিহ্নিত করে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেন। প্রতিবাদ করতেই জোটে মারধর। মালদারি ভাবুক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূল নেত্রী বারবার অসুস্থ হলে তান্ত্রিকের শরণাপন্ন হয়। তাঁকে বলা হয় গ্রামেরই এক মহিলা ডাইনি। তারজন্যই সুস্থ হতে পারছেন না তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যা। এরপরেই ওঝার চিহ্নিত করে দেওয়া মহিলাকে অর্ধনগ্ন করে বেদম মার দেওয়া হয়। আদি ও মধ্যযুগে ডাইনি সন্দেহে যেভাবে বর্বর এবং নৃশংসভাবে মারধর করা হত, সেই কুসংস্কার আজও রয়ে গিয়েছে ভারত ও বঙ্গ জুড়ে।

অধিকাংশ সময়ই ডাইনি বা ডাইন সন্দেহে চরম অত্যাচার চালানো হয় প্রধানত মহিলাদের উপরে। এবার উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়ায় সামনে এসেছে এরকমই এক বর্বর ঘটনা। পেটকির জজটোলায় ডাইনি সন্দেহে এক মহিলাকে অমানবিক অত্যাচার চালানো হল যেখানে দীর্ঘ সময় অত্যাচার চলে। মারধর করা হয়, বিভিন্ন জায়গায় গরম ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। চা গাছ কাটার ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের মাংস কেটে তুলে আনা হয়েছে।

ফাঁসিদেওয়ার গৃহবধূ বাচামণি টুডুর স্বামী সম্প্রতি মারা যান। শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান মিটতে না মিটতেই ৪৬ বছর বয়সী বাচামনি টুডুর উপরে অত্যাচার শুরু হয়। স্বামীর মৃত্যুর পরে জল না খেয়ে মদ্যপান যে স্ত্রী তিনদিন কাটাতে পারে, সে তো ডাইনি চাড়া কিছুই নয়, এমন নিদান দেওয়া হয়। চলে ভয়ঙ্কর অত্যাচার। শরীরের মাংস তুলে নেওয়ার পরে মহিলা কার্যত সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। তাকে গাড়িতে করে তুলে ভাইয়ের বাড়িতে দিয়ে আসেন। মহিলা মদ্যপ অবস্থায় রয়েছে তাই বলেন স্বামীর পরিবারের লোকেরা ভাইয়ের কাছে দিয়ে গিয়েছে বলে জানানো হয়। টানা দুদিন ধরে জ্ঞান না ফেরায়, টনক নড়ে। মহিলার শরীর দেখে চমকে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা। শরীরে ছুরি দিয়ে অজস্র আঘাতের চিহ্ন দেখেই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয় জখম মহিলাকে। গোটা ঘটনায় মহিলার ভাই ফাঁসিদেওয়া থানায় লিখিত অভিযোগে দায়ের করেন। অভিযোগ এর আগেও মহিলাকে ডাইনি অপবাদে মারধর করা হয়েছিল। এবার ভয়ঙ্কর অভিযোগ ওঠার পরেও মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন মহিলার ভাসুর মঙ্গল সোরেন। তবে পুলিশ দেরিতে হলেও পদক্ষেপ নিয়েছে।

ঘটনাটি সামনে আসতেই কুসংস্কার ও বর্বর প্রথার বিরুদ্ধে শোরগোল পড়েছে। একদিকে মহিলাকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চলছে। বেধড়ক মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে গায়ের মাংস তুলে নেওয়ার পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ। পুলিশ মঙ্গলবার তিন জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত হিরা মতি মুর্মু , বাচ্চা সোরেন, রানী সোরেনকে গ্রেফতার করে শিলিগুড়ি মহাকুমা আদালতে পাঠানো হয়। এই ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত অন্য দুজন অভিযুক্ত পলাতক। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কে কে জড়িত রয়েছে তার তদন্ত শুরু করেছে ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ। তবে বিহার বা ঝাড়খণ্ডের মত বঙ্গে ডাইনি প্রথার বিরুদ্ধে কোনও সুনির্দিষ্ট  আইন নেই , ডাইনি প্রথার বিরুদ্ধে  কেন্দ্রীয় আইন নেই। সম্পত্তি ও অর্থের লোভে যুগ যুগ ধরে কায়েম  আদি যুগের বর্বর কুসংস্কার ডাইনি প্রথা যার ফলশ্রুতি বাচামণি টুডুর মত মহিলাদের উপরে নি নৃশংস অত্যাচার ।

About Post Author