সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৬ জুলাই: রাজ্যপালের করা মানহানির মামলায় এবার বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। রাজ্যপাল সম্পর্কে যে কোনও মন্তব্য করতে পারবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ চার তৃণমূল নেতা। এমনই নির্দেশ দিলেন বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। এর আগে রাজ্যপালের করা মানহানির মামলায় বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্দেশ দিয়েছিলেন, আগামী ১৪ অগস্ট পর্যন্ত রাজ্যপালের বিরুদ্ধে কোনও সম্মানহানিকর মন্তব্য করতে পারবেন না মুখ্যমন্ত্রী সহ মোট চারজন তৃণমূল নেতা। এই মর্মে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেন তিনি।
আরও পড়ুন অভিষেককে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবারই দিল্লি যাচ্ছেন মমতা, যোগ দেবেন নীতি আয়োগের বৈঠকে
বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘ যদি অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দেওয়া হয়, তাহলে মামলাকারীর বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করতে ফ্রি হ্যান্ড দেওয়া হবে। এর ফলে মামলাকারীর মর্যাদাহানি ঘটবে। সেকথা মাথায় রেখেই আগামী ১৪ অগস্ট পর্যন্ত মামলাকারীর বিরুদ্ধে কোনওরকম মানহানিকর মন্তব্য করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়, বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক রেয়াত হোসেন ও তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। আবেদনে বক্তব্য ছিল, এই নির্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মানহানির মামলা দায়ের করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। কিন্তু,ওই মামলা আদালতে উঠলে পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে আবেদন প্রত্যাহার করে পুনরায় ফাইল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। জানা গিয়েছে, এই মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও রয়েছে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের নামও। রাজ্যপালের আইনজীবী জানিয়েছেন, ‘সংবাদমাধ্যমে যা লেখা হয়েছে সেটা ওই ব্যক্তি নিজেই বলেছেন।’ এরপরই বিচারপতি রাও প্রশ্ন করেন, ‘সংবাদপত্রকে পার্টি করা হয়নি?’ এ কথা শুনে আইনজীবী পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘এখানে কি সেটা প্রয়োজনীয়?’ বিচারপতির নির্দেশে সব সংবাদমাধ্যমকে মামলায় যুক্ত করা হবে। কুণাল ঘোষ ছাড়া তৃণমূল দুই জয়ী প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও রায়াত হোসেনকেও এই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। আগামীদিনে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে এঁরা যাতে মন্তব্য না করেন সেই আর্জি জানিয়েছেন সিভি আনন্দ বোসের আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী। রাজ্যপালের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে সেই পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে রাজ্যপালের ওএসডি-সহ তিন জনকে ১৬০তে নোটিশ দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। বিচারপতি জানান, “মামলা প্রত্যাহার করে পুনরায় ফাইল করুন। না হলে পদ্ধতিগত ত্রুটি থেকে যাছে।”
#Latestbengalinews
#CalcuttaHighCourt
#Governor’sdefamationcase


More Stories
স্বরূপ বিশ্বাসের বাড়িতে পুলিশ, সঙ্গে কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
বঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার গঠন