সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৫ সেপ্টেম্বর: ইন্টারনেটের যুগে দাঁড়িয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ যেন এক প্রথা হয়ে উঠেছে। এক সময় বিবাহের সমার্থক ছিল সাত জন্মের বন্ধন। তবে এখন সামান্য মতবিরোধের সূত্র ধরেও আলাদা হতে দেখা যায় দম্পতিদের। যদিও এতদিন এই প্রবণতা তারকাদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও এখন সেই হওয়া ঢুকে পড়েছে সাধারণ ঘরেও। এবার ৭৫ বছরের এক বৃদ্ধা বিবাহ বিচ্ছেদ ও খোরপোশের দাবি করল ৮০ বছরের স্বামীর বিরুদ্ধে। পাল্টা দিতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ স্বামীও। জানা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় দীর্ঘ ছ’বছর ধরে আলাদা থাকেন তাঁরা। এই বয়সে এসে স্ত্রীর এমন দাবি মানতে নারাজ বৃদ্ধ স্বামী। কার্যত এবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন দম্পতি। শুনানিতে বিস্ময় লুকাতে পারলেন না স্বয়ং বিচারপতিও। বলে উঠলেন “এ যেন ঘোর কলিযুগের শুরু।”

আরও পড়ুন: জম্মু-কাশ্মীরে চলছে দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ, তিনটি জেলা রয়েছে বিশেষ নজরবন্দিতে
বিগত ছ’বছর ধরে সম্পত্তি নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল বৃদ্ধ দম্পতির। এবার ৮০ বছর বয়সে এসে স্ত্রীকে খোরপোশ দেওয়া অসম্ভব জানিয়ে এলাহাবাদ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মুনেশকুমার গুপ্ত। মুনেশ সরকারি চাকরি করতেন। অবসরের পর ২০১৮ সাল থেকে স্ত্রীর সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে তীব্র বিবাদ শুরু হয় তাঁর। প্রথমে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন মুনেশের স্ত্রী। তবে পুলিশের থেকে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় তিনি মামলা করেন পরিবার আদালতে। শেষ ছ’বছর ধরে সম্পত্তি নিয়ে ঝগড়াঝাটি চলায় স্বামীর সঙ্গে আর এক ছাদের নিচে থাকেন না বৃদ্ধা। তবে শুধু আলাদা থেকেই অশান্তির নিষ্পত্তি হয়নি। বিবাদ এবার গড়িয়েছে উচ্চ আদালতের কাঠগড়ায়।
আরও পড়ুন: তিলোত্তমা কাণ্ডে ফের আইনজীবী বদল! নির্যাতিতার বাবা-মায়ের নতুন আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার
প্রথমে পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়ে বৃদ্ধা দাবি করেছিলেন, তাঁর স্বামী প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা পেনশন পান। খোরপোশে বাবদ তার মধ্যে থেকে তাঁকে ভাগ দিতে হবে। যার পরিমান ১৫ হাজার টাকা বলেছিলেন ৭৫ বছরের বৃদ্ধা। তবে আদালত তাঁর এই দাবি আংশিক পূর্ণ করার প্রতিশ্রুতি দেয়। বিচাপতির নির্দেশ অনুযায়ী স্ত্রীর দেখভালের জন্য মাসে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে মুনেশকে। কিন্তু পরিবার আদালতের এই রায় মানতে রাজি হননি বৃদ্ধ। তিনি পাল্টা মামলা করেন এলাহাবাদ হাই কোর্টে। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি চিন্তায় ফেলে দিয়েছে বিচারপতি সৌরভশ্যাম শামশেরিকেও। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলে ফেলেন, ‘‘এ তো ঘোর কলি। এমন আইনি লড়াই সত্যিই চিন্তার।’’ আপাতত হাই কোর্ট ওই বৃদ্ধাকে একটি নোটিস পাঠিয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানির নতুন তারিখ দিয়েছে উচ্চ আদালত।


More Stories
১৫ আগস্ট ইনডিপেনডেন্স ডে নয়, অর্থ গুলিয়ে ফেলে নতুন সংজ্ঞা শান্তনু ঠাকুরের
নেতাজি ইস্যু : অনন্ত মহারাজকে উন্মাদ আখ্যা দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত!
প্রাকৃতিক বিপর্যয় : লাইফলাইন এনএইচ ৭১৭