Home » বিলকিস বানোর ধর্ষকদের ফের জেলে পাঠানোর আর্জি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

বিলকিস বানোর ধর্ষকদের ফের জেলে পাঠানোর আর্জি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৭ সেপ্টেম্বরঃ বিলকিস বানো মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা গুজরাট সরকারের। বিলকিস বানোর ধর্ষকদের মুক্তি দিয়েছিল গুজরাট সরকার। এই নিয়ে উঠেছিল বিতর্ক-সমালোচনার ঝড়। চলতি বছর জানুয়ারি মাসে বিলকিস বানোর ধর্ষকদের ফের জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সেই সিদ্ধান্তই পুনর্বিবেচনার জন্য গুজরাট সরকার ফের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। বুধবার গুজরাট সরকারের এই আর্জি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এদিন মামলাটি ওঠে বিচারপতি বি ভি নাগরত্ন এবং উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চে। সর্বোচ্চ আদালতের দাবি, ‘রিভিউ পিটিশন খুব ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ডে কোনও ত্রুটি নেই। ফলে এই রিভিউ পিটিশনের কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই যা আদালতকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলবে।’

আরও পড়ুন   Tiljala: “এ ঘটনা বিরল থেকে বিরলতম”, তিলজলায় শিশু ধর্ষণ-খুন মামলায় দোষীকে ফাঁসির সাজা শোনাল আলিপুর আদালত

চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট গুজরাট সরকারের অপরাধীদের মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয় এবং অপরাধীদের ফের জেলে ফিরতে নির্দেশ দেয়। শীর্ষ আদালতের তরফে গুজরাট সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র ভর্ৎসনা করা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের সেই রায় মেনেই গত ২১ জানুয়ারি, গোধরা জেলে আত্মসমর্পণ করে তারা। এই ১১ জন হলেন যশবন্ত নাই, মীতেশ ভাট, প্রদীপ মোরধিয়া, কেশরভই ভোহানিয়া, গোবিন্দ নাই, রাধেশ্যাম শাহ, রাজুভাই সোনি,বাকাভাই ভোহানিয়া, বিপিন চন্দ্র জোশী, রমেশ চন্দনা ও শৈলেশ ভাট।

প্রসঙ্গত, ২০০২ সালে গোধরা দাঙ্গা পরবর্তী সময়ে গণধর্ষিত হয়েছিলেন ২১ বছর বয়সী বিলকিস বানো। সেই সময়ে ৫ মাসের গর্ভবতী ছিলেন তিনি। তাঁর চোখের সামনেই ৩ বছরের সন্তান এবং পরিবারের ৭ জনকে খুন করে ধর্ষকরা। এরপর বিলকিস বানো গণধর্ষণ মামলায় ১১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। কিন্তু, ১১ জন দোষীকে ২০২২ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তি দিয়েছিল গুজরাট সরকার। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নির্যাতিতা। এরপর গত ৮ জানুয়ারি বিলকিস বানো মামলার রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের তরফে দোষী ১১ জনকে ২১ জানুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। সম্প্রতিই তিনজন দোষী অসুস্থতা, পরিবারে বিয়ে ও কৃষিকাজের কারণ দেখিয়ে আত্মসমর্পণের জন্য আরও কয়েকদিন সময় চেয়ে শীর্ষ আদালতে আবেদন জানিয়েছিল। শুক্রবার সেই আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুয়ানের বেঞ্চ। এরপরই ২১ জানুয়ারি আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় ১১ জন দোষী।

About Post Author