Home » কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবরেটরিতে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ সুদীপ্ত রায়ের বিরুদ্ধে, অধ্যক্ষকে চিঠি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবরেটরিতে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ সুদীপ্ত রায়ের বিরুদ্ধে, অধ্যক্ষকে চিঠি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৯ সেপ্টেম্বরঃ আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে ইতিমধ্যেই তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমেছে ইডি। আরজিকর হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে আগেই নাম উঠে এসেছে তৃণমূল বিধায়ক তথা রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান সুদীপ্ত রায়ের। এবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবরেটরিতেও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠল সুদীপ্ত রায়ের বিরুদ্ধে। হাসপাতালের বেড বিক্রি থেকে শুরু করে একাধিক ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তৃণমূল বিধায়কের নামে। জানা গিয়েছে, সুদীপ্ত একা নন, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবরেটরিতে আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজের প্যাথলজিস্ট জয়ন্ত সেনও প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন। শনিবার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষকে স্মারকলিপি জমা দিয়ে সুদীপ্ত ও জয়ন্তের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন পড়ুয়াদের সংগঠন। সংগঠনের অভিযোগ, সুদীপ্ত রায়ের নির্দেশেই শুধুমাত্র টাকার বিনিময়ে হাসপাতালের বেড থেকে শুরু করে হাসপাতালের ল্যাবরেটরির কিট অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে। এমনকী মোটা টাকার বিনিময়েই বেড দেওয়া হত হাসপাতালের রোগীদের। এ বিষয়ে বারবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা মেলেনি বলেই জানিয়েছেন পড়ুয়াদের সংগঠন।

আরও পড়ুন   ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপাল, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১২, জারি উদ্ধারকাজ

প্রসঙ্গত, আরজিকর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পরই হাসপাতালের একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। আরজিকর হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে আরজিকর হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমেছে ইডি-সিবিআই। হাইকোর্টের নির্দেশের পরেই আরজিকরে দুর্নীতির তদন্তে এফআইআর করে সিবিআই। জোরকদমে শুরু হয়ে যায় তল্লাশি। সেই সূত্রেই আদালতের নির্দেশে শহরজুড়ে অভিযানে নেমেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। অভিযোগ, স্বাস্থ্যভবন ও কলেজ কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়াই ফুড স্টল, কাফে, ক্যান্টিন, সুলভ কমপ্লেক্স তৈরির জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়। তিনজন বিশেষ ব্যবসায়ীই এই প্রত্যেকটি ‘বেআইনি’ টেন্ডার পান। তাঁদের একেকজনকে কয়েক কোটি টাকার বরাত দেওয়া হয়।

ফিনান্স ও অ্যাকাউন্ট অফিসারদের কিছু না জানিয়েই এই বরাতগুলি দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ ও অন্যান্য কাজ করানো হয় পূর্ত দফতরকে না জানিয়েই। ডাক্তারি শিক্ষার তহবিল নয়ছয়ের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ, পুরসভার বদলে হাসপাতালের কর্তারা পার্কিং থেকে টাকা আদায় করে তা সরিয়ে দেন। চুক্তির ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি হয়েছে। এক স্বাস্থ্যকর্তার বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে চাহিদামতো রদবদলেরও অভিযোগ উঠেছে। বিক্রেতাদের কাছ থেকেও কুড়ি শতাংশ টাকা তোলা হত বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকী, ভেন্ডারদের সাহায্যে এক স্বাস্থ্যকর্তার বাগানবাড়ি সাজানো হত। তা না করলে তাঁরা হুমকির মুখে পড়তেন এমনও অভিযোগ উঠে এসেছে। একদিন অন্তর হাসপাতালের ব্যবহার হয়ে যাওয়া সিরিঞ্জ, স্যালাইনের বোতল, রবার গ্লাভস, হ্যান্ড গ্লাভস মিলিয়ে কয়েকশো বর্জ্য বের হতো। তাতেও নাকি দুর্নীতি করতেন সন্দীপ। একটা ব়্যাকেট বানিয়ে ফেলেছিলেন, তাতে যুক্ত ছিলেন দু’জন বাংলাদেশিও। আর এসব কিছুর পেছনেই সুদীপ্ত রায়ের হাত ছিল বলেই জানতে পেরেছে তদন্তকারীরা।

#MedicalCollegeKolkata  #RGkarHospital #RGKARDoctorDeath #Latestbengalinews   #RGKarHospitalfinancialcorruptioncase  #SrirampurTrinamoolMLASudiptaRoy  #ED 

About Post Author