আন্তর্জাতিক ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১ অক্টোবরঃ চলতি মাসেই ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছে হেজবোল্লা প্রধান হাসান নাসরাল্লা। একই জায়গায় ৮৫ টি এক টনের বোমা নিক্ষেপ করে মাটির ৬ ফুট নিচে বাঙ্কারে থাকা হেজবোল্লা প্রধানকে নিকেশ করেছে ইজরায়েলি সেনা। তারপরেও থামেনি ইজরায়েলি আক্রমণ। এবার তাদের লক্ষ্য লেবাননের হেজবোল্লা জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা।

প্যালেস্টাইন, গাজা, সিরিয়া আক্রমণের পর এবার ইজরায়েলের লক্ষ্য লেবানন ও ইয়েমেন। চলতি মাসের গত শনিবার ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সের লাগাতার আক্রমণে প্রাণ হারায় হেজবোল্লা প্রধান হাসান নাসরাল্লা। লেবাননের রাজধানী বেইরুটের গোপন ডেরায় মাটির নিচে থাকা বাঙ্কারে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি । গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ৮৫ টি ১ টনের বোমা হেজবোল্লার সদর দপ্তরে নিক্ষেপ করে ইজরায়েলি সেনা। বাঙ্কার সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ায় প্রাণ হারায় নাসরাল্লা। প্রায় ৩১ বছর ধরে নাসরাল্লা হেজবোল্লার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর পর হেজবোল্লার প্রধান হয়েছেন হাশেম সফিউদ্দিন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হেজবোল্লার সদস্যদের একত্রিত করার মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। আর অন্যদিকে হেজবোল্লাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার জন্য বদ্ধপরিকর ইজরাইল সেনা। ফলে লেবাননে থাকা হেজবোল্লার জঙ্গি খাঁটিগুলিকে নিকেশ করার উদ্দেশ্যে লাগাতার বিমান আক্রমণ সঙ্গে নর্দান অ্যারোস নামে পদাতিক বাহিনীকে স্থলভাগ আক্রমণে পাঠিয়েছে ইজরায়েল।
মূলত, লেবাননের উত্তর-পূর্বে সিরিয়া, দক্ষিণে রয়েছে ইজরায়েল, পশ্চিমে রয়েছে মেডিটেরিয়ান সাগর। ফলে ইসরায়েলের উত্তরে থাকা লেবাননের সীমান্তবর্তী গ্রামে যে সকল হেজবোল্লার জঙ্গি ঘাঁটি তৈরি হয়েছিল সবই প্রায় ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়েছে ইজরায়েল। সোমবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে আক্রমণ মঙ্গলবার ভোরেও লাগাতার বায়ুসেনা এবং স্থল সেনা ঢুকে পড়েছে লেবাননের বিভিন্ন অংশে। আকাশ থেকে আক্রমণ এবং স্থলভাগের আক্রমণের ফলে এখনোও পর্যন্ত লেবাননের ১০৫ জন মারা গিয়েছে বলে সরকারি সূত্রের খবর। সোমবার হেজবোল্লা তরফ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল লেবানন যদি আক্রান্ত হয় সেক্ষেত্রে পাল্টা ইজরাইলকে আক্রমণ করবে হেজবোল্লা। হেজবোল্লার এই হুঁশিয়ারির পরেই লেবানন সীমান্তে সামরিক সরঞ্জাম এবং সেনার সংখ্যা ক্রমশ বাড়িয়ে চলছে ইজরায়েল। ইজরায়েল সূত্রের খবর আক্রমণ কোনওমতেই বন্ধ করা হবে না।
আরও পড়ুনঃ মাওবাদী সংযোগের অভিযোগ তুলে পানিহাটি-আসানসোলে তল্লাশি পুলিশের, সঙ্গে এনআইএ
অপরদিকে, পাল্টা আক্রমণ করছে হেজবোল্লাও । ইজরায়েলের উত্তর পূর্বে অবস্থিত তিবেরিয়াস অঞ্চলে সোমবার সন্ধ্যা থেকেই লাগাতার রকেট এবং ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হেজবোল্লা জঙ্গিরা। অপরদিকে আক্রান্ত হয়েছে যেমন লেবানন তেমনই ইয়েমেনু হামলা চালিয়েছে নেতানিয়াহুর সেনাবাহিনী। লেবাননে যেমন হেজবোল্লা জঙ্গিগোষ্ঠী সক্রিয়, তেমনি ইয়েমেনে সক্রিয় সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠী হুতি। ইজরাইলি অগ্রাসনকে রুখতে ইতিমধ্যেই আয়াতুল্লা খোইমেনী সমস্ত ইসলামিক দেশকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। যদিও হেজবোল্লার বিরুদ্ধে বরাবরই অবস্থান নিয়ে চলেছে আরব আমির শাহী। ফলে ইরান এবং গুটি কয়েকটি ইসলামিক দেশ ছাড়া বাকি দেশ গুলি নিরব থাকাই শ্রেয় মনে করছে। এই অবস্থায় ইসরাইলের লেবানন এবং ইয়েমেনের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে জঙ্গি ঘাঁটি নিকেশ করা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে। এখন দেখার হেজবোল্লার প্রধান হাসান নাসরাল্লার মৃত্যুর পর নতুন হেজবোল্লা প্রধান সইফুউদ্দিন কি পদক্ষেপ নেয়?


More Stories
বিপাকে প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইঞা!
আগের সরকারের সবকিছুতেই ফুলস্টপ নয়, বললেন শিক্ষামন্ত্রী
আইনি জটিলতা কাটাতে এনসিপিআই-এ মিশে গেলেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা