সানী রায়, সময় কলকাতা, ১৮ অক্টোবর: এ যেন উলটপুরাণ। যে হাসপাতাল এবং তার স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে ধূপগুড়ি বাসীর অভিযোগের অন্ত ছিল না, আজ তাকে ঘিরেই প্রশংসার জোয়ার শহরজুড়ে । সামান্য কিছু হলেই যেখানে রেফার করাটা ছিল রেওয়াজ সেখানে টানা তিন ঘণ্টার জোমে-ডাক্তারে লড়াইয়ে প্রাণ ফেরাল বছর বারোর এক নাবালকের। পুরো ঘটনার সূত্রধারের কাজ করলেন নবনিযুক্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অ্যানাস্থেটিস্ট প্রশান্ত মণ্ডল। মহকুমা হাসপাতালের ব্যানার লাগানো হলেও কার্যত কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ছাড়া এখনও পরিকাঠামো বলতে কিছুই নেই সেভাবে। সেই বিশাল প্রতিবন্ধকতাকে সরিয়ে অনেকটা সিনেমার ঢঙে জোমের সঙ্গে লড়াই করে নাবালকের প্রাণ ফেরালেন ডাঃ মণ্ডল ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

ধূপগুড়ি পৌর শহরের শহরের বিবেকানন্দপাড়া এলাকার বাসিন্দা ওই নাবালক, রবিবার রাত থেকেই জ্বরে আক্রান্ত ছিল। এদিন সন্ধ্যায় সে কফি এবং পপকর্ন খায়৷ এরপর তার বমি শুরু হয়। কিছুক্ষণ পরে শৌচালয়ে গেলে তার শরীর খারাপ হতে শুরু করে এবং কোনওমতে ঘরে ফিরেই সে জ্ঞান হারায়। সেই সঙ্গে চরম খিঁচুনি ওঠে কিশোরের। অজ্ঞান অবস্থায় তাকে রাত সাড়ে আটটা নাগাদ নিয়ে যাওয়া হয় ধূপগুড়ি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেই সময় ডিউটিতে ছিলেন অ্যানাস্থেটিস্ট ডাঃ মণ্ডল। চরম সংকটে থাকা নাবালককে রেফার করেও ছাড়তে চাননি তিনি। শুরু হয় মৃত্যুর সঙ্গে এক অসম লড়াই। অ্যাম্বু ব্যাগ লাগিয়ে কৃত্রিমভাবে শ্বাস দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় খিঁচুনি আটকে স্বাভাবিক করার লড়াই। নাবালকের পরিবারের তরফে ততক্ষণে জলপাইগুড়ি থেকে আইসিইউ অ্যাম্বুল্যান্স আনার তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছিল। এদিকে কিশোরের হৃৎস্পন্দন, নাড়ির গতি এবং শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা নেমে গেছে পঞ্চাশের নীচে৷ চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘চোক’ বা ‘অ্যারেস্ট’ হওয়ার পর্যায়ে প্রায় মৃত্যু ছুঁয়ে ফেলেছিল একরত্তি ছেলেটাকে। হাল ছাড়েননি তরুণ অ্যানাস্থেটিস্ট এবং তাঁর সহযোগীরা। অবশেষে রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ খিঁচুনি থেমে যায় কিশোরের। চল্লিশ ছুঁইছুঁই হৃৎস্পন্দন বেড়ে ৯৫ দাঁড়ায়, সঙ্গে নাড়ির গতি এবং অক্সিজেনের জোগানও বাড়ে শরীরে। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় বিশেষ অ্যাম্বুল্যান্স। অবশেষে রাত ১২টা নাগাদ বিশেষ লাইফ সাপোর্ট দিয়ে তাকে শিলিগুড়ি পাঠানো হয়। রাত দুটো নাগাদ শিলিগুড়ি প্রধাননগরের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গায়ে হালকা জ্বর থাকলেও আপাতত একদম স্বাভাবিক রয়েছে কিশোর।

চিত্র: ধুপগুড়ি মহকুমা হাসপাতাল
আরও পড়ুন: ইএসআই হাসপাতালে আগুন: এক রোগীর মৃত্যু, কী বললেন হাসপাতাল সুপার?
বিপদমুক্ত হওয়ার পর ডাক্তারের নির্দেশে সকলের সঙ্গে কথাও বলছে সে। কিশোরের মা পেশায় স্বাস্থ্যকর্মী রূপা আইচ জানায়, “ওই তিন ঘণ্টা ছিল আমাদের জীবনের সবথেকে বড় দুঃস্বপ্ন। ডাঃ মণ্ডল দেবদূতের মতো আমার একমাত্র সন্তানকে ফিরিয়েছেন।” এবিষয়ে ডঃ মণ্ডলের বক্তব্য, “অবস্থাটা সত্যিই সংকটজনক ছিল। প্রয়োজনীয় কিছু ইনজেকশন আশপাশে না মেলায় সমস্যা চরমে ওঠে। হাসপাতালের এক কর্মী ইনজেকশন জোটাতে ছোটেন ধুপগুড়ি থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে বিন্নাগুড়ি৷ টানা ঘণ্টা তিনেকের দলগত লড়াইয়ের জেরে শেষ পর্যন্ত নাবালককে বাঁচানো গিয়েছে এটাই আনন্দের।” অসুস্থ নাবালকের চিকিৎসার সময় কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, কিশোরের জীবন চরম বিপদে বুঝে নিজের ব্যাগে থাকা একাধিক ওষুধ নানাভাবে প্রয়োগ করেন অ্যানাস্থেটিস্ট ডাঃ মণ্ডল। দাঁতে দাঁত চাপা সেই লড়াই স্বাস্থ্যকর্মীদেরও কুর্নিশ আদায় করেছে।
You May Also Like: गर्भावस्था में ये गलतियाँ ना करें: एक सम्पूर्ण गाइड


More Stories
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের
প্রাক্তন বিধায়ক রফিকুরের ভাই আনিস গ্রেফতার
তৃণমূলের শ্বাসকষ্টের আরেক শিকার অভিষেক ঘনিষ্ঠ শুভ্রকান্তির পদত্যাগ