স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ২৩ অক্টোবরঃ ইন্ডিয়ান সুপার লিগে ব্যর্থতার রেশ যেন কাটছেই না ইস্টবেঙ্গলের। গত শনিবার কলকাতা ডার্বিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানের কাছে হারতে হয়েছিল। মঙ্গলবার ওড়িশা এফসির কাছে ১-২ গোলে পরাজিত হল কলকাতার অন্যতম প্রধান ক্লাব। ফলে, এখনও পর্যন্ত ছয় ম্যাচ খেলেও চলতি লিগে পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি লাল-হলুদ ব্রিগেড।

ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে মরশুমের মাঝপথে কোচ বদল করেছে ইস্টবেঙ্গল। বারো বছর পর দলকে জাতীয়স্তরের ট্রফি জেতানো কুয়াদ্রাতর বদলে দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে অস্কার ব্রুজোর কাঁধে। দীর্ঘ বিমান যাত্রার ধকল কাটিয়ে ডার্বির দিন ডাগআউটে ছিলেন তিনি। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে ম্যাচটি দিয়েই ভারতীয় ফুটবলে নতুন ইনিংস শুরু করলেন অস্কার। কিন্তু কোচ বদল হলেও, জয়ের সরণীতে ফেরা হল না ইস্টবেঙ্গলের। ডার্বিতে হারের পর ওড়িশার বিরুদ্ধে জিততে মরিয়া ছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। মঙ্গলবার কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে দলের ফুটবলারদের শরীরীভাষায় তা স্পষ্ট ছিল। ম্যাচ শুরুর দশ মিনিটের মধ্যে প্রায় চারটি গোলের সুযোগ তৈরি করে ফেলেছিল ইস্টবেঙ্গল। ২ মিনিটের মাথায় সউল ক্রেসপোর গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। প্রায় ফাঁকা গোল পেয়েও বল জালে জড়াতে পারেননি দিমিত্রিয়স ডায়মান্টাকোস। মাদিহ তালালের শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন ওড়িশার গোলরক্ষক অমরিন্দর সিং। ২১ মিনিটে প্রথম ধাক্কা খায় ইস্টবেঙ্গল। রয় কৃষ্ণার গোলে পিছিয়ে পড়ে তারা। ইসাকের বাড়ানোর পাস থেকে গোল করেন মোহনবাগানের প্রাক্তন ফুটবলার। তবে এই ম্যাচে ব্যতিক্রমী ইস্টবেঙ্গলকে দেখা গেল। গোল হজম করলেও হাল ছেড়ে দেয়নি তাঁরা। প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময়ে তালালের শট বক্সের মধ্যে হাতে বল লাগিয়ে ফেলেন থইবা সিং। পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। গোল করতে কোনও ভুল করেননি গ্রীক ফরোয়ার্ড দিমিত্রিয়স।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে চাপ তৈরি করতে থাকে আয়োজকরা। তবে কোনওরকমে তা সামাল দিচ্ছিলেন আনোয়ার-হিজাজী মাহেররা। দলের রক্ষণের দুই স্তম্ভের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাবের ফায়দা তুলতে পারেনি ওড়িশা এফসি। তবে ৬৯ মিনিটের মাথায় পরিকল্পনার অভাবে ফের গোল হজম করে কলকাতার ক্লাব। বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় ওড়িশা। প্রত্যাশামত শট নেন আহমেদ জাহু। তখন বক্সে ওত পেতে রয়েছে তাঁর সতীর্থরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দীর্ঘদেহী মুর্তাদা ফল। ভারতীয় ফুটবলে একাধিকবার রক্ষণ থেকে উঠে গিয়ে গোল করেছেন তিনি। শরীরকে কাজে লাগিয়ে মাথা ছুঁইয়ে বলকে জালে জড়িয়ে দিতে যিনি পারদর্শী, সেই ফুটবলারকে নজরে রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয় রাকিপকে। ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। জাহুর ফ্রিকিকে হেড করে কলিঙ্গ স্টেডিয়াম থেকে ইস্টবেঙ্গলের অন্তত ১ পয়েন্ট পেয়ে মাঠ ছাড়ার আশায় জল ঢেলে দেন সেনেগালের ডিফেন্ডার। ৭৬ মিনিটে লালকার্ড দেখে ইস্টবেঙ্গলের বিপদ আরও বাড়িয়েছেন প্রভাত লাকরা।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার