সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৩ ডিসেম্বর: আরজি করের মহিলা চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের মামলায় জামিন পেলেন সন্দীপ ঘোষ এবং সন্দীপ ঘনিষ্ট টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মণ্ডল। ৯০ দিনের মধ্যেও সিভিআই মামলার চার্জশিট জমা দিতে না পারেনি। কার্যত নিয়ম অনুযায়ী ২ হাজার টাকার বন্ডে শুক্রবার তাঁদের জামিন মঞ্জুর করতে বাধ্য হল শিয়ালদহ আদালত।
গত ৮ আগস্ট, মধ্যরাতে আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুন হয়েছিয়েন কর্মরত মহিলা চিকিৎসক। সকালে সেমিনার হল থেকে উদ্ধার হয়েছিল তাঁর অর্ধনগ্ন দেহ। প্রথমে ঘটনার তদন্তে নামে কলকাতা পুলিশ। ৯ আগস্ট সন্ধেতে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর ধর্ষণ ও খুনের মামলার জল গড়ায় কলকাতা হাই কোর্টে। ইতিমধ্যে দেশ জুড়ে এই নারকীয় ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে পড়ে সাধারণ জনতা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে বুঝে স্বতঃপ্রনদিত কেস করে মামলায় ঢোকে সুপ্রিম কোর্ট। ঘটনার তদন্তভার চলে যায় সিবিআইয়ের হাতে। তদন্তে নামার পর একাধিকবার সন্দীপ ঘোষকে জেরা করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। দিনের পর দিন সন্দীপকে হাজিরা দিতে হয় সিজিও কমপ্লেক্সে। এর পর আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর জি করের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ-খুন এবং আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত জোড়া মামলায় নাম জড়ায় তাঁর। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় টালা থানার তৎকালীন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকেও।
আরও পড়ুন: ডিভোর্সের পর নতুন প্রেম! তবে বিয়ের প্রশ্নে পাকাচ্ছিল জট, ঝঞ্ঝাট এড়াতেই আত্মঘাতী যুগল?
আর জি কর কাণ্ডের যে চার্জশিট শিয়ালদহ আদালতে জমা দিয়েছে সিবিআই, তাতে মূল অভিযুক্ত হিসাবে নাম রয়েছে শুধু সঞ্জয় রায়ের। তবে সন্দীপ ঘোষ সংক্রান্ত মামলার ৯০ দিন পেরিয়ে গেলেও সন্দীপ কিংবা অভিজিৎ ঠিক কী সূত্রে এই মামলায় যুক্ত, সে বিষয়ে চার্জশিটে সিবিআইয়ের তরফে সুস্পষ্টভাবে কিছু উল্লেখ নেই। সে কারণেই শুক্রবার শিয়ালদহ আদালত সন্দীপ ঘোষ এবং অভিজিৎ মণ্ডলকে জামিন দেয়। ২ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পেয়েছেন তাঁরা। আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তে প্রতি মুহূর্তে সাহায্য করতে হবে দুজনকেই। তবে অভয়ার ধর্ষণ ও খুনের মামলায় জামিন পেলেও এখনই জেলমুক্তি হবে না তাঁদের। সিবিআইয়ের হাত থেকে রেহাই ওয়েলেও এখনও ইডির আর্থিক তছরুপির মামলায় অভিযুক্ত সন্দীপ। অন্যদিকে ইডির মালায় নাম না জড়ানোর জেলমুক্তি হবে টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মন্ডলের।
এখন রাজনৈতিক মহলে চাপানউতর শুরু হয়েছে একটি প্রশ্নে, কতটা তৎপরতার সঙ্গে তদন্ত করলেন সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। তদন্তে চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগ তুলে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের ‘অপদার্থ’ বলতে ছাড়েননি।


More Stories
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের ভালোবাসায় মুগ্ধতার বিশেষ প্রয়াস
রোহিঙ্গা ঠেকানো লক্ষ্য বিজেপির, বললেন খাদ্যমন্ত্রী
বিশ্ব রগড়ানি দিবস : পরমব্রত-স্বস্তিকার বিরুদ্ধে বারাসাত থানায় অভিযোগ