Home » সিবিআইয়ের ৩ অফিসার হঠাৎ ফ্রান্স-সিঙ্গাপুরে কেন?

সিবিআইয়ের ৩ অফিসার হঠাৎ ফ্রান্স-সিঙ্গাপুরে কেন?

নিজস্ব প্রতিনিধি: কেন্দ্রের প্রধানমন্ত্রী দপ্তর বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার সিবিআইয়ের ৩ সিনিয়র অফিসারকে ফ্রান্স এবং সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দিল। এই ৩ জনের মধ্যে ২ জন থাকবেন ফ্রান্সে। একজন সিঙ্গাপুরে। কিন্তু এত জায়গা থাকতে আচমকা এই ২ জায়গায় সিবিআই অফিসারদের পোস্টিং দেয়া হল কেন? তাও কোন জুনিয়র ক্যাডারের অফিসার নয়। রীতিমতো সিনিয়র অফিসারদের পোস্টিং করা হয়েছে ‌। সিবিআই সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী মূলত ইন্টারপোলের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যোগাযোগ এবং সমন্বয় রাখবার জন্য এই ৩ অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ইন্টারপোলের সদর দপ্তর ফ্রান্সের লিও শহরে রয়েছে। অন্যদিকে সিঙ্গাপুর ভারতবর্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়া অপরাধীদের চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডোর। সেই জন্যই এই দুটি দেশে ৩ সিবিআই অফিসারকে মোতায়েন করা হয়েছে।

ইন্টারপোলের কাজ কি?

উল্লেখ্য, মূলত আন্তর্জাতিক স্তরে অপরাধীদের চিহ্নিত করা ,তাদের খুঁজে বার করা এবং সংশ্লিষ্ট দেশে প্রত্যর্পণ করার ব্যবস্থা করাই ইন্টারপোলের মূল দায়িত্ব। ইন্টারপোলের সদস্য বিভিন্ন দেশে নির্দিষ্ট অনুরোধের ভিত্তিতে অপরাধীদের খোঁজে ইন্টারপোল রেড কর্নার নোটিশ জারি করে সেটা আমরা জানি ‌। যদিও ইন্টারপোলের আরো ৬ রকমের নোটিশ রয়েছে । ভারতবর্ষের অনুরোধ ২০২৩ সালে ২০ জন এবং ২০২৪ সালে মোট ২৪ জন পলাতক অপরাধীকে ইন্টারপোলের সাহায্যে ভারতবর্ষে ফেরত নিয়ে এসে বিচারের মুখোমুখি করানো সম্ভব হয়েছে। ভারতবর্ষকে মূলত ইন্টারপোলের সাহায্য নিতে হচ্ছে অর্থনৈতিক অপরাধের জন্য। যারা অর্থনৈতিক অপরাধে অপরাধী তারা অনেক সময় দেশ ছেড়ে বিদেশে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে ‌।

সব সময় কি ইন্টারপোলের সাহায্যে গ্রেফতার করা সম্ভব?

এছাড়া সন্ত্রাসবাদী চক্রের সঙ্গে যারা জড়িতস যারা দুনিয়া জুড়ে সন্ত্রাসের জাল বুনে রাখে তাদের ধরতেও ইন্টারপোলের সাহায্য অনিবার্য। যেসব দেশের সঙ্গে প্রত্যার্পন চুক্তি নেই , অপরাধীদের সেই দেশ থেকে ধরে আনা সম্ভব না হলেও নির্দিষ্ট খোঁজখবর ইন্টারপোল এর কাছ থেকে পাওয়া যায়। যেমন দাউদ পাকিস্তানে থাকলেও ভারতবর্ষ তাকে ভারতবর্ষে নিয়ে আসার ব্যাপারে খুব একটা কিছু করে উঠতে পারেনি। আবার ভানুয়াতু দ্বীপে আশ্রয় নেয়া পশ্চিমবঙ্গের কয়লা কেলেঙ্কারিতে যুক্ত বিনয় মিশ্র পলাতক ঘোষিত হলেও, তাকে ইন্টারপোলের সাহায্য নিয়েও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। যদিও ইন্টারপোল এর কাছ থেকে এদের এ ব্যাপারে নিয়মিত ফিডব্যাক পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি নতুন উৎপাত হিসেবে সামনে এসেছে সাইবার গ্যাং। সাইবার গ্যাং-এর মূল চক্রীরা এখন আর আমাদের জামতাড়াতে সীমাবদ্ধ নেই। বহু সাইবার গাং-এর মূল চক্রী দেখা যাচ্ছে চীন অথবা মালয়েশিয়াতে বসে আছে। নাইজেরিয়া সাইবার অপরাধের অন্যতম সংগঠিত কেন্দ্র। এই সাইবার গ্যাঙের মোকাবিলায় ডিজিটাল ফ্লোর ঠেকাতে এবং এই ইস্যুতে ইন্টারপোলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চালাতে সম্প্রতি ভারতপোল  নামে একটি নতুন পোর্টালের উদ্বোধন করেছেন।

About Post Author