Home » মহাকুম্ভে দুর্ঘটনায় নিখোঁজ বাংলার ৭, মৃতদের ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে সমস্যা!

মহাকুম্ভে দুর্ঘটনায় নিখোঁজ বাংলার ৭, মৃতদের ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে সমস্যা!

সময় কলকাতা ডেস্ক:- মহাকুম্ভে পুণ্যস্নানে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন বহু পুণ্যার্থী। মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের, জখম বহু। সেই তালিকায় রয়েছেন বাংলার অনেকেই। যোগী সরকার ডেথ সার্টিফিকেট না দেওয়ায় প্রবল সমস্যায় পড়েছেন বাংলার তিন পরিবার।

যোগী সরকার ইতিমধ্যেই মৃতদের পরিবার কিছু ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে। আর এরপরেই সেই টাকা পেতে উঠেপড়ে লেগেছে তিন পরিবারের সদস্যরা। যদিও ডেথ সার্টিফিকেট না থাকায় আর্থিক সাহায্যের আবেদন কীভাবে করবেন, তা ভেবে পাচ্ছেন না তাঁরা। এদিকে এখনও নিখোঁজ বাংলার ৭ জন। তাঁরা কোথায়, কীভাবে রয়েছেন তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার।

নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন উত্তরবঙ্গের চারজন। এঁদের মধ্যে আছেন ইংরেজবাজার শহরের উত্তর কৃষ্ণপল্লি এলাকার বছর ষাটেকের বৃদ্ধা অনীতা ঘোষ, শিলিগুড়ির প্রধাননগর থানা এলাকার সমরনগরের ডিজে মোড়ের বাসিন্দা পুতুল রায়, মাথাভাঙা পচাগড়ের বাসিন্দা মহেন্দ্র বর্মন এবং উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া থানার মজলিশপুরের হাতিপাও গ্রামের ৬৫ বছরের বৃদ্ধ সুনীতি মল্লিক। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত এই চারজনের সঙ্গে পরিবারের লোকজন যোগাযোগ করতে পারেনি।

এছাড়াও নিখোঁজ রানাঘাটের তালপুকুর এলাকার সুমিত্রা পাল (৫৪)। সোমবার পুণ্যস্নানের উদ্দেশ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুম্ভমেলায় যান ওই গৃহবধূ। বুধবার ভোররাতে স্নান করতে নামেন। তারপর থেকে আর তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে পরিবার সূত্রে খবর।

পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে

সুমিত্রাদেবীর ছেলে সুমন পাল জানালেন, মায়ের সঙ্গে যাঁরা গিয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই ফিরে আসছেন। কিন্তু তাঁর মা স্নানে নামার পর থেকে নিখোঁজ। নিখোঁজ রয়েছেন কলকাতার সুবীর নস্কর (৫৪)। রিজেন্ট পার্ক থানা এলাকার পূর্ব পুঁটিয়ারির বাসিন্দা তিনি। নিখোঁজ পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুট কোস্টাল থানার ছোট বানতলিয়ার বাসিন্দা প্রণবকুমার জানা। বয়স ৭৫। ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও খোঁজ নেই ওই ব্যক্তির। উদ্বেগে ঘুম ছুটেছে পরিবারের। বৃদ্ধের খোঁজে ইতিমধ্যেই প্রয়াগের পথে রওনা দিয়েছেন নিখোঁজ ব্যক্তির ছেলে আনন্দ জানা।

অন্যদিকে, বাংলার মৃত এক পুণ্যার্থীর ছেলের অভিযোগ, তাঁর মায়ের দেহ ময়নাতদন্ত হয়নি। দেহ হস্তান্তরের সময় যে কাগজ দেওয়া হয়েছে, তাতে সে রাজ্যের কোনও সরকারি স্ট্যাম্প নেই। সই নেই আধিকারিকদের। শুধু বলা হয়েছে, ডেথ সার্টিফিকেট পরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু নথিপত্র না থাকলে তা কীভাবে দেবে, সেই প্রশ্নই উঠছে। পাশাপাশি মৃতের পরিবারের বক্তব্য, ডেথ সার্টিফিকেট না পেলে ক্ষতিপূরণের টাকার জন্য কীভাবে আবেদন করবেন তাঁরা?

About Post Author