সময় কলকাতা ডেস্ক:- নাগপুর চায় না বঙ্গের শাসন ক্ষমতা থেকে মমতাকে সরাতে। আরএসএস -এর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এখন আরএসএসকে প্রমাণ করতে হবে ২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যে, এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আর সে কারণেই নাকি সম্প্রতিক সময়ে বঙ্গ সফর করে গিয়েছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত। আগামী বিধানসভা ভোটে জিততে চাই নাকি আরএসএস এবার নিবিড় ভাবে চাইছে বিজেপির সঙ্গ। তবে আরএসএস মনে করছে, ভোটে জেতার জন্য বিজেপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের মতাদর্শগত ভিত আরও মজবুত করতে। রবিবার হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় সঙ্ঘ পরিবারের সমন্বয় বৈঠকের শেষ দিন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের নেতারা তাই বঙ্গ গেরুয়া শিবিরের নেতাদের আদর্শের পাঠ নেওয়ার বার্তাই দিয়েছেন।
সূত্রের খবর
তবে সেটা আদৌ কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে গেরুয়া শিবিরে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। সূত্রের খবর, ২০১৯ লোকসভা ভোটের আগে যাঁরা বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা-কর্মী ছিলেন, তাঁরা বেশিরভাগই এখন নিষ্ক্রিয়। এমনকী, আরএসএস থেকে বিজেপি করতে আসা নেতারাও অনেকেই কল্কে না পেয়ে বসে গেছেন ঘরে। বহু জেলাতেই বিজেপির লাগাম এখন তৃণমূল-সিপিআইএম সহ বামদল থেকে আসা নেতাদের হাতে। যাদের মধ্যে আরএসএসের আদর্শ বিন্দুমাত্র নেই। এরা অনেকেই এসেছেন গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের হাত থেকে বাঁচতে অথবা বিজেপির হাত ধরে ক্ষমতায় ফিরতে। যারা দীর্ঘদিন বাম দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অথচ আজ বিজেপি করছেন, বোঝাই যায় তাদের মধ্যে আদর্শ বলে কিছু নেই।
যারা বামপন্থা গ্রহণ করতে পারেনি, শুধুমাত্র ক্ষমতা ভোগের জন্য সিপিএম বা বামপন্থী দলগুলির সঙ্গে ছিলেন তারই আজ বিজেপিতে। কি করে বিশ্বাস করা যাবে যে তারা আরএসএসের হিন্দুত্ববাদী আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে উঠবেন আগামী এক বছরে। তৃণমূল বা বাম দলগুলি থেকে যারা বিজেপিতে এসেছেন এটা পরিষ্কার যে তারা শুধুমাত্র ক্ষমতা দখলের আকাঙ্ক্ষা থেকে এসেছেন। বিধানসভা ভোটের আর মাত্র এক বছর দেরি। এর মধ্যে সর্বস্তরের বিজেপি নেতা-কর্মীরা আরএসএসের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠবেন এটা অতি বড় আরএসএস নেতাও বিশ্বাস করেন না।
বহু বিজেপি কর্মী নেতাই জানেন না আরএসএসের ভাবাদর্শ কি
‘আরএসএস রাজনৈতিক দল নয়। একটি সামাজিক সংগঠন। বঙ্গ বিজেপির বহু বিজেপি কর্মী নেতাই জানেন না আরএসএসের ভাবাদর্শ কি। কারণ, তাঁরা অধিকাংশই ২০১৯-এর আগে অন্য কোনও রাজনৈতিক দল থেকে এসেছেন। আদর্শের ভিতই তাঁদের মধ্যে শক্তপোক্ত হয়ে উঠতে পারেনি। গত দু’দিনের সমন্বয় বৈঠকে বাংলায় আরএসএস নেতৃত্ব সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষ, শমীক ভট্টাচার্যর মতো বিজেপি নেতাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিজেপির সঙ্গে তাঁদের নিবিড় সমন্বয় তখনই গড়ে ওঠা সম্ভব হবে, যখন বিজেপি নেতা, কর্মীরা আরএসএসের ভাবাদর্শ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হবেন। এটা বাস্তব সত্য বাংলায় বিজেপি আগের থেকে অনেক বড় হয়েছে। নেতা-কর্মীর সংখ্যাও বেড়েছে কয়েকগুন। কিন্তু অতি বড় আরএসএস নেতাও কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন এই বিজেপি দলের মধ্যে আদর্শের ভিত মজবুত? এ রাজ্যের ক’জন বিজেপি নেতার আরএসএস সম্পর্কে সম্যক ধারণা আছে?
অতি সম্প্রতি, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং দিল্লি বিধানসভার নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে বলে দিচ্ছে, এইসব রাজ্যে আরএসএসের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় গড়েই ভোটে সাফল্যের মুখ দেখেছে বিজেপি। ২০২৬ বিধানসভা ভোটে বাংলার মসনদ দখল করতে গেলে এরাজ্যেও একই কৌশলে এগোতে হবে। আর তা না হলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী দলের তকমা হারাতে পারে বিজেপি। বঙ্গ বিজেপি এবং নাগপুর যদি হাতে হাত ধরে না চলে এবং মমতা সম্পর্কে আরএসএস নিজেদের পূর্ব সিদ্ধান্ত বদল না করে তাহলে বঙ্গে কোনদিন বিজেপি ক্ষমতা দখল করতে পারবে না।


More Stories
আয়ুষ-দীপককে বুক দিয়ে আগলে রাখার প্রতিশ্রুতি আইসি সুবলের
জলে ডুবে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু
মুখ্যমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্রে পাকড়াও হামিমের বান্ধবী ধৃত