Home » শিক্ষক বদলি সংক্রান্ত অর্ডার প্রত্যাহার করল রাজ্য। নেপথ্যে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল?

শিক্ষক বদলি সংক্রান্ত অর্ডার প্রত্যাহার করল রাজ্য। নেপথ্যে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল?

সময় কলকাতা ডেস্ক:- দু’বছর আগে শিক্ষক বদলি সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল রাজ্য। আপাতত সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নিল শিক্ষা দফতর। যার অর্থ বদলি প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত করা হল। শিক্ষকদের বদলি নিয়ে বারবার হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বদলিতে স্বচ্ছতা আনতে গত ২০২৩ সালে ‘সারপ্লাস ট্রান্সফার’ চালু হয়। এই পদ্ধতিতে আপাতত বদলি স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে।

তার ফলে চলতি বছর যাঁদের বদলির সম্ভাবনা ছিল, তা স্থগিত হয়ে গেল। আবার যাঁদের বাড়ির কাছাকাছি স্কুলে বদলি হয়ে আসার কথা ছিল, তা-ও ভেস্তে গেল। ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। ওই মামলায় গত ৩ এপ্রিল আস্ত প্যানেল বাতিল করেছে সুপ্রিমকোর্ট। চাকরিহারা হয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী।

আদালতের রায় বেরানোর পর থেকেই চাকরিহারাদের সিংহভাগই স্কুলে যাচ্ছেন না। অনেকের মতে, পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণেই বদলি সংক্রান্ত ওই নির্দেশে প্রত্যাহার করা হল। কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শিক্ষক, শিক্ষিকা। আবার কোথাও শিক্ষক, শিক্ষিকার অভাবে ধুঁকছে স্কুলের পঠনপাঠন। এমন পরিস্থিতির বদল ঘটাতে ও ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ঠিক রাখতে ২০২৩ সালে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর একটি বিশেষ বদলির অর্ডার জারি করেছিল। তবে গত ১১ এপ্রিল নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে পুরনো নির্দেশিকা বাতিলের কথা জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে শিক্ষা দফতরের ওই নির্দেশিকা প্রতিটি স্কুলে পৌঁছেও গিয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে, কেন বদলি প্রক্রিয়া স্থগিত হল? কেউ কেউ বলছেন, প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী চাকরিহারা হয়েছেন। সেক্ষেত্রে বহু স্কুলে ছাত্রছাত্রীর অনুপাতে শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা কম হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বদলি হলে শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা আরও কমে যেতে পারে। তাতে সমস্যায় পড়বে স্কুলগুলি। সে কারণে আপাতত বদলি প্রক্রিয়া স্থগিত। জানা গিয়েছে, বছরের পর বছর একই স্কুলে রয়েছেন এমন শিক্ষকদের একাংশের এ বছরই বদলির সম্ভাবনা ছিল। রাজ্যের নয়া সিদ্ধান্তে তাঁরা যেমন স্বস্তি পেলেন তেমনই যাঁরা বাড়ির কাছাকাছি স্কুলে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, নয়া বিজ্ঞপ্তির জেরে তাঁদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ।

About Post Author