সময় কলকাতা ডেস্ক:- মঙ্গলের সন্ধ্যা গড়াতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী ৩ সেনাকে ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ দিয়ে তাদের পাকিস্তান ও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যা খুশি অ্যাকশন নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দিয়েছেন। ওদিকে, তারপরই পাকিস্তানের সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লা তাহার মধ্যরাতে এক এক্স পোস্টে দাবি করেছেন, ভারত পাকিস্তানের বুকে ২৪ ঘণ্টা থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে হামলা করতে পারে।
জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর আতঙ্কে তটস্থ পাকিস্তান। মঙ্গলবার রাতে সোশাল মিডিয়ায় ভিডিওবার্তা দিয়ে পাক মন্ত্রী বলেন, বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়েছেন পহেলগাঁওয়ের ঘটনার দায় পাকিস্তানের উপর চাপিয়ে আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানের উপর হামলা চালাতে চলেছে ভারত। তবে ভারতের একতরফা পদক্ষেপের পাল্টা জবাব দিতে পাকিস্তানও প্রস্তুত।
একইসঙ্গে সুর নরম করে পাক মন্ত্রী জানান, পাকিস্তান নিজে সন্ত্রাসবাদের শিকার। ফলে পাকিস্তান এই যন্ত্রণা বোঝে। বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে সন্ত্রাসবাদের ঘটনা ঘটলে পাকিস্তান তার নিন্দা জানায়। একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান ভারতের কাছে আবেদন জানিয়েছে ওই ঘটনায় নিরপেক্ষ সংস্থাকে দিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত করা হোক। তবে দুর্ভাগ্যবশত সংঘর্ষের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার পরিণতি ভয়াবহ হবে। পাক মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে এই ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তবে ভারত যদি কোনওরকম হামলা চালায় তবে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে পাকিস্তান তার জবাব দেবে।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলায় সিংহভাগ পর্যটক-সহ ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাম্প্রতিককালে ভারতের বুকে এত বড় সন্ত্রাস সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই হামলার ঘটনায় সরাসরি পাকিস্তানের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে ভারত।
জানা গিয়েছে, হামলার চালানো চার জঙ্গির মধ্যে দুইজন পাকিস্তানের। পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন টিআরএফ এই হামলার দায় নিয়েও পরে তা অস্বীকার করেছে। দুই দেশের মধ্যে চরম কূটনৈতিক সংঘাতের মাঝেই কিছুদিন আগেই বিহারের মাটি থেকে পহেলগাঁও ইস্যুতে হুঙ্কার দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি সাফ বলেছিলেন, জঙ্গিদের বেঁচে বর্তে থাকা জমিও মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার সময় চলে এসেছে।
এদিকে, মঙ্গলবারই নিরাপত্তা ইস্যুতে হয়ে গিয়েছে এক হাইভোল্টেজ বৈঠক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপরই সেনাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার ঘোষণা করে ভারত সরকার। নয়াদিল্লিতে মোদি সরকারের তৎপরতার জেরে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত পাকিস্তান। এরইমাঝে পাক মন্ত্রীর এই বার্তা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল শুরু হয়েছে।


More Stories
আবার বেলাগাম হুমায়ুন, বিজেপিকে মারের হুমকি, গ্রেফতারের দাবি
বিজেপি-বিদ্রোহী তৃণমূলকে একযোগে নিশানা, তবুও বিরোধীদের প্রশংসা পাচ্ছেন কুণাল ঘোষ
বেআইনি এবং বেইমানি – “এরা মায়ের পিঠে ছুরি মারতে পারে”, নতুন কমিটি প্রসঙ্গে কুণাল