সময় কলকাতা ডেস্ক:- একে তো ইকো সেনসিটিভ জোনের খাঁড়া ঝুলছে। তার উপরে অনলাইন বিল্ডিং প্ল্যান জমা দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে শিলিগুড়িতে সমস্যা। অনলাইনে বাড়ি তৈরির যে সমস্ত আবেদন জমা পড়ছে তার অধিকাংশই নিয়ম মেনে জমা না-হওয়ার অভিযোগে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। তাতে শহরের সাধারণ নাগরিকেরা তো ভুগছেনই, ভুগছে পুরসভাও। বিল্ডিং প্ল্যান বাবদ পুরসভার আয়ও কমে গিয়েছে অনেকটা। শিলিগুড়ি পুরসভার মাসিক সাধারণ সভায় বিরোধী দলনেতা, বিজেপির অমিত জৈন-এর পেশ করা তথ্য অনুসারে ২০২৩-২৪ সালে বিল্ডিং প্ল্যান বাবদ যেখানে পুরসভার আয় হয়েছিল ৮ কোটি ৬৮ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা সেটাই ২০২৪-২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আয় কমে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৫৮ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা। বিরোধী দলনেতার আশঙ্কা, মে পর্যন্ত ওই আয় খুব বেশি হলে ৪ কোটিতে পৌঁছতে পারে। অথচ, বছরের শুরুতে আয় ধরা হয়েছিল ১০ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।
জানা গিয়েছে, মহানন্দা অভয়ারণ্য লাগোয়া পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে কংক্রিটের বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অনলাইনে বিল্ডিং প্ল্যান জমা দেওয়ার পরিকল্পনা অবশ্য নগরোন্নয়ন দপ্তরের। দালালরাজ খতম করতেই এই পরিকল্পনা করা হয়। খাতায়-কলমে এই ব্যবস্থা কার্যকর মনে হলেও বাস্তবে সমস্যা দেখা দিয়েছে। যে লাইসেন্সড বিল্ডিং সার্ভেয়াররা (এলবিএস) পুর আইন মেনে নাগরিকদের বাড়ি তৈরির এই নকশা তৈরি করেন, তাঁরাই অনেকে অনলাইনে সড়ো গড়ো হয়ে উঠতে পারেননি। মেয়র জানিয়েছেন, এলবিএসদের এই সমস্যার কথা জানার পরে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
শিলিগুড়িতেও টানা তিন দিন প্রশিক্ষণের পরেও সমস্যা হলে ফের এলবিএসদের সঙ্গে কথা বলা হয়। মেয়র বলেন, ‘অনলাইন বিল্ডিং প্ল্যান তো কাউকে বিপাকে ফেলার জন্য হয়নি। বরং দালালরাজ খতম করতেই এই ব্যবস্থা হয়। প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরেও যদি এলবিএসদের সমস্যা হয় তা হলে আবার কথা বলতে হবে।’ বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, ‘বিল্ডিং প্ল্যান নিয়ে এই সমস্যার জন্য কেবল পুরসভার আয়ই কমেনি, সাধারণ নাগরিকরাও বিপাকে পড়ছেন। বাড়ি তৈরির জন্য অনলাইনে আবেদন করার পরে সেটি বাতিল হওয়ায় অনেকে হতাশ হয়ে পড়ছেন।’ মেয়র অবশ্য জানিয়েছেন, ১৫ দিনের মধ্যে যাতে সাধারণ নাগরিকের বাড়ি তৈরির নকশা অনুমোদিত হয় সেই ব্যাপারে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দিতে পারেননি মেয়র গৌতম দেব। তবে ইকো সেনসিটিভ জোনের ফরমান যে শিলিগুড়ি পুরসভাকে ঘোর সঙ্কটে ফেলেছে, অস্বীকার করেননি মেয়র। বরং বিরোধী দলনেতার কাছে পাল্টা প্রস্তাব দিয়ে বলেছেন, দিল্লিতে যেন এ ব্যাপারে তিনিও দরবার করেন। মেয়র বলেন, ‘ইকো সেনসিটিভ জোনের ফরমান তো আমি তৈরি করিনি। বরং এই ফরমানের কথা জানার পরে সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষকে এক জায়গায় বসে মিটিং করে পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের দূরত্ব কমানোর প্রস্তাব দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। আপনারাও দেখুন দিল্লিতে বলে যদি শিলিগুড়ির জন্য এ টুকু করতে পারেন।’


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?