Home » রাজ্যে ‘অস্বীকৃত’ দলের খোঁজে কমিশন

রাজ্যে ‘অস্বীকৃত’ দলের খোঁজে কমিশন

সময় কলকাতা ডেস্ক:- পশ্চিমবঙ্গে স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৮। আর নির্বাচন কমিশনের তালিকাভুক্ত ‘আনরেকগনাইজড’ বা অস্বীকৃত রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক দলের সংখ্যা প্রায় ৭০। সারা দেশে এই সংখ্যাটা প্রায় তিন হাজার। এই আনরেকগনাইজড রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক দলের অধিকাংশের অস্তিত্ব নিয়েই সন্দিহান নির্বাচন কমিশন।

সম্প্রতি ভার্চুয়াল বৈঠকে সিইও অফিসের তরফ থেকে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের নিজ নিজ জেলায় থাকা এই ধরনের রাজনৈতিক দলগুলির প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে সরেজমিনে যাচাই করে রিপোর্টে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই যাচাই প্রক্রিয়ার পাশাপাশি গত তিনটি নির্বাচনে তারা অংশ নিয়েছিল কি না, কমিশনকে আদৌ নিয়মমাফিক আয়-ব্যয়ের হিসেব পেশ করেছে কি না, সে সব তথ্য যাচাই করেই বাতিলের সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

শুধু বাংলা নয়, দেশের অন্যান্য রাজ্যেও ছবিটা মোটের উপরে একই রকম। বাস্তবে অস্তিত্বহীন সাইনবোর্ড সর্বস্ব এই রাজনৈতিক দলগুলিকে বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় কমিশন। কমিশনের নির্দেশ পেয়ে রাজ্যের সিইও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে এই আনরেকগনাইজড রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক দলগুলি সর্ম্পকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

নিয়ম অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলিকে তাদের আয়-ব্যয়ের অডিট রিপোর্ট কমিশনের কাছে পেশ করার কথা। কমিশন সূত্রের খবর, তা–ও ঠিক মতো পাঠানো হচ্ছে না। প্রশ্ন উঠেছে, কমিশনের খাতায় নাম থাকলে প্রকৃত অর্থে এই রাজনৈতিক দলগুলির কোনও অস্তিত্ব আছে কি? যদি না থাকে, তা হলেই বা কেন এই পার্টিগুলি খাতায়কলমে তৈরি করা হয়েছে? রাজনৈতিক দলের আড়ালে তবে কি অনৈতিক কাজকর্ম চলছে?

দেখা গিয়েছে, গত লোকসভা ভোটে রাজ্যে এ ধরনের মাত্র ১৮টি আনরেগনাইজ়ড রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের খাতায় কলকাতা–সহ বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা এদের প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা নিয়েও নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। ওই ঠিকানায় কমিশন বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ করলে বা কোনও চিঠি পাঠালে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘নো রিপ্লাই’ হয়ে ফেরত আসছে।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘আমরা বাঙালি’, ‘প্যারাডাইস পার্টি’, ‘লোকসাম্য পার্টি’, ‘বহুজন মুক্তি পার্টি’, ‘অল ইন্ডিয়া লেবার পার্টি’, ‘ভূমিপুত্র পার্টি’, ‘হিন্দুস্তান শক্তি সেনা’র মতো ৭০টি রাজনৈতিক দল রয়েছে বাংলায়, যাদের একটা বড় অংশ দীর্ঘদিন নির্বাচনে অংশই নেয় না।

এই রাজনৈতিক দলগুলি কমিশনে যে ঠিকানা জমা দিয়েছে, সেখানে সশরীরে গিয়ে তাদের অস্তিত্ব যাচাই করার জন্য জেলা নির্বাচন আধিকারিক অর্থাৎ জেলাশাসকদের করে দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিল কমিশন। জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করে কমিশন থেকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

About Post Author