Home » ‘যোগ্য’ কর্মহারাদের তুলনায় সরকার ‘অযোগ্য’দেরই পাশে বেশি

‘যোগ্য’ কর্মহারাদের তুলনায় সরকার ‘অযোগ্য’দেরই পাশে বেশি

সময় কলকাতা ডেস্ক:- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী নিয়োগের জট-জটিলতা অব্যাহত। এ জন্য খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী করেছেন অনেক ‘যোগ্য’ কর্মহারা। মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক থেকে বেশ কিছু ঘোষণা করেছেন মমতা। তার পরেও কিন্তু বিতর্ক ও ক্ষোভ এড়ানো গেল না।

‘যোগ্য’দের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার জেরে আদতে ‘অযোগ্য’রাই উপকৃত হবেন। ‘অযোগ্য’দের মধ্যে এই ‘নট স্পেসিফিক্যালি টেন্টেড’-রা বুধবার সকালে সামিল হন হাজরা মোরে। অন্যদিকে ‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’ -এর মহিলা প্রতিনিধিদল দল বৃহস্পতিবার কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে যাবার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়।

অন্যদিকে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষার খুঁটিনাটি–সহ যাবতীয় তথ্য জানিয়ে শুক্রবার বিকেল চারটের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দেওয়ার কথা স্কুল সার্ভিস কমিশনের। কিন্তু সে কাজ এগোনোর জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা বুধবার সন্ধে পর্যন্তও হাতে পাননি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
এরই মধ্যে ‘যোগ্য’ কর্মহারাদের বড় অংশ বলছেন, শিক্ষা–সহ একাধিক দপ্তরে নিয়োগের জন্য ‘অযোগ্য’রা আবেদন জানাতে পারবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন। যার পাল্টা ‘যোগ্য’দের বক্তব্য, ‘সরকার প্রথম থেকেই অযোগ‍্যদের চাকরির নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। যোগ‍্যদের বাঁচানোর চেষ্টা নেই! তাই আমাদের এমন অবস্থা।’

‘যোগ্য’ চাকরি হারারা জানিয়েছেন, ৭–৮ বছর কাজ করার পর, তাঁদের পক্ষে সদ্য পাশ করা ছেলেমেয়েদের সঙ্গে টেক্কা দেওয়া সহজ নয়। এ ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রমের সুবিধের সঙ্গেই বর্তমান মূল্যায়ন পদ্ধতিতে প্রচুর নম্বরের সুবিধেও পাবেন ‘ফ্রেশ ক্যান্ডিডেটরা’।

কাজেই তাঁদের অভিজ্ঞতার জন্য ‘অ্যাডভান্টেজ’ দেওয়া হলেও তাতে দৌড়ে এগিয়ে থাকার পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। একই সঙ্গে এঁরা ফের জানিয়েছেন যে, চাকরির নিশ্চয়তা না পেলে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ সত্ত্বেও ‘সম্মান খুইয়ে’ স্কুলে যাবেন না।

চাকরিহারাদের প্রতিনিধি চিন্ময় মণ্ডলের কথায়, ‘কোর্টে রিভিউ পিটিশনের মাধ্যমে কী ভাবে জেতা যায়, সেটা আগে দেখা দরকার। ওটাই পাখির চোখ। পরীক্ষা পরের ব্যাপার।’

About Post Author