Home » দশ দিন পার! এখনও নিখোঁজ মহেশতলায় কাজ করতে আসা ইসলামপুরের নাবালক

দশ দিন পার! এখনও নিখোঁজ মহেশতলায় কাজ করতে আসা ইসলামপুরের নাবালক

সময় কলকাতা ডেস্ক:- দশ দিন কেটে গেলেও এখনও নিখোঁজ মহেশতলায় জিন্স কারখানায় কাজ করতে আসা উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের বাসিন্দা নাবালক। সে কোথায়, মৃত না জীবিত- সেই উত্তরও এখনও অধরা।

নাবালককে খুঁজে বের করার দাবিতে এ দিন ইসলামপুর পাটাগোড়া রাজ্য সড়কের মাটিকুন্ডা বাজার অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান নাবালকের পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়েও প্রতিবাদ চলে।

আন্দোলনকারী আনোয়ার আলম বলেন, ‘ঘটনার পরে ১০ দিন পার হয়ে গেল, অথচ ছেলেটির কোনও খোঁজ করে উঠতে পারছে না পুলিশ–প্রশাসন।’ অবরোধ ওঠার কিছুক্ষণ পরে নিখোঁজ কিশোরের বাবা–মায়ের সঙ্গে দেখা করেন স্থানীয় বিধায়ক। তিনি বলেন, ‘মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়েছে। কিশোরকে খুঁজতে সমস্ত রকম চেষ্টা করছে পুলিশ।’

তাৎপর্যপূর্ণ হল, এ দিন নাবালকের অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন চোপড়ার তৃণমূল বিধায়ক হামিদুর রহমান। রবিবার নিখোঁজ কিশোরের বাবা–মায়ের সঙ্গে দেখা করার পরে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, ছেলেটি আর বেঁচে নেই। ওকে মেরে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছে।’

যদিও পরে তিনি বলেন, ‘ওই নাবালক যদি বেঁচে থাকে, তা হলে পুলিশ ঠিক খুঁজে বের করবে।’ তার এই মন্তব্যের পরে পরিবারের প্রশ্ন, ‘আমাদের সন্তান কি আদৌ বেঁচে আছে?’

এই ঘটনায় জিন্স কারখানার মালিক শাহেনশা আলম, তার ভাই ফিরোজ এবং আমিরুল মোহাম্মদকে মুম্বই থেকে গ্রেপ্তার করে রবিবার সকালে আনা হয় কলকাতায়। ধৃতদের আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে ১৬ জুন পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।

ওই তিনজনকে জেরা করলে ওই নাবালকের বিষয়ে জানা যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারী অফিসারেরা। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়েছে। শাহেনশার সঙ্গে বাকিদের মুখোমুখি জেরা করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

জানা গিয়েছে, টাকা ও মোবাইল চুরির ঘটনায় ওই নাবালককে উল্টো করে ঝুলিয়ে মারধর করার পরে তাকে ইলেকট্রিক শক দেয় শাহেনশারা। নির্যাতনের ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল (যার সত্যতা ‘সময় কলকাতা’ যাচাই করেনি) হয়। খবর জানাজানি হতেই কলকাতা থেকে মুম্বই পালিয়েছিলেন তিন অভিযুক্ত।

এদিকে, অভিযুক্তরা পুলিশি জেরায় দাবি করেছে, গত ৩১ মে সকালে মোবাইল চুরি করে পালিয়ে গিয়েছিল ওই নাবালক। সে যে রাস্তা দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযুক্তরা দাবি করেছে, সেই সব রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ দিন আলিপুর আদালতে পেশ করা হয় অভিযুক্তদের। আদালতে অভিযুক্তদের আইনজীবী আজম খান বলেন, ‘আগে কোনও অভিযোগ করল না, পরে নাবালকের পরিবার অভিযোগ করে। ৪ জুন মুম্বই থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনজনকে। এই মামলায় কোনও সিট গঠন হয়নি। যে অফিসার মক্কেলদের গ্রেপ্তার করেছেন, তাঁর কি গ্রেপ্তার করার এক্তিয়ার আছে?’

তাঁর সংযোজন, ‘কোন সময়ে, কবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কেস ডায়েরিতে তার কোনও উল্লেখ নেই।’ পাল্টা সরকারি কৌঁসুলির যুক্তি, ‘ওই নাবালককে এখনও পাওয়া যায়নি। আমরা চাইছি তাকে উদ্ধার করতে।

ওই নাবালককে প্রথমে উল্টো করে ঝুলিয়ে মারধর করা হয়। এর পরে তাকে ওখান থেকে সরিয়ে দেয়। কোথায় রেখেছে, তা এখনও বলেনি অভিযুক্তরা। সবার আগে তা জানার জন্য অভিযুক্তদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন।’

About Post Author