সময় কলকাতা ডেস্ক:- শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান অরাজকতার বিষাক্ত মাকড়সার জালে আটকে ভবিষ্যৎ তৈরির কারখানা। উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের স্কুল পরিদর্শনের দিনেই একমাত্র সঠিক সময়ে উপস্থিত থাকেন শিক্ষককুল। এমন ছবি ধুপগুড়ির প্রাথমিক স্কুলগুলিতে এখন নিত্যদিনের ঘটনা।
হাতি, বুনো মোষের ভয়কে উপেক্ষা করে ছাত্র ছাত্রীরা নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষার খিদে মেটাতে স্কুল প্রাঙ্গণে উপস্থিত হলেও, দেখা মেলে না শিক্ষাদাতাদের। এমনই চিত্র মোরাঘাট জঙ্গল লাগোয়া জলপাইগুড়ি জেলার ধুপগুড়ি ৩ নং সার্কেলের গড়খুটা দুই নং বিএফপি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
যদিও বর্তমান প্রধান শিক্ষক এই অভিযোগ মানতে নারাজ।
প্রধান শিক্ষকের পরিষ্কার দাবি, আশপাশে অনেক নার্সারি স্কুল তৈরি হয়েছে সেদিকেই বেশি ঝোঁক অভিভাবকদের। আমাকে নিয়ে মোট যে তিন জন শিক্ষক রয়েছেন সবাই সময় মতোই স্কুলে আসেন, তবে ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে অনেকেই সপ্তাহে তিন কি চার দিন স্কুলে আসে।
ছাত্র ছাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি করতে প্রতি মাসেই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অভিভাবকদের সচেতন করা হয় সরকারি বিদ্যালয়ে শিশুদের পাঠানোর জন্য, পরিকাঠামো সবমিলিয়ে ঠিক আছে,একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে স্কুলের সেই অংশটি মেরামতির কাজ শুরু হবে শীঘ্রই।
শিক্ষকদের হাজিরা প্রসঙ্গে উদাহরণ স্বরূপ প্রধান শিক্ষক গদাধর রায় বলেন, এরই মধ্যে স্কুল পরিদর্শনে এসেছিলেন স্কুল ইন্সপেক্টর সেই দিনতো সবাই সঠিক সময়ে উপস্থিত ছিলেন।
যদিও প্রধান শিক্ষকের করা বর্ণনার সঙ্গে বিস্তর ফারাক স্থানিয় বাসিন্ধা দিলীপ কুমার রায়ের বয়ানে, দীলিপ বাবু জানান, তিনজন শিক্ষক থাকলেও কোনো দিন তিনজন আবার কোনো দিন এক বা দুজন উপস্থিত থাকেন, আজকে এই মুহূর্তে বেলা এগারোটা বেজে গেলেও দেখা নেই সব শিক্ষকদের। যা সময় কলকাতার ক্যামেরায় জলের মতন পরিষ্কার।
ওপর এক গ্রামবাসী দেবনাথ রায়ের গলাতেও সেই একই সুর, স্কুলের বর্তমান হাল প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি জানান, খুবই খারাপ অবস্থা, গাছের ডাল পরে ক্লাসরুম ভেঙে গেছে, শিক্ষকরা প্রায় দিনেই নিজেদের খেয়াল খুশি মতো আসেন, অথচ বাচ্চারা ঠিক সময়ে স্কুলে চলে আসে,আর মাঠে ঘুরে বেড়ায়। বেস কয়েকবার বলেছি, কিন্তু তাতে কিছু বদলায়নি।
গোটা বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট স্কুলের পরিদর্শক সরজমিনে তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি