Home » ট্রাম্পের শুল্ক-বদলায় কড়া অবস্থান নিচ্ছে ভারত

ট্রাম্পের শুল্ক-বদলায় কড়া অবস্থান নিচ্ছে ভারত

সময় কলকাতা ডেস্ক:- আগামী ৯ জুলাই থেকে আমেরিকার নয়া শুল্ক নীতির দরজা খুলে যাচ্ছে। সম্ভবত তার অনেক আগেই ভারত-আমেরিকা দুদেশের অন্তর্বর্তী সমঝোতা সেরে ফেলতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস, শনি-রবিবারের ছুটির দিন। ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি হওয়ার আর কিছু সময়ের অপেক্ষা।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একগুঁয়েমির শুল্কনীতির বদলায় ভারতও কিছু ক্ষেত্রে আমদানি-রফতানি কর বৃদ্ধি করতে পারে। বাণিজ্য চুক্তিতে তুলির শেষ টান দিতে চাইছে ভারত। সূত্র বলছে, কখনই জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে কোনও চুক্তি হবে না। দেশীয় বাণিজ্যের ক্ষতি না করে সমঝোতার রাস্তা বের করা হচ্ছে। ভারত কিছু আমেরিকার পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আদায়ের ভাবনায় রয়েছে। দুই দেশই অন্তর্বর্তী একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সিলমোহর দেওয়ার দিকে দ্রুত এগোলেও গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ভারতের উপর বিশাল শুল্কের বোঝা চাপাতে চলেছে।

তারই বদলায় ভারতও কিছু পণ্যে অতিরিক্ত কর প্রস্তাবের দিকে ঠেলে দিতে পারে আমেরিকাকে। আসলে ভারতের যুক্তি হল, অতিরিক্ত শুল্ক ব্যবস্থা মার্কিন শিল্পকারখানাগুলিকে বাঁচাবে। কিন্তু তাতে দেশের রফতানিকারকদের অন্যায্যভাবে ক্ষতি হয়ে যাবে। সেই দিক থেকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে পাঠানো নোটিসে বলা হয়েছে, ভারতের প্রস্তাবিত ছাড় রদ না করার ফলে সম পরিমাণ শুল্ক আদায় করা হবে আমেরিকান পণ্যের উপর। অবশ্য এর আগেও ভারত শুল্কের বদলায় শুল্ক আদায়ের দাবি করেছিল।

কিন্তু, পরবর্তীতে সেরকম কোনও পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। সে কারণে সাম্প্রতিক কথাবার্তা কৌশলগত কায়দা হতে পারে বলে অনেকের অনুমান। কারণ, দুদেশীয় চুক্তি রূপায়ণ প্রায় শেষ পর্বে পৌঁছেছে। গত কিছুদিনের মধ্যে ভারতের সদর্থক অবস্থান অনেকটাই গতিপ্রাপ্ত হয়েছে।

কারণ, ভারত স্পষ্ট বলে দিয়েছে যে, দু দেশের স্বার্থ সমানভাবে রক্ষিত না হলে তাতে স্বাক্ষর নাও করতে পারে নয়াদিল্লি। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতিতে ট্রাম্প বাণিজ্য চুক্তিকে আস্তিনের তাস করেছিলেন বলে যে দাবি তুলেছিলেন, তাতেও ঘোরতর আপত্তি জানিয়েছিল ভারত। এসবের মাঝেই প্রকাশ্যে আরেক প্রসঙ্গ। আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সরগরম রাজনীতির উঠোন।

এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস সাংসদ ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি দাবি করেছেন, মোদি ওই শুল্কের সময়সীমার আগেই চুপচাপ মাথা নত করবেন। তবে থেমে থাকেনি কেন্দ্র। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধির এই মন্তব্যের জবাবে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত না হলে কোনও বাণিজ্য চুক্তিতে সই করবে না ভারত।

চুক্তি আটকে কোথায়?

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতকে বহুদিন ধরেই আখ্যা দিচ্ছেন ট্যারিফ কিং হিসেবে। চলতি বছরের ২ এপ্রিল তিনি ঘোষণা করেন, লিবারেশন ডে ট্যারিফ-এর আওতায় ভারতীয় পণ্যের উপর ২৬ শতাংশ শুল্ক বসবে। আপাতত ৯০ দিনের জন্য সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়। কিন্তু ৯ জুলাইয়ের মধ্যে কোনও চুক্তি না হলে ফের কার্যকর হবে ওই শুল্ক।

ভারতের তরফে আপাতত যেসব বিষয়ে আপত্তি রয়েছে, তার মধ্যে প্রধান হল কৃষিজ পণ্যে শুল্ক ছাড়। মার্কিন মাছ, ভুট্টা, সয়াবিন সহ একাধিক জিনিসের আমদানিতে ছাড় দিতে নারাজ ভারত। সেই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ভারত যেন আমেরিকান দুগ্ধ শিল্পের জন্য বাজার আরও উন্মুক্ত করে। কিন্তু ভারতে ৮ কোটিরও বেশি মানুষ যেহেতু এই ক্ষেত্রে কাজ করেন, সেই কারণে ভারত সরকার কোনও ছাড় দিতে নারাজ। অন্যদিকে ভারত চাইছে, রফতানির ক্ষেত্রে মার্কিন বাজারে আরও প্রবেশাধিকার—বিশেষ করে বস্ত্র, রত্ন ও গহনা, চামড়া এবং রাসায়নিক পণ্যে।

এই টানাপোড়েন মাঝেই বাণিজ্য মন্ত্রী গোয়েলের স্পষ্ট বার্তা, ভারত কখনও সময়সীমা দেখে চুক্তি করে না। চুক্তি হতে হবে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার ভিত্তিতে, দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন না করেই।

About Post Author