Home » স্বাধীনতা দিবসের আগে লালকেল্লায় এ কী কাণ্ড! দিল্লিতে গ্রেফতার ৫ বাংলাদেশি নাগরিক

স্বাধীনতা দিবসের আগে লালকেল্লায় এ কী কাণ্ড! দিল্লিতে গ্রেফতার ৫ বাংলাদেশি নাগরিক

সময় কলকাতা ডেস্ক:- স্বাধীনতা দিবসের আগে লালকেল্লায় শোরগোল! খোদ প্রধানমন্ত্রী যেখান থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন, সেই চত্বরে গ্রেফতার বাংলাদেশি। দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার চত্বরে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিক—এমনটাই দাবি করল দিল্লি পুলিশ। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, ওই পাঁচজনই অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, লাল কেল্লার ‘অ্যাক্সেস কন্ট্রোল পয়েন্টে’র কাছে মোতায়েন পুলিশের একটি দল গ্রেফতার করেছে পাঁচ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে।

গ্রেফতার হওয়া পাঁচজনের বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তারা দিল্লিতে শ্রমিকের কাজ করেন। তাঁদের থেকে বেশ কিছু বাংলাদেশি পরিচয়পত্র ও কাগজপত্র উদ্ধার হয়েছে। বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশি নথি মিলেছে বলেও দাবি দিল্লি পুলিশের। পাঁচজনই রাজধানীতে শ্রমিকের কাজ করতেন। আসন্ন স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য কড়া নিরাপত্তায় মহড়া চলছে লালকেল্লায়। সেই সময় এমন ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সিও ৫ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আসলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভিভিআইপি চত্বর লালকেল্লার নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে মক ড্রিলের আয়োজন করেছিল নিরাপত্তা বিভাগ। তারই অংশ হিসেবে সাদা পোশাকে জঙ্গিদের প্রবেশ করানোর কথা ছিল লালকেল্লায়। ছিল নকল বোমার ব্যবস্থা। লালকেল্লার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের বোকা বানিয়ে সেখানে প্রবেশ করতে সক্ষম হয় নকল ‘জঙ্গি’দের দল। শুধু তাই নয়, দ্বিস্তরীয় মেটাল ডিটেক্টরকে টপকে বোমা-সহ ঢুকে পড়ে জঙ্গির বেশে থাকা সাদা পোশাকের নিরাপত্তা আধিকারিকরা। লালকেল্লার মধ্যে নকল বোমা রাখা হলেও তার কোনও খোঁজ পায়নি সেখানে থাকা নিরাপত্তাবাহিনী।

মক ড্রিলে লালকেল্লার নিরাপত্তার এমন চূড়ান্ত অব্যবস্থা নজরে আসার পর নিরাপত্তা বিভাগের তরফে এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হয় দিল্লির নর্থ জেলার ডিসিপি রাজা ভাটিয়াকে। স্বাধীনতা দিবসের আগে লালকেল্লার এমন ভয়াবহ নিরাপত্তা গাফিলতির বিষয়টি সামনে আসার পর সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করেন ভাটিয়া। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৭ পুলিশকর্মীকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৫ আগস্ট এই লালকেল্লার মঞ্চ থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

সারা দেশের ভিভিআইপিদের সমাগম ঘটে এই জায়গায়। ফলে এই স্থানের নিরাপত্তার কড়াকড়ি যে কতখানি তা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। একাধিক স্তরে নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয় লালকেল্লা চত্বরে। নিরাপত্তার ঘেরাটোপ এতটাই হয় যে কোনও সন্দেহভাজন ক্ষুদ্র ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করতে পারে না, অস্ত্র তো দূরের কথা। সেখানেই বোমা নিয়ে সাজানো জঙ্গির প্রবেশের ঘটনায় স্তম্ভিত দেশ। দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ দেগে ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এ আসলে ‘বজ্র আটুনি ফস্কা গেরো’।

About Post Author