সময় কলকাতা , ২৪ জুন : সাধারণ রেললাইনে কখনও চলন্ত ট্রেনের সামনে এসে পড়েন এসে পড়েন নন্দী মহারাজ বা ষাঁড়, তবে বন্যপ্রাণী করিডোর বা জঙ্গল এলাকার রেললাইনগুলোতে লোকো পাইলটদের কাজ অনেক কঠিন, যখন-তখন সামনে এসে পড়ে গজরাজ। হাতি ও বন্যপ্রাণীদের বাঁচাতে ট্রেনের গতিসীমা নির্দিষ্ট রাখা হয়েছে, তবুও পাইলটদের কাজ সহজ নয় । অতীতে অসংখ্য হাতির ট্রেনের সংঘর্ষে মৃত্যু হলেও, বর্তমানে লোকো পাইলটরা বন্যপ্রাণী বাঁচাতে একের পর এক দৃষ্টান্ত গড়ছেন। চালকদের বিশেষ নজরদারি ও সতর্কতার কারণে লাইনে হরিণ, হাতি বা অন্যান্য বন্যপ্রাণী চলে এলেও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হচ্ছে। এবার এক ঝাঁক হরিণকে নাগরাকাটার কাছে নতুন জীবন দিলেন লোকোপাইলটদ্বয়, অবোধেশ- মনোহর।
চলন্ত ট্রেনের সামনে আচমকাই রেললাইনে উঠে পড়েছিল হরিণের একটি পাল। আর সেই দৃশ্য নজরে পড়তেই তৎপরতা দেখান লোকো পাইলট ও সহকারী লোকো পাইলট। তাঁদের উপস্থিত বুদ্ধি ও দ্রুত সিদ্ধান্তেই বড়সড় বিপদ এড়িয়ে নিরাপদে রক্ষা পেল বন্যপ্রাণীরা।রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল প্রায় ৮টা ৪০ মিনিট নাগাদ ১৫৪৬৭ আপ শিলিগুড়ি–বামনহাট ইন্টারসিটি ট্রেন চালসা ও নাগরাকাটা স্টেশনের মাঝামাঝি ৬৭/৬-৮ কিলোমিটার এলাকায় পৌঁছলে ট্রেনের ডিউটিতে থাকা লোকো পাইলট অবোধেশ কুমার এবং সহকারী লোকো পাইলট মনোহর কুমার রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করতে থাকা হরিণের একটি পাল দেখতে পান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তাঁরা সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। যার ফলে হরিণের পালটি নিরাপদে রেললাইন পার হয়ে যায় এবং বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। রেলকর্মীদের এই তৎপরতা ও বন্যপ্রাণের প্রতি সংবেদনশীল ভূমিকা এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে। বনাঞ্চল লাগোয়া এই রেলপথে প্রায়শই বন্যপ্রাণীর আনাগোনা দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে ট্রেনচালকদের এই সতর্কতা ফের একবার প্রমাণ করল, শুধু যাত্রী নিরাপত্তাই নয়, বন্যপ্রাণ রক্ষাতেও সমানভাবে দায়িত্বশীল ভারতীয় রেল।।


More Stories
উদয়নের হেলমেট নেই, আছে চোর স্লোগান
হেলমেট নেই, পুলিশের হাতে হোমগার্ডের জরিমানা
ওঝার মারে রোগীর মৃত্যু, গ্রেফতার ২