Home » কল্যাণের ইস্তফা গ্রহণ করে নিলেন মমতা!

কল্যাণের ইস্তফা গ্রহণ করে নিলেন মমতা!

সময় কলকাতা ডেস্ক:- অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা হচ্ছেন, এই ঘোষণা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই তৃণমূলের একাংশে কৌতূহলের স্রোত বয়ে গেছিল— এ বার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কী হবে? কারণ কল্যাণ হলেন লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক। সভায় দলনেতার কথা শুনেই মুখ্য সচেতককে চলতে হয়।

তাই প্রশ্ন ওঠে, কল্যাণ কি অভিষেকের নেতৃত্ব মেনে নেবেন, নাকি অভিষেকই চাইবেন না কল্যাণ মুখ্য সচেতক থাকুক। এই সব জল্পনা যখন সবে শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই জানা যায় যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।

তবে তার কিছুক্ষণের মধ্যেই জানা যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে শান্ত করতে আসরে নেমেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক কল্যাণকে ফোন করে নিরস্ত করেন। বুধবার সন্ধেয় দিল্লি যাওয়ার কথাছিল অভিষেকের। তার পর বৃহস্পতিবার কল্যাণের সঙ্গে আলোচনা করার কথা ছিল তাঁর।

তবে তার আগেই মঙ্গলবার লোকসভায় তৃণমূলের চিফ হুইপের পদ থেকে কল্যাণের সেই ইস্তফাপত্র দ্রুত গ্রহণ করে নিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শুধু তাই নয়, এরপরই দলের তরফে লোকসভায় চিফ হুইপ হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং উপ দলনেতা হিসেবে শতাব্দী রায়ের নাম ঘোষণা করা হল। অভিষেক বলেছিলেন, ‘ধৈর্য্য ধরুন’!

তবে ইস্তফা গ্রহণ করে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা থেকে কার্যত এটা স্পষ্ট, কল্যাণের ওপরে বেজায় রুষ্ট দলনেত্রী। সেকারণে অভিষেকের অনুরোধের পরও তিনি কল্যাণের ইস্তফা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনও দেরি করলেন না। সোমবারই ইস্তফার পর যখন কল্যাণকে নিয়ে আলোচনা চলছে রাজ্য-রাজনীতিতে, তখনই সেই চর্চায় ঘি ঢালে শ্রীরামপুরের সাংসদের এক্স পোস্ট।

মহুয়ার উদ্দেশে কড়া ভাষায় বলেন, ২০২৩ সালে ও যখন বিজেপির আক্রমণের মুখে পড়েছিল, তিনি পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আজ সেই মহুয়া তাঁর নামে অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ করছে। আসলে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রর সঙ্গে শ্রীরামপুরের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক কাদা ছোড়াছুড়ি বিতর্কের জেরেই লোকসভায় দলের দায়িত্ব থেকে কল্যাণ অব্যাহতি চেয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকেই।

তাঁর মূল আপত্তি, লোকসভায় দলের হয়ে যাবতীয় কাজ সামলান তিনি, অথচ কৃতিত্ব নিয়ে যান ‘ইংরাজি বলা সুন্দরী’ সাংসদ।

তবে বিতর্ক যাই হোক না কেন, কল্যাণের এই ইস্তফা যতটা না মহুয়ার বিরুদ্ধে, তার চেয়েও বেশি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশেই বার্তা। দীর্ঘদিন লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক হিসেবে কাজ করেছেন কল্যাণ।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর তিনি নিজেই হয়তো আশা করেছিলেন, এবার দিল্লিতে দলনেতার দায়িত্ব উঠবে তাঁর কাঁধেই। চারবারের সাংসদ কল্যাণ দিল্লির রাজনীতিতে এক চেনা মুখ।

সদ্য লোকসভা ভোটের পরে টাইপ সেভেন বা টাইপ এইট গোত্রের সরকারি বাংলোও পেয়েছেন তিনি— যা সাধারণত চারবারের সাংসদদের ভাগ্যে জোটে না।

স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, লোকসভার দলনেতা না হয়েই কি ক্ষুব্ধ হলেন কল্যাণ?

আসলে লোকসভায় মুখ্য সচেতক হিসেবে কাজ করতে গেলে দলনেতার অধীনেই থাকতে হয়। অর্থাৎ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কাজ করা— এই সিদ্ধান্তে সম্মত নন শ্রীরামপুরের প্রবীণ সাংসদ।

তাই আগেভাগেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে পদত্যাগ করে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে তা গ্রহণও করে নিয়েছেন দলনেত্রী। কল্যাণ-মহুয়া ঠান্ডা লড়াই নতুন কিছু নয়।

তবে এই পর্বে তা গড়িয়েছে প্রকাশ্য সংঘাতে। প্রশ্ন উঠছে, ২০২৬-এর আগে কি এই সংঘাত আরও তীব্র হবে?

না কি অভিষেকের হস্তক্ষেপে আপাতত চাপা পড়বে কল্যাণের অভিমান?

চর্চা তুঙ্গে।

নতুন দায়িত্বের জন্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শতাব্দী রায়কে এক্স হ্যান্ডল পোস্টে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মহুয়া মৈত্র।

About Post Author