Home » মুখ্য সচিবকে দিল্লিতে তলব নির্বাচন কমিশনের, বুধবার বিকেল ৫টার মধ্যে হাজিরার নির্দেশ

মুখ্য সচিবকে দিল্লিতে তলব নির্বাচন কমিশনের, বুধবার বিকেল ৫টার মধ্যে হাজিরার নির্দেশ

সময় কলকাতা ডেস্ক:- নবান্ন বনাম নির্বাচন কমিশনের সংঘাত চরমে। সোমবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত ছিল ডেডলাইন। রাজ্য সরকারের চার অফিসার সহ মোট পাঁচ কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার সুপারিশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। তাঁদের সাসপেন্ড করার সুপারিশও করা হয়েছিল।

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর সোমবার রাজ্যের মুখ্যসচিব কমিশনকে যে চিঠি দেন, তা থেকে স্পষ্ট, কোনও কর্মীর বিরুদ্ধেই কোনও কড়া পদক্ষেপ করেনি রাজ্য সরকার। অর্থ্যাত্, ভোটের কাজে অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন যে চার জন অফিসারকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছিল, তা এখনই মানেনি নবান্ন।

তবে হ্যাঁ, আগের তুলনায় সুর কিছুটা নরম করে এবং কৌশলগত ভাবে ২ জনকে ভোটার তালিকা তৈরি বা নির্বাচনী কাজকর্ম থেকে তুলে নেয়। আর সেই ‘আজ্ঞা অমান্য’ নিয়েই এবার রাজ্যকে জবাবদিহির মুখে ফেলল কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে দিল্লিতে হাজিরা দিতে বলেছে কমিশন। মুখ্যসচিবকে তলব করে নির্বাচন কমিশনের তরফে পাঠানো হয়েছে নোটিস। জানা যাচ্ছে, বুধবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে কমিশনের মুখোমুখি হাজির হতে হবে।

ঠিক কী হয়েছিল?

দেশ জুড়ে এসআইআর বা নিবিড়ি ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলছে। এই কাজে রাজ্যের চার নির্বাচনী কর্মী এবং এক অস্থায়ী কর্মীর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। সেই ভিত্তিতেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন তাঁদের সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেয়। বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে।

নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে ওই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। যদিও কমিশনের এই ভূমিকার সমালোচনা করে প্রকাশ্য সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, কোনও কর্মীকে সাসপেন্ড করা হবে না। এমনকী ভোট ঘোষণার আগে কমিশনের এই তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এরপরই কমিশনের সিদ্ধান্ত না মেনে রাজ্য প্রশাসন ওই কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না করে শুধুমাত্র দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। শাসক দলের ধারণা ছিল, চার জন অফিসারকে সাসপেন্ড করলেই অফিসার মহলে ক্ষোভ শুরু হয়ে যাবে। তাই আপাতত সরকার অনড় থাকে। আবার নির্বাচন কমিশন যাতে এখনই আর কড়া পদক্ষেপ করতে না পারে সে জন্য অভ্যন্তরীণ তদন্ত হবে বলে একটা দীর্ঘমেয়াদি করে ঝুলিয়ে রাখল।

আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল, দুই ডব্লিউবিসিএস এক্সিকিউটিভ অফিসারের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপই করা হয়নি। বরং সরানো হয় শুধু অধঃস্তন এক কর্মচারীকে। আর ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এমনিতেই কন্ট্রাকচুয়াল স্টাফ। ফলে রাজ্যের এই পদক্ষেপে যে সন্তুষ্ট হয়নি কমিশন, তা কার্যত স্পষ্ট। নির্বাচন কমিশনের মতে, এটি তাদের নির্দেশের লঙ্ঘন।

নির্বাচন কমিশনের মতে, এটা শুধুই নির্দেশ না মানা নয়, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদার প্রশ্ন। তাই মুখ্যসচিবকে সরাসরি ডেকে পাঠিয়ে, কেন নির্দেশ মানা হল না, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কমিশনের সম্পর্ক নিয়ে জটিলতা আরও বাড়তে পারে। এখন দেখার মুখ্যসচিব কমিশনের ডাকে সাড়া দিয়ে দিল্লিতে হাজির হন নাকি রাজ্যের তরফে অন্য কোনও পদক্ষেপ করা হয়।

About Post Author