Home »  নন্দীগ্রাম শহীদ দিবস কার? শাসক বিরোধী তরজা তুঙ্গে

 নন্দীগ্রাম শহীদ দিবস কার? শাসক বিরোধী তরজা তুঙ্গে

সময় কলকাতা ডেস্ক: নন্দীগ্রাম শহীদ দিবস কার? কারা জানাবেন শ্রদ্ধা? শাসক দল তৃণমূল আর বিরোধী বিজেপির মধ্যে শুরু রাজনৈতিক তরজার সাক্ষী রইল নন্দীগ্রামের শহীদ বেদী । ২০০৭ সালের  ১৪ ই মার্চ অর্থাৎ এই দিন নন্দীগ্রামে গুলি চালিয়েছিল পুলিশ। সেই সময় অভিযোগ উঠেছিল পুলিশের ছদ্মবেশে। বহু বহিরাগত এসে নন্দীগ্রামে জমি দখল করতে তৎপর হয়েছিল। সংঘর্ষ হয়েছিল গ্রামবাসীদের সঙ্গে পুলিশ আর বহিরাগতদের। প্রাণ গিয়েছিলে বহু মানুষের তারপর ২০০৮ সাল থেকে এই দিনটিকে পালন করা হয় নন্দীগ্রাম দিবস হিসেবে। আর পালন করে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি। এদিন এই শহীদ দিবস আলাদা আলাদা ভাবে পালন করার কর্মসূচি নিয়েছিল শাসকদল তৃণমূল আর বিরোধীদল বিজেপি।

নন্দীগ্রাম দিবসে জোড়া কর্মসূচি নিয়েছে শাসক দল। গোকুলনগরের মাল পল্লীতে শহীদ বেদীতে মাল্যদান করে হরি নাম সংকীর্তনের আয়োজন করেছে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব। পরে সোনাচূড়ার ভাঙ্গা বেড়াতেও শহীদ বেদীতে মাল্যদান করে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে দোলা সেন ,কুণাল ঘোষ, শেখ সুফিয়ান,পাঁশকুড়া পশ্চিম তৃণমূলের বিধায়ক ফিরোজা বিবি নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি ও ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির অন্যতম নেতৃত্ব স্বদেশ রঞ্জন দাস সহ প্রমুখ।


অন্যদিকে নিজেদের জেতা জমিতে কাউকে ভাগ দিতে নারাজ গেরুয়া শিবির। বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্রমেদিনী অনেকটা যেন এমনই মনোভাব নন্দীগ্রাম বিজেপি নেতৃত্বের। নন্দীগ্রামের গণহত্যার বর্ষপূর্তিতে বিজেপি ও নিয়েছে জোড়া কর্মসূচি। সেই মোতাবিক সকালেই গোকুলনগর শহীদ বেদীতে তৃণমূলের অনুষ্ঠানের পর বিজেপির পক্ষ থেকে শহীদ বেদীতে মাল্যদান সহ একাধিক কর্মসূচির প্রস্তুতি নেয় বিজেপি নেতৃত্ব। শহীদ বেদীতে তৃণমূলের থাকা মালা এবং ফুল পরিষ্কার করে নিজেদের অনুষ্ঠান শুরু করার মুহূর্তেই বাঁধে গন্ডগোল।

তৃণমূলের অভিযোগ শহীদ বেদী থেকে তাদের ফুল ও মালা খুলে ফেলে দেয় বিজেপি নেতৃত্ব। ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয় ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির অন্যতম নেতৃত্ব স্বদেশ রঞ্জন দাস সহ একাধিক তৃণমূল কর্মীরা। তৃণমূল এবং বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা দুই দিকে দুই পক্ষ দাঁড়িয়ে লাগাতা শ্লোগান দিতে থাকে। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশবাহিনী এসে দু’পক্ষকেই ঠান্ডা করার চেষ্টা করে । স্বদেশ রঞ্জন দাস বলেন, শহীদ বেদীতে মাল্যদান যে কেউ করতে পারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন কোন রাজনৈতিক রঙ দেখে করা উচিত নয়। কিন্তু বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবেই শহীদ বেদী থেকে তাদের মালা এবং ফুল খুলে ফেলেছে। অপরদিকে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা লাগাতার জয় শ্রীরাম ধ্বনিতে স্লোগান দিতে থাকে।


ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে শুভেন্দু অধিকারী যখন মাইক নিয়ে বক্তব্য রাখছেন তখন অন্যদিকে আরেকটি মঞ্চে তৃণমূলের মহিলা সমর্থকরা শুভেন্দু অধিকারী গো ব্যাক লেখা পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। শহীদ তুমি কার? আগে নন্দীগ্রামে লড়াই হয়েছিল ভূমি উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে, আর এখন রাজনৈতিক দলের লড়াই শুরু হয়েছে শহীদ দিবসের দখলদারিকে কেন্দ্র করে । যদিও শহীদ মাতা ফিরোজা বিবির মতে শহীদ দিবস নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন একেবারেই কাম্য নয়। কিন্তু রাজনীতি এখন সমাজের সর্বস্তরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে ।ফলে রাজনীতি থেকে এদিন রক্ষা পেল না নন্দীগ্রামের শহীদ বেদী।

About Post Author