Home » মুখ্যমন্ত্রী না বললে কি দুষ্কৃতীকে ধরা হবে না? প্রশ্ন তুলে দিলেন তৃণমূল বিধায়ক

মুখ্যমন্ত্রী না বললে কি দুষ্কৃতীকে ধরা হবে না? প্রশ্ন তুলে দিলেন তৃণমূল বিধায়ক

সায়ন মোদক , নদীয়া, সময় কলকাতা :- বগটুই গণহত্যাকাণ্ডের পরে রামপুরহাট পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেতেই পুলিশ যেন কোমর বেঁধে  দুষ্কৃতী দমনে নেমেছে রামপুরহাটে। অথচ একশো তিরিশ কিলোমিটার দূরের মুড়াগাছা গুলিকাণ্ডে পুলিশ আদৌ সক্রিয় নয়, এমনটাই অভিযোগ তুলছেন তৃণমূলেরই প্রাক্তন বিধায়ক। মুড়াগাছায় তৃণমূল নেতার গুলিকাণ্ডের প্রসঙ্গে সমীর কুমার পোদ্দার এও জানিয়েছেন, অধরা দুষ্কৃতী গ্রেপ্তার না হলে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি জানাতে বাধ্য হবেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে,মুখ্যমন্ত্রী না বললে পুলিশ কি ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে থাকাই শ্রেয় মনে করে?

বুধবারের নদীয়ার বগুলায় পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী সহদেব মন্ডলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় দ্বিধাবিভক্ত নদীয়া তৃণমূল নেতৃত্ব। গুলিকান্ডের একদিনের ব্যবধানে, একদিকে জেলা নেতৃত্বের একাংশ যখন নিহতের পরিবারবর্গকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিচ্ছেন তখন নেতৃত্বের একাংশ ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার কথা বলে।

বুধবার রাতেই তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমস্যার স্বামীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। আক্রান্ত তৃণমূল নেতা হাঁসখালি দুই নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মুড়াগাছার বাসিন্দা ।তাঁর স্ত্রী অনিমা মন্ডল তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য।বুধবার রাতে সহদেব মন্ডল যখন বাড়ি ফিরছিলেন তখন ওই এলাকারই বেলতলা পাড়ার স্কুল মাঠের কাছে হঠাৎ কয়েকজন দুষ্কৃতী তাকে ঘিরে ধরে এবং মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তৃণমূল নেতা সহদেব মন্ডল। গুলির আওয়াজ পেয়ে এলাকার মানুষ ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।সহদেব মন্ডল আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল,একযোগে জানিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। স্রেফ দুষ্কৃতী দমনে পুলিশি সক্রিয়তার বিষয় নিয়ে তাঁরা একমত নন। নাহ’লে কি আর প্রাক্তন বিধায়ক দুষ্কৃতী গ্রেপ্তারে পুলিশি ব্যর্থতায় মুখ্যমন্ত্রীর নাম জপ করেন?

বগুলা মুড়াগাছা দরগাতলার বাড়িতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দেখা করতে আসছেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।পরিবারের পাশে থেকে দুষ্কৃতীদের শাস্তির দাবী তুলছেন তাঁরা । তথাপি এরমধ্যেও তাঁদের একাংশ তুলছেন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন।এদিন সকালে মুড়াগাছায় সহদেব মন্ডলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন হাঁসখালি ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শিশির রায়, প্রাক্তন বিধায়ক সমীর কুমার পোদ্দার, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মুনমুন বিশ্বাস, হাঁসখালি ১ নম্বর ব্লকের যুব সভাপতি সুবীর বিশ্বাস এবং দু’নম্বর ব্লক সভাপতি বিপিন সাধুখাঁ, সহ জেলা এবং ব্লক তৃণমূলের উচ্চ নেতৃত্ব। এদিন পারিষদ সহ আসেন নদীয়া দক্ষিণ জেলা সাংগঠনিক তৃণমূল সভাপতি রত্না ঘোষ কর । সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান , প্রচুর পরিমাণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এই এলাকায় এবং তদন্ত শুরু হয়েছে জোর কদমে, তিনি আশাবাদী দুষ্কৃতীকে অল্প সময়ের মধ্যেই ধরতে সক্ষম হবে প্রশাসন। বিজেপিকে মূলত দায়ী করে তিনি জানান , এসব ঘটনা বিরোধীদের চক্রান্ত যা দিয়ে বাংলা যে অশান্ত সেকথা বোঝানোর চেষ্টা চলছে। যদিও পুলিশি তৎপরতা নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুতে অবস্থান রানাঘাট উত্তর পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সমীর কুমার পোদ্দারের। তিনি জানিয়েছেন একদিন কেটে গেলেও অধরা দুষ্কৃতী। তাঁর মতে, আক্রান্তকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেয় মূল অভিযুক্ত। হাঁসখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও এখনো বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে ওই দুষ্কৃতী।অবিলম্বে পুলিশ দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার না করলে বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

অর্থাৎ নদীয়াতেও যেন ঘুরে ফিরে চলে আসছে রামপুরহাটের বকটুইয়ের জতুগৃহ প্রসঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মিলতেই রামপুরহাটে পুলিশ শুরু করেছে তৃণমূল ব্লক সভাপতি আনারুল সহ অভিযুক্তদের ধরপাকড় অভিযান। প্রশ্ন উঠতেই পারে, মুখ্যমন্ত্রী না নির্দেশ দিলে অভিযুক্তদের ধরার উদ্যোগ নিতে কেন সাহস দেখায় না পুলিশ? নদীয়ার হাঁসখালি গুলিকাণ্ডে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সমীর কুমার পোদ্দার কিন্তু মৌচাকে ঘা দিয়েছেন।

About Post Author