অরূপ ভট্টাচার্য, সময় কলকাতা : চৈত্রের শুরু থেকেই ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে তাপমাত্রা। ভ্যপসা গরমের কারণে শীতঘুম কাটিয়ে গর্তের নিরাপদ আশ্রয় থেকে বেরোতে শুরু করেছে সাপেরা। ফি বছরই গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে শুরু করে সাপের কামড়ে রোগীর সংখ্যা।এই সময়ে সারাদিনের দাবদাহের পর মূলত ভোরের দিক ও সন্ধ্যার পর ফুরফুরে ঠাণ্ডা হাওয়া বইতে দেখা যায়। তাই ফুরফুরে হাওয়ায় শরীরকে শান্ত করতে আমরা উঠোন, রাস্তার ধারে বা ফাঁকা জায়গায় বসে জিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। ওই সময় সাপেরা তাদের গোপন আস্থানা থেকে বেরিয়ে আসে হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে।ফলে সাপের কামড়ের মুখে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। তাই সাপ সম্পর্কে কয়েকটি সহজ তথ্য জেনে রাখা জরুরি

সাপ বিষধর না বিষহীন, তা বুঝবেন কেমন করে?

এমন বিষ শরীরে প্রবেশ করলে যে লক্ষণগুলি প্রথমেই দেখা যায় ?
সাপের বিষ শরীরে ঢুকলে শরীর আস্তে আস্তে অবশ হতে থাকবে।
যেখানে সাপ কামড়েছে তা প্রবল জ্বালা করতে শুরু করবে। আর এই জ্বালা বাড়তে থাকবে।
ক্ষতস্থান ক্রমাগত ফুলে উঠবে। আশেপাশের সমস্ত কিছু ঝাপসা দেখতে শুরু করবেন।
ঢোক গিলতে গেলে অসুবিধা হবে। মাথাঘোরা, বমি ভাব থাকবে।

বিষধর সাপ কামড়ালে কী করা উচিত?
সবার আগে সাপের কামড় খাওয়া মানুষকে আশ্বস্ত করবেন। সাপের কামড় মানেই মৃত্যু নয়, তা বোঝাতে হবে।
ক্ষতস্থান খুব সাবধানে পরিষ্কার ভেজা কাপড় বা জীবাণুনাশক লোশন দিয়ে মুছে দেবেন।
শরীরের বাকি স্থানে যাতে বিষ ছড়াতে না পারে, তার জন্য ক্ষতস্থানের উপরের অংশ বেঁধে দিতে হবে।
রোগীকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাছের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সম্ভব হলে কোন প্রজাতির সাপ কামড়েছে। তা জানার চেষ্টা করবেন।

সাপের বিষ শরীরে প্রবেশ করলে কী কী করবেন না?
ক্ষতস্থানটি বেশি নড়াচড়া করবেন না। এতে বিষ দ্রুত ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে।
ধারাল অস্ত্র দিয়ে কেটে ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাত করানোর চেষ্টা করবেন না।
চুষে বিষ বের করার চেষ্টাও কখনও করবেন না।
অ্যাসিড জাতীয় কিছু জিনিস দিয়ে ক্ষতস্থান পোড়ানোর চেষ্টা করবেন না।
ক্ষতস্থানে চুন বা গাছ-গাছড়ার রসও দেবেন না।
জোর করে বমি করানোর চেষ্টা করানোও উচিত নয়।
বিষধর হোক বা বিষহীন, সাপের কামড় খেলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। অযথা ভয় পাবেন না বা না জেনে নিজে নিজে চিকিৎসা করতে যাবেন না।


More Stories
নেশামুক্তি কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন তরুণীকে গণ*ধ*র্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার কর্ণধার
তৃণমূল আমলের প্রকল্পের বেহাল দশা, দুর্গন্ধ ঘুরপাক খাচ্ছে হরিশ্চন্দ্রপুরের বাতাসে
রক্ত পাচারের অভিযোগ বেসরকারি ব্লাড ব্যাংকের বিরুদ্ধে