Home » ফিল্মি কায়দায় মুক্তিপণ চেয়ে গ্রেপ্তার ২ অভিযুক্ত!

ফিল্মি কায়দায় মুক্তিপণ চেয়ে গ্রেপ্তার ২ অভিযুক্ত!

সময় কলকাতা ডেস্কঃ ফিল্মি কায়দায় এক ব্যক্তিকে অপহরণ করার পর মুক্তিপণ চেয়ে গ্রেপ্তার করা হল দুই অভিযুক্তকে।নদীয়ার কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ, করিমপুরের মুরুটিয়া থানা এবং চাকদা থানার পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ওই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।ধৃত ওই দুই অভিযুক্তের নাম অভিজিৎ ঘোষ ও দেবাশীষ সাহা।তাঁদের বাড়ি চাকদা থানা এলাকায়।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, করিমপুরের মুরুটিয়া থানা এলাকার বাসিন্দা লালটু শেখ।রবিবার তাঁর কাছে হঠাৎই একটি ফোন আসে।ফোন করে তাকে দরকার আছে বলে চাকদা ডাকা হয়।এরপর সে আসতেই অভিযুক্তরা তাঁকে আটকে রাখে। অভিযোগ, মুক্তিপণের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা চেয়ে তাঁর বাড়িতে ফোন করে অভিযুক্তরা। শুধু তাই নয়, মুক্তিপণের জন্য প্রাপ্য টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেয় তারা।এরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে করিমপুরের মুরুটিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

লাল্টু শেখের স্ত্রী হাসিনা বিবি পুলিশকে জানান, মুক্তিপণের জন্য তার স্বামীর কাছে মোট ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা চেয়েছেন ধৃত ওই দুই ব্যক্তি।এরপর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে করিমপুরের মুরুটিয়া থানার ওসির নেতৃত্বে তদন্তে নামে পুলিশ।তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে অপহরণকারীরা চাকদার রামেশ্বরপুরের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় লালটু শেখকে আটকে রেখেছে।এরপরই করিমপুরের মুরুটিয়া থানার পুলিশ, কৃষ্ণনগর থানার পুলিশ এবং চাকদা থানার পুলিশের পক্ষ থেকে যৌথ অভিযান চালিয়ে অপহরণ হওয়া ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়।পাশাপাশি অভিযুক্তদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ করিমপুরের মুরুটিয়া থানায় নিয়ে আসেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত অভিজিৎ ঘোষের দাদা ও লাল্টু শেখ একসাথেই মালয়েশিয়ায় কাজ করতেন। সেখানে লাল্টু শেখ অভিজিৎ এর দাদার কাছ থেকে ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা ধার নিয়ে বাড়ি চলে এসেছেন।কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই টাকা চাওয়ার পরেও ফেরত দেয়নি লাল্টু শেখ।যার ফলে হাতে টাকা না থাকায় মালয়েশিয়া থেকে বাড়ি ফিরতে পারছিলেন না অভিজিতের দাদা।এরপরই টাকা আদায় করার জন্য এক ভয়ঙ্কর প্ল্যান করে রামেশ্বরপুরের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় ডেকে নিয়ে আসা হয় লাল্টু শেখকে। এরপর সেখানেই আটকে রেখে মুক্তিপণের জন্য বিশাল অঙ্কের টাকা চাওয়া হয়।
ইতিমধ্যেই পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।অভিযুক্তদের মঙ্গলবার অর্থাৎ আজ তেহট্ট মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।পুলিশ যদি সময়মতো ঘটনাস্থলে না পৌঁছালে প্রাণঘাতীর ঘটনা ঘটতে পারতো বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।তবে অভিযুক্তরা শুধু কি টাকার জন্যই এই ধরনের কার্যকলাপ ঘটিয়েছে নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

About Post Author