সময় কলকাতা ডেস্ক: বসিরহাট ১নং ব্লকের নিমদাঁড়ি-কোদালিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যমপুরে ২ নম্বর রাজ্য সড়ক পাশে একটি বেসরকারি সংস্থার পাথরের প্ল্যান্ট বসেছে। একদিকে বড় পাথর ভেঙে ছোট স্টোন চিপ্স বা খোয়া তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে বিটুমিন পুড়িয়ে পাকা রাস্তার জন্য কাঁচামাল তৈরি করার কাজ চলছে। ফলে একদিকে পাথরের ধুলো ঝড় অন্যদিকে বিটুমিনের পোড়া ধোঁয়া। এই দুই সাঁড়াশি আক্রমণে বিদ্ধ হচ্ছেন মধ্যমপুর, গুলাইচন্ডী, নারায়ণপুর, পতিলাচন্দ্র ও ঘুঁসুড়ী সহ একাধিক গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। লাগাতার পাথর গুড়োর ধুলো ঝড়ে তারা এখন সিলিকোসিস আতঙ্কে ভুগছেন।

গ্রামবাসীরদের অভিযোগ, ওই প্ল্যান্টের কাজ শুরু হতেই একটানা ধুলোঝড়ে গ্রামে থাকা দুষ্কর হয়ে পড়ছে। নাকে মুখে সব সময় পাথরের গুঁড়ো ধুলো যাচ্ছে। এমনকি বাড়ি ঘর ও রান্না করা খাবারেও পাথরের ধুলোয় ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষতির মুখে পড়েছে এলাকার শিশুরা। তারা বাইরে বেরোতে পারছে না। বাইরে বেরোলেই পাথরের ধুলো তাদের চোখে ও নাকে ঢুকে জ্বালার সৃষ্টি করছে। তার ফলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি বিটুমিন পোড়ানোর ফলে দূষিত দুর্গন্ধযুক্ত ধোঁয়ায় ছেয়ে যাচ্ছে গোটা গ্রাম। তার ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস দিতেই চরম বিপাকে পড়ছেন এই গ্রামের মানুষজন।ফলে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার বাসিন্দারা

ইতিমধ্যে গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে বেশ কয়েকবার ওই প্লান্টের আধিকারিকদের সাথে কথা বলতে গিয়েও নিরাশ হয়ে ফিরেছেন। প্লান্ট কর্তৃপক্ষ কোনমতেই কাজ বন্ধ করতে রাজি নয়। কিন্তু গ্রামবাসীরা চাইছেন অবিলম্বে এই কাজ বন্ধ হোক।

এলাকার মানুষ ধুলো নিয়ে অভিযোগ করলেও তা কার্যত অস্বীকার করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। কারখানার ম্যানেজারের দাবি নিয়ম মেনেই কাজ হচ্ছে দাবি, বেসরকারি প্লান্টের ম্যানেজার সমীরণ সরকারের।গ্রামের মধ্যেই এই ধরনের প্লান্ট বসলো কি করে? একের পর এক গ্রামের মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ার পরেও কিভাবে দিনের পর দিন সেই প্ল্যান্ট সচল রয়েছে তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি