Home » ফের প্রকাশ্যে মালদহে বন্যাত্রাণ কেলেঙ্কারি!

ফের প্রকাশ্যে মালদহে বন্যাত্রাণ কেলেঙ্কারি!

সময় কলকাতা ডেস্কঃমালদহের বরুই গ্রাম পঞ্চায়েতের বন্যা ত্রাণ কেলেঙ্কারি ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক এলাকার কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের ২০১৭ সালের বন্যার ত্রাণের টাকা নয় ছয়ের অভিযোগ। অভিযোগ,২০১৭ সালের বন্যা ত্রাণের টাকা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থদের একাউন্টে না দিয়ে সরাসরি কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী সহ একাধিক পঞ্চায়েত সদস্যের একাউন্টে টাকা দেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের তিনজন বিজেপি সদস্যের একাউন্টে বেআইনি ভাবে ক্ষতি-পূরণের টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ।অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী, উপ-প্রধান সহ তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যরা নিজেদের একাউন্টে পাওয়া ত্রাণের টাকা ফেরত দিতে শুরু করেছেন।এ বিষয়ে জেলাশাসক সহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে আশানুরূপ ফলাফল না হওয়াতে এলাকার অভিযোগকারী সিপিআইএম নেতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের সিপিএম নেতার অভিযোগ,কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী আব্দুল রশিদ,গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান তথা তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি নুর আজম,এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য অলক পোদ্দার, অলোক বাবুর স্ত্রী এবং পুত্র সহ ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের তিন বিজেপি সদস্যের একাউন্টে ২০১৭ সালের বন্যা ত্রাণে ক্ষতিবগ্রস্থদের বিশাল অঙ্কের টাকা দেওয়া হয়েছে।এমনকি ক্ষতিগ্রস্তদের অ্যাকাউন্ট নম্বরের নাম বদলে এই বেআইনি কাজ করেছেন অভিযুক্তরা।শাসক দলের নেতাদের বড় বড় বাড়ি রয়েছে এবং যে সমস্ত অঞ্চলে তাদের বাড়ি সেখানে বন্যার জল প্রবেশই করেনি। অথচ প্রকৃত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় মানুষেরা কোনো টাকাই পাননি।প্রশাসনের দরজায় দরজায় একাধিকবার ঘুরেও তারা কেন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন গ্রামবাসীদের একাংশ।

যদিও অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান আখতারী খাতুনের স্বামী আব্দুল রশিদের এ বিষয়ে জানান,’ভুলবশত টাকা ঢুকে ছিল সেটা আমরা ফেরত দিয়েছি।’অন্যদিকে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের বিডিও অনির্বাণ বসু জানান,’অভিযোগ পেয়েছি, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ প্রসঙ্গে জেলা বিজেপি সম্পাদক কিষাণ কেডিয়া জানান ,’বিজেপি দুর্নীতিকে কখনই প্রশ্রয় দেয় না।এই ঘটনার সঙ্গে দলের যারা জড়িত ছিল,আমরা খবর পাওয়া মাত্রই তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করেছি।আমাদের দাবি অবিলম্বে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থদের টাকা দিতে হবে।’পাশাপাশি তিনি কটাক্ষ করে বলেন ‘তৃণমূলের সরকার মানেই কাটমানির সরকার।’


উল্লেখ্য,বেশ কিছুদিন আগেই হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতি এবং বরুই গ্রাম পঞ্চায়েতের বন্যা ত্রাণ দুর্নীতি নিয়ে হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছিল। হাইকোর্টের নির্দেশে ইতিমধ্যেই ওই মামলায় অভিযুক্ত তৃণমূলের প্রধান সহ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য এবং এলাকার এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।পরে আদালতের নির্দেশে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

About Post Author