Home » রক্তঝরা টেক্সাস : যদি প্রেম দিলে না প্রাণে

রক্তঝরা টেক্সাস : যদি প্রেম দিলে না প্রাণে

রক্তঝরা টেক্সাস (দ্বিতীয় পর্ব )

কেন এই ক্রমবর্ধমান কিশোর অপরাধ?

“আঠরো বছর বয়স ভয়ঙ্কর
তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা,
এ বয়সে প্রাণ তীব্র আর প্রখর
এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা।”
                            –  সুকান্ত ভট্টাচার্য

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা :    কিশোর অপরাধ ক্রমবর্ধমান। যুক্তরাষ্ট্রে কিশোর অপরাধ এমন চূড়ান্ত পর্যায় ছুঁয়েছে যে তাদের অপরাধ আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। টেক্সাস তো আবার বরাবরই যেন অপরাধের আতুরঘর।

বিজ্ঞানী বিসলার বলেছিলেন যে  কিশোর অপরাধ হলো প্রচলিত সামাজিক নিয়মকানুনের উপর অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরদের অবৈধ হস্তক্ষেপ। পরিবার কাঠামোর দ্রুত পরিবর্তন, শহর ও বস্তির ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ এবং সমাজজীবনে নৈরাজ্য ও হতাশা কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।অল্প বয়সে ছেলেমেয়েদের সামনে থাকে অদম্য আশা আর জীবন জগৎ সম্পর্কে থাকে আগ্রহ। প্রতিকূল পরিবেশের কারণে আশাভঙ্গের বেদনায় হতাশার কারণে নৈরাশ্যের অন্ধকারে পতিত হয় তাদের জীবন।অপ্রাপ্তির অন্ধকারে কিশোর বয়সীরা ধীরে ধীরে অপরাধপ্রবণ হয়ে পড়ে। আর এমনটাই হয়েছিল টেক্সাসের ১৮ বছরের কিশোর সালভাদর ৱ্যামোসের ক্ষেত্রে। জীবনে আশাভঙ্গ ঘটায় ভয়ঙ্কর অপরাধের পথ নেয় সে। দুটি আগ্নেয়াস্ত্র সহ হামলা চালায় টেক্সাসের রব এলিমেন্টরি স্কুলে ।যার ফলশ্রুতি প্রাণ যায় স্বয়ং ৱ্যামোস সহ একুশ জনের যার মধ্যে আঠেরো জনই খুদে পড়ুয়া। কেন এরকম পথ নিল সে?

সপ্তাহ খানেক টেক্সাসের স্কুলে হামলার আগে তার একসময়ের এক সহপাঠীকে বন্দুক ও গোলাবারুদের ছবি পাঠিয়েছিল সালভাদর ৱ্যামোস।ওই সহপাঠীর বক্তব্য,নিজের পোশাক এবং পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য রামোসকে অন্যদের কটূক্তির শিকার হতে হয়েছিল। একপর্যায়ে ক্লাসে তার উপস্থিতি কমে যায়। পরে স্কুল ছাড়তে হয় ৱ্যামোস । প্রতিহিংসার পথ বেছে নেয় সে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সহপাঠী আরও জানান, তিনি ৱ্যামোসের ‘ঘনিষ্ঠ’ ছিলেন। তাকে একসঙ্গে ভিডিও গেমস দেখার কথা বলত ৱ্যামোস । মঙ্গলবারের টেক্সাসের উভালদে শহরের রব এলিমেন্টারি স্কুলে হামলার কয়েক দিন আগে সাবেক সহপাঠীকে নিজের কাছে থাকা একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ ভর্তি একটি ব্যাগের ছবি পাঠিয়েছিল সে।

ৱ্যামোসের ঘনিষ্ঠকে ৱ্যামোস চার দিন আগে তার নিজের ব্যবহৃত এআর-এর একটি ছবি পাঠায়। সঙ্গে ৫.৫৬ রাউন্ড ভর্তি একটি ব্যাকপ্যাক। ৱ্যামোসের মনোভাব ছিল এ যেন খুবই স্বাভাবিক বিষয়, জানিয়েছে ৱ্যামোসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।রব এলিমেন্টারি স্কুলে হামলার মাত্র তিন দিন আগে ইনস্টাগ্রামে দুটি এআর১৫ রাইফেলের ছবি পোস্টও করেছিল ৱ্যামোস।তার একাধিক প্রাক্তন সহপাঠী নিশ্চিত করেছে, অ্যাকাউন্টটি সন্দেহভাজন বন্দুকধারী সালভাদর রামোসেরই ছিল।

পুলিশ নিশ্চিত করেছে,১৮ বছরের সালভাদর ৱ্যামোস একাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের গুলিতে নিজেও নিহত হয় পথভ্রষ্ট হত্যার খেলায় মেতে ওঠা কিশোর। রক্তপাতের এক হাড়হিমকরা ঘটনার সাক্ষী হয় টেক্সাসের স্কুল যার পেছনে ছিল প্রেমহীন এক কিশোরের ফেলে আসা স্কুল জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা। অসময়ে অনিচ্ছার মধ্যে শেষ হয়েছিল তার পঠনপাঠন।ফুলশ্রুতি?তার অসম্পূর্ণ স্কুল জীবন তার তো বটেই,আরও কুড়িটি প্রাণ কেড়ে নেয় অসময়ে।।

চলবে…..

 

About Post Author