Home » তালিবানি বর্বরতা, সরকারি চাকরি পাওয়ায় স্ত্রীর হাত কাটল স্বামী

তালিবানি বর্বরতা, সরকারি চাকরি পাওয়ায় স্ত্রীর হাত কাটল স্বামী

সময় কলকাতা ডেস্কঃ স্ত্রী সরকারি চাকরি পেয়েছেন। চাকরি পাওয়ার পরে স্বামীকে ছেড়ে চলে যাবেন স্ত্রী। সেই আতঙ্কেই স্ত্রীয়ের হাত কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে।  হ্যাঁ, এমনই মধ্যযুগীয় বর্বরতার ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের কোজলসা গ্রামে। সপ্তাহের শুরুতেই এই তালিবানি মানসিকতার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই স্তম্ভিত এলাকাবাসী।

জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে কোজলসা গ্রামের শের মহম্মদ শেখের সঙ্গে বিয়ে হয় কেতুগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের চিনিসপুরের বাসিন্দা রেনু খাতুনের। রেনু নার্সিংয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ২০২০ সালে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি পান রেনু খাতুন। স্ত্রী চাকরি করায় আপত্তি ছিল স্বামীর। তবে, সম্প্রতি সরকারি নার্স পদে চাকরি পান স্ত্রী। তারপরেই ঘটে বিপত্তি। সরকারি চাকরি পেলে স্ত্রী ছেড়ে চলে যাবেন, সেই আতঙ্কই দানা বেঁধেছিল স্বামীর মনে।

অভিযোগ, শের মহম্মদ শেখ বেশ কয়েকজন বন্ধুকে স্ত্রীয়ের হাত কেটে দেওয়ার পরামর্শ দেয়। এরপর শনিবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়েই স্ত্রীয়ের মুখে বালিশ চাপা দিয়ে, হাতুড়ি দিয়ে হাত থেঁতলে, টিন কাটার কাঁচি করে স্ত্রীয়ের ডান হাতের কব্জি কেটে দেন স্বামী। রেনুর চিত্কারে ঘুম ভেঙে যায় প্রতিবেশীদের। এরপর স্থানীয়রা তড়িঘড়ি রেনু খাতুনকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

যদিও মাঝেই মাঝেই বধূ নির্যাতনের অমানবিক ঘটনা শিরোনামে উঠে আসে। কিন্তু, এহেন তালিবানি মানসিকতার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই বাকরুদ্ধ করেছে অনেককেই। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী এবং তার বন্ধুরা পলাতক। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন রেনু খাতুনের পরিবার। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

About Post Author