Home » দণ্ড মহোৎসবে ভীড়ের চাপে ৫ জনের মৃত্যু ঘিরে চাপানউতোর

দণ্ড মহোৎসবে ভীড়ের চাপে ৫ জনের মৃত্যু ঘিরে চাপানউতোর

সময় কলকাতা ডেস্কঃ রবিবার পানিহাটির দই-চিঁড়ের মেলায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। দই-চিঁড়ের মেলায় ভিড়ের চাপে এবং প্রচন্ড গরমে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫ জন পূণ্যার্থীর।   আহত বহু মানুষ। তারপর থেকেই বেশ থমথমে পরিস্থিতি। তৎপর রয়েছে প্রশাসনও। ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই, প্রশাসনের তরফে মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনার পরই পানিহাটি পুরসভার বিধায়ক এবং পুলিশ প্রশাসন মেলা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বন্ধ রাখা হয়েছে মন্দিরের পুজো।

উল্লেখ্য, রবিবার ৫০৬ তম দণ্ড মহোৎসব পালিত হচ্ছে পানিহাটি গঙ্গার তীরবর্তী মহোৎসব তলা ঘাটে। শুধু পানিহাটি নয়,সারা জেলাসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বৈষ্ণব ধর্মালম্বী ভক্তরা ভীড় জমান এই দণ্ড মহোৎসবে। পানিহাটির এই ঐতিহ্যবাহী দণ্ড মহোৎসব চিঁড়ের মেলা বলেও পরিচিত। বৈষ্ণব সমাজে কেউ আবার এই দণ্ড মহোৎসবকে মালশা ভোগ মেলা হিসেবেও পালন করে থাকেন।

কথিত আছে, আজ থেকে প্রায় ৫০৫ বছর আগে রঘুনাথ দাস গোস্বামী মহাপ্রভুর দর্শনের জন্য গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু কে মিথ্যে বলেছিল। আর তা চৈতন্য মহাপ্রভু জানতেই রঘুনাথ দাস গোস্বামীকে দণ্ড দেন। মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য দেব রঘুনাথ দাস গোস্বামীকে শাস্তি দিয়েছিলেন যে উপস্থিত সকল ভক্ত বৃন্দকে আহার হিসেবে দই চিঁড়ে খাওয়াতে হবে। সেই থেকেই প্রতিবছর পানিহাটি মহোৎসব তলা ঘাটে দণ্ড মহোৎসব মহা সমারোহে পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে পানিহাটি পৌরসভার তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয় এই দণ্ড মহোৎসব বা চিঁড়ের মেলা।

জানা গিয়েছে, দণ্ড মহোৎসবে আগত পুণ্যার্থীদের ক্লান্তি দূর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্থা এবং চৈতন্য সংঘের পক্ষ থেকে ক্লান্ত পুণ্যার্থীদের জল বাতাসা খাওয়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গত দু’বছর বিশ্বজুড়ে করোনা আবহের জেরে পালিত হয়নি দণ্ড মহোৎসব বা চিঁড়ের মেলা। এবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই পুনরায় দণ্ড মহোৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভক্তরা বেজায় খুশি। কিন্তু তারি মাঝে ঘটে গেল এই অপ্রীতিকর ঘটনা

About Post Author