Home » মহামানবের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা

মহামানবের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা

সময় কলকাতা ডেস্ক: উনবিংশ শতকের বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন আধুনিক বাংলা ভাষার জনক। তিনিই প্রথম বাংলা লিপি সংস্কার করেছিলেন। বাংলা ভাষাকে যুক্তিগ্রাহ্য ও সকলের বোধগম্য করেই থেমে থাকেননি, বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বাঙালি সমাজে প্রগতিশীল সংস্কারের অগ্রদূত ছিলেন তিনি।

কলকাতায় সংস্কৃত কলেজ থেকে খুবই কৃতিত্বের সঙ্গে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি নিয়ে পাশ করেন তিনি ১৮৪১ সালে এবং তখন থেকে তিনি হয়ে ওঠেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। এরপর তাঁকে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের হেড পণ্ডিত পদে নিয়োগ করা হয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে তাঁর প্রধান অবদান, দেশের সর্বসাধারণের জন্য মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা এবং একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রাথমিক শিক্ষার পাঠক্রম তৈরি করা। ছয় মাসের মধ্যে তিনি বাংলার মেয়েদের জন্য প্রায় ৪০টি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

বিদ্যাসাগর চেয়েছিলেন বাল্যবিবাহের অবসান ঘটাতে। বিধবা বিবাহ প্রচলন করে নারীর অধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে, বহুবিবাহ রহিত করে নারীকে অবিচার ও যন্ত্র্রণার হাত থেকে মুক্তি দিতে। অদম্য জেদের সঙ্গে সমাজের এই সংস্কারের চাকাটি তিনি ঘুরিয়ে ছেড়েছিলেন। বাংলায় নারীশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি ছিলেন নারীশিক্ষার বিস্তারের পথিকৃৎ। তিনি মনে করতেন, নারী জাতির উন্নতি না ঘটলে বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতির প্রকৃত উন্নতি সম্ভব নয়। ঈশ্বরচন্দ্র উদ্যোগী হয়ে কলকাতায় যে হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটিই ভারতের প্রথম বালিকা বিদ্যালয়। বিদ্যাসাগর ছিলেন এই বিদ্যালয়ের সম্পাদক। এটি বর্তমানে বেথুন স্কুল নামে পরিচিত।

সাঁওতাল এবং দরিদ্রদের মধ্যে তিনি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা করতেন। হোমিওপ্যাথি শিক্ষার জন্য তিনি বাড়িতে সেই সময় তাঁর ষাট বছর বয়সে কঙ্কাল কিনে এনে অ্যানাটমি শিখেছিলেন। সমাজে প্রচলিত প্রথার বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে গেলে মেরুদন্ডটা সোজা থাকাটা দরকার। এটা বারে বারে বুঝিয়েছেন তিনি। আর তাই প্রয়োজন শিশু অবস্থা থেকেই সংস্কারের প্রয়াস। সর্বস্তরের জন্য শিক্ষা বিষয়ক বই, শিশুদের বর্ণপরিচয় থেকে শুরু করে সংস্কৃত গ্রন্থের অনুবাদ করেছিলেন তিনি। তাঁর কিছু কিছু পাঠ্যপুস্তক কয়েক প্রজন্ম ধরে বাঙালি শিশুদের মৌলিক শিক্ষার প্রধান বাহন হয়েছে।

১৮৪৭ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর স্থাপন করেছিলেন সংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরি নামে একটি বইয়ের দোকান। ওই বছরই এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয় হিন্দি ‘বেতাল পচ্চিসি’ অবলম্বনে লেখা তাঁর বই বেতাল পঞ্চবিংশতি। প্রথম বিরাম চিহ্নের সফল ব্যবহার করা হয় এই গ্রন্থে। তাঁর স্বভাবগত চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং সমাজ সংস্কারের অদম্য ইচ্ছেই বাঙালি সমাজকে ঠেলে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। ১৮৯১ সালের ২৯শে জুলাই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনাবসান হয় কলকাতায়।

About Post Author