Home » হরিশ্চন্দ্রপুরের বন্যাত্রাণ দুর্নীতির ঘটনার তদন্তে ক্যাগ

হরিশ্চন্দ্রপুরের বন্যাত্রাণ দুর্নীতির ঘটনার তদন্তে ক্যাগ

সময় কলকাতা ডেস্কঃ হরিশ্চন্দ্রপুরে ২০১৭ সালের বন্যাত্রাণ দুর্নীতির ঘটনার নয়া মোড়। এবার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে বন্যাত্রাণ দুর্নীতির ঘটনার তদন্ত শুরু করল ক্যাগ। বুধবারই ক্যাগের একদল প্রতিনিধি পৌঁছন হরিশ্চন্দ্রপুরে! প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে,বৃহস্পতিবার তারা বন্যাত্রাণ দুর্নীতির পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বরুই গ্রাম পঞ্চায়েতেও হানা দেন। যদিও স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরা এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে কিছু বলতে চাননি। অন্যদিকে,ক্যাগ এই দুর্নীতির ঘটনায় তদন্ত শুরু করায় বঞ্চিত উপভোক্তারা প্রাপ্য টাকা পাবেন বলেই আশায় বুক বাঁধছেন তারা। এরপরই চলতি বছর মার্চ মাসে ওই মামলায় হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল আগামী তিন মাসের মধ্যে ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেবে ক্যাগ।

প্রশাসন ও বরুই গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচ বছর আগে, মালদহের ভয়াবহ বন্যায় হরিশ্চন্দ্রপুরের বরুই গ্রাম পঞ্চায়েতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন ৭ হাজার ৩৯৪ জন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৭০ হাজার টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৩,৩০০ টাকা করে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছিলেন রাজ্য সরকার। অভিযোগ, সেখানে বরাদ্দ ক্ষতি-পূরণের টাকা থেকে প্রায় ৭৬ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছিল অভিযুক্তরা। এই দাবিতে কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। তারপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। বিরোধীদের দাবি ছিল, হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার বড়ো বড়ো রাঘববোয়াল তৃণমূল নেতার হাত রয়েছে এই দুর্নীতির ঘটনায়। অবিলম্বে এই সমস্ত রাঘব বোয়ালদের গ্রেপ্তার করতে হবে বলেই সোচ্চার হয়েছিলেন তারা। এরপরই বরুই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সোনামনি সাহার বিরুদ্ধে এফআইআর করেন বিডিও অনির্বাণ বসু। এমনকী পঞ্চায়েত প্রধান ছাড়াও বরুইয়ের তৃণমূল নেতা আফসার আলি, হরিশ্চন্দ্রপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ রোশনারা খাতুনের নামেও এফআইআর করা হয়েছিল। তারা আপাতত জামিনে রয়েছেন। তবে বরুইয়ের পাশাপাশি ব্লকের একাধিক পঞ্চায়েতেও বন্যাত্রাণ বিলিতে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ওই দুর্নীতির সঠিক তদন্ত হয়নি। তারপরেই কলকাতা হাইকোর্ট চলতি বছরের মার্চ মাসে ক্যাগকে তদন্তভারের নির্দেশ দেন। এবার তারই তদন্তে করতে হরিশ্চন্দ্রপুরে পৌঁছেছেন ক্যাগের প্রতিনিধিরা। বন্যাত্রাণ দুর্নীতির ঘটনায় কার কি ভূমিকা রয়েছে তার সমস্ত কিছুই ক্যাগ খতিয়ে দেখছেন বলেই প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে,চাঁচলের মহকুমাশাসক কল্লোল রায় বলেন, ক্যাগ আদালতের নির্দেশে তদন্ত করছে। বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বিচারাধীন।’

About Post Author