সময় কলকাতা ডেস্ক: দেশের ত্রিবর্ন রঞ্জিত জাতীয় পতাকা কখন বাড়িতে উত্তোলন করা উচিত তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে?রাতে কোনও বাড়িতে পতাকা উড়ছে কোথাও? সেরকম দেখলে অবাক হবেন না, এরকম ভাববেন না জাতীয় পতাকার সম্মান রক্ষা হচ্ছে না।অনেকের মনেই প্রশ্ন আসছে, ফোন আসছে সংবাদপত্রের দফতরে। তাই জাতীয় পতাকা বিধি নিয়ে বিস্তারিত চৰ্চা আরেকবার করা যাক।

স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষপূর্তির বছরে ধোঁয়াশা ছিল পতাকা উত্তোলন সংক্রান্ত নিয়ম নিয়ে। ফ্ল্যাগ কোড অফ ইন্ডিয়া (২০২২) অনুযায়ী বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে এই নিয়মে।কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে স্বাধীনতা দিবসের আগেই বদল করা হল জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে একাধিক অনুষ্ঠানের। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে “আজাদি কা অমৃত মহোৎসব।” আর এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই কেন্দ্রীয় সরকার বাড়ি বাড়িতে জাতীয় পতাকা তোলার আহ্বান জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী খোদ ‘মন কী বাত’ অনুষ্ঠানে এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন। এবং এই জাতীয় পতাকাকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘হর ঘর তেরঙা অভিযান’। ‘হর ঘর তেরঙা অভিযানের জন্য জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়মে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। তবুও তারমধ্যে জাতীয় পতাকার সম্মান রক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।অভিযোগ উঠছে যে কিছু ক্ষেত্রে মর্যাদা রক্ষিত হচ্ছে না জাতীয় পতাকার। জেনে নেওয়া দরকার জাতীয় পতাকা সংক্রান্ত নিয়মাবলী।

রাতের বেলাতে পতাকা উত্তোলন সংক্রান্ত বিধি নিয়ে সংশয় ছিল। কারণ এতদিন নিয়ম ছিল সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্তই জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হবে। আগে মেশিনে তৈরি বা পলিয়েষ্টারে তৈরি পতাকা উত্তোলনের অনুমতি ছিল না। এখন হাতে বা মেশিনে তৈরি সব ধরনের কাপড়ের পতাকা তোলা যেতে পারে।

এবছরের আগস্ট মাসেই সংশোধন করা হয়েছে ফ্ল্যাগ কোড অফ ইন্ডিয়া বা ভারতীয় পতাকা বিধি (২০২২)। ফ্ল্যাগ কোড অব ইন্ডিয়া ২০২২ এর দ্বিতীয় ভাগের ২.২ অনুচ্ছেদের ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী ভারতীয় পতাকা যে কোনও ভারতীয় নাগরিকের বাড়িতে রাতের বেলা সহ যে কোনও সময়ই তোলা যেতে পারে। এই পতাকার আকৃতি ক্ষুদ্র যেন না হয়। উল্লেখ্য ছেঁড়া পতাকা কখনও উত্তোলন করা যাবে না।

এর আগের নিয়ম অনুযায়ী সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্তই জাতীয় পতাকা তোলার অনুমতি ছিল। এর আগে পলিস্টারের তৈরি পতাকা বা মেশিনে তৈরি হয়েছে এমন পতাকা উত্তোলনের অনুমতি ছিল না। এখন হাতে বা মেশিনে তৈরি সব ধরনের পতাকাই তোলা যাবে।
জাতীয় পতাকার সম্মানরক্ষা দেশের প্রতিটি মানুষের মৌলিক কর্তব্য জানিয়ে নতুন ফ্ল্যাগ কোডে বলা হয়েছে যে হাতে কাটা, হাতে বোনা, মেশিনে তৈরি করা তুলো, সিল্ক, বা খাদির পতাকা উত্তোলন করা যাবে।

এছাড়া উল্লেকযোগ্য নিয়ম গুলি হল,পতাকার প্রস্থ (উচ্চতা) ও দৈর্ঘ্যর সঠিক অনুপাত হচ্ছে ৩.২।অর্থাৎ পতাকা চওড়ার দিকে বড় হবে।জাতীয় পতাকার অর্ধেক উত্তোলন যেন না হয় সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে।কোনও অবস্থাতেই জাতীয় পতাকা মাটিতে রাখা যাবে না।পতাকায় কোনও অক্ষর লেখা যাবে না।জাতীয় পতাকার রঙের পোশাক কখনই পরা উচিত নয়।বাণিজ্যিকভাবে এই পতাকা ব্যবহার করা যাবে না।বিকৃত পতাকা উত্তোলন করা যাবে না।জাতীয় পতাকার সঙ্গে অন্য পতাকা থাকলে, জাতীয় পতাকার স্থান সব সময় উঁচুতে হবে।যে দণ্ডে জাতীয় পতাকা থাকবে সেখানে অন্য পতাকা রাখা যাবে না।গেরুয়া রং সবসময় উপরে থাকবে।ছেঁড়া, বিবর্ণ পতাকা উত্তোলন করা যাবে না।কোনও ব্যক্তির মৃতদেহের সঙ্গে কফিনে বা চিতায় জাতীয় পতাকা দেওয়া যাবে না।
ফ্ল্যাগ কোডে নিয়মের পরিবর্তন স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে জেনে রাখা ভালো যেহেতু জাতীয় পতাকার সম্মান রক্ষা আপনার মৌলিক কর্তব্য।।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক