Home » মা আসছেন, ভালো নেই চাঁদমালা শিল্পীরা

মা আসছেন, ভালো নেই চাঁদমালা শিল্পীরা

সময় কলকাতা ডেস্ক : আশ্বিনে দেবীর অকাল বোধনের আলোতে বাঙালিরা দুর্গোৎসবে মেতে উঠলেও প্রতিদিন একটু একটু করে অমাবস্যার গহন কালো অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের রামেশ্বরপুরের মালাকার এলাকার চাঁদমালা শিল্পীদের জীবন। দুর্গাপুজোর আর বেশি দেরী নেই। আর দেবীর সাজশয্যাতে অন্যতম অঙ্গ চাঁদমালা থেকে প্রতিমার মুকুট। শোলার এই অলঙ্কার ছাড়া দেবী দুর্গার সাজ অসম্পূর্ণ হয়ে যায়। প্রতি বছর যাদের হাতে দেবী সেজে ওঠেন, তাঁরা কিন্তু এবার সেভাবে কাজ শুরু করতে পারেননি। হাওড়ার জগৎবল্লভপুর এলাকার মুন্সিরহাটের রামেশ্বরপুর মালাকার পাড়ার চাঁদমালা শিল্পীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। করোনার সময় কাজের বরাত পেলেও এবছর যেন বিধি বাম। সেভাবে বরাত না পেয়ে কাজ শুরুই করতে পারেন নি অনেক শিল্পী।কয়েকজন কিছু বরাত পেলেও মোটের উপর তা সংসার চালানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়। আক্ষেপ শিল্পীদের।


কেউ দশ বছর, কেউ বা পঞ্চাশ বছর ধরে এই শিল্পকলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। কারোর বা এটাই বংশগত ব্যবসা। একদিকে দক্ষিণবঙ্গে সাতচল্লিশ শতাংশ কম বৃষ্টি হওয়ার জন্য এলাকাতে শোলার চাষ হলেও সেই শোলা ব্যবহারের উপযোগী নয়, পাশাপাশি দাম বেড়েছে অন্যান্য কাঁচামালের। আগে এক রিম কাগজের দাম ছিল ৪২০ টাকা। কিন্তু এখন বড়বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকারও বেশি দামে। কদমফুলের দামও অনেক বেড়েছে। এখন শোলার বদলে মেশিনে তৈরী কাগজের বোর্ডে চাঁদমালা তৈরী হচ্ছে। যার দাম কম আর উৎপাদন অনেক বেশি। একদিকে বরাতের অভাব, অন্যদিকে কাঁচামালের আকাশ ছোঁয়া দাম। সব মিলিয়ে নিজেদের অন্ন সংস্থানের উপায় খুঁজতে রাতের ঘুম উড়েছে এই শিল্পীদের। এখন আর্জি, একটু সরকারি সহায়তার।।

About Post Author