সময় কলকাতা ডেস্কঃ নিউ ওখলা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি নয়ডা জানিয়েছে যে সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউট অর্থাৎ CBRI-র কাছে টুইন টাওয়ার মেরামতির কাজ চালানোর সময় সুপারটেক-এর জমা দেওয়া এমেরাল্ড কোর্ট এবং এটিএস সোসাইটির কাঠামোগত অডিট রিপোর্ট পেশ করেছিল। তারই পরিপেক্ষিতে ২৬শে আগস্ট নিউ ওখলা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সিইও ঋতু মহেশ্বরীর সভাপতিত্বে সুপারটেক,UPPCB,CBRI, এডিফিস ইঞ্জিনিয়ারিং সহ সমস্ত স্টক হোল্ডারদের নিয়ে বৈঠকের পরেই টুইন টাওয়ার ভাঙ্গার ক্ষেত্রে কি কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তার ঘোষণা করা হয়। বিল্ডিংটি ভাঙার সময় যে বিস্ফোরণ ঘটবে এবং বিস্ফোরণের ফলে ধূলিকণা ও বায়ু দূষণ ব্যাপক পরিমাণে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে উত্তর প্রদেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড অর্থাৎ UPPCB ইতিমধ্যেই বায়ুর গুণমান পরীক্ষা করার জন্য ছয়টি ম্যানুয়াল অ্যাম্বিয়েন্ট এয়ার কোয়ালিটি মনিটরিং সেন্টার স্থাপন করেছে।
নয়ডা কর্তৃপক্ষ তিনটি এয়ার কন্ট্রোল মনিটরিং স্টেশন থেকে বায়ুর গুনমান পরীক্ষা করবেন এবং লাইভ ডাটা নিয়ে গবেষণা করবে। কর্তৃপক্ষ ১৫ টি জায়গায় এন্টি স্নগ বন্দুক মোতায়েন করছে। তাদের প্রতিটির সঙ্গে একটি জলের ট্যাংকার যুক্ত করা হবে। চারটি যান্ত্রিক সোয়াইপিং মেশিন এবং ১০০ জন সাফাই কর্মীও মোতায়েন করা হবে। বিস্ফোরণের পর ধুলোয় ঢেকে যেতে পারে রাস্তাঘাট ,ফুটপাথ ,গাছপালা সহ আশেপাশের বাড়ি ঘর। সে ক্ষেত্রে ৫০টি জলের ট্যাঙ্কার ব্যবহার করা হবে এই সমস্ত এলাকা পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে। উদ্যান পালন দপ্তরও পার্ক এবং রাস্তার পাশের গাছ পরিষ্কার করার জন্য তিনটি জলের ট্যাঙ্কারের ব্যবস্থা করেছে।
নয়ডার এই সুপারটেক ৪০ তলা টুইন টাওয়ার নিয়ে বহুদিন ধরে আদালতে মামলা চলেছে। বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে এই টুইন টাওয়ার ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন মহামান্য আদালত আর তারপরেই শুরু হয়েছে এই টুইন টাওয়ার ভেঙে ফেলার প্রস্তুতি। বিস্ফোরণ ঘটিয়ে টুইন টাওয়ারকে ভেঙে ফেলার উদ্দেশ্যে আমেরিকার প্রযুক্তিবিদদের কাজে লাগানো হয়েছে। ২৮শে আগস্ট অর্থাৎ রবিবার দুপুর ২:৩০ মিনিটে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভেঙে ফেলা হবে এই টুইন টাওয়ার। বিগত তিন মাস ধরে বিল্ডিংয়ের কাঠামোতে গর্ত খুঁড়ে লাগানো হচ্ছে বিস্ফোরক। ৯৪০০ টি গর্ত খোঁড়া হয়েছে বিল্ডিং এর কাঠামোতে। যার মধ্যে ৩৫০০ কিলো বিস্ফোরক ঢুকিয়ে ঘটানো হবে বিস্ফোরণ। ৪০ তলার বিল্ডিংটিতে মোট ৯০০টি ফ্লাট এবং ২১ টি স্যূইট এবং বহু দোকান ঘর ও অফিস রয়েছে। বিল্ডিংটি ভেঙে পরতে সবমিলিয়ে ১ মিনিট সময় লাগতে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

তবে বিস্ফোরণের পরে আশেপাশের অঞ্চলে হালকা ভূমিকম্প অনুভূত হতে পারে। সেক্ষেত্রে এই টুইন টাওয়ার সংলগ্ন কিছু বাড়িতে বিস্ফোরণের কারণে চিড় ধরার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফ থেকে আশেপাশের অঞ্চলের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অন্যত্র। রবিবার সকাল থেকে বন্ধ করে দেওয়া হবে ওই অঞ্চলের যাবতীয় যানবাহন চলাচল। সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও। বিল্ডিং সংলগ্ন অঞ্চলের অফিস দোকান সবই বন্ধ রাখা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে। এখন শুধু প্রতীক্ষা রবিবার দুপুর ২:৩০ পর্যন্ত। কিভাবে বিস্ফোরণ ঘটানো হবে আর বিস্ফোরণের ফলে কি প্রতিক্রিয়া হতে পারে তা দেখার জন্যই অধীর আগ্রহে রয়েছে সাধারণ মানুষ।


More Stories
বিজেপি বিপক্ষ দল ভাঙাতে কত কোটি টাকা দিচ্ছে বলে অভিযোগ?
আক্রান্ত হলেন ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে
ভারতে তেলের দাম কি কমছে?