Home » টিকে থাকার নাম ‘সাঁতরাগাছি’

টিকে থাকার নাম ‘সাঁতরাগাছি’

চুমকী সুত্রধর, সময় কলকাতা : মঙ্গলবার বিজেপির নবান্ন অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় হাওড়া এবং কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে। কোথাও ইটবৃষ্টি, কোথাও লাঠির ঘা, কোথাও মিছিল ছত্রভঙ্গ করার জন্যে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস তো কোথাও আবার ব্যারিকেড ভাঙার জন্য পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি। সবটুকুই দেখল বাংলা। বাংলা দেখল এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতাও। কে কাকে টেক্কা দেবে? কে কাড়বে নজর? এদিনের অভিযানে বঙ্গ বিজেপির মধ্যে একটি চাপা দ্বন্দ্বেরও আভাস পেয়েছে বাংলা। মাঠে খেলতে নামার আগেই হেস্টিংসের সামনে আউট হয়ে গিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হাওড়া ময়দানে গতি হারান বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। কলেজ স্কোয়ার থেকে হাওড়া ব্রিজের কাছে যেতেই রণে ভঙ্গ দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দুপুর পড়তেই নবান্ন অভিযান শেষ বলে ঘোষণা করেছিলেন দিলীপ। কিন্তু, এক পক্ষ তখনও লড়াই করে যাচ্ছিল, যে পক্ষে ছিল শুধুই গ্রাম বাংলা থেকে আসা শয়ে শয়ে বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা। সেই লড়াইয়ের নাম ‘সাঁতরাগাছি’। দুপুর প্রায় দেড়টা। খবরের শিরোনামে তখনই জায়গাটা করে নিয়েছিল সাঁতরাগাছি। সাঁতরাগাছির পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যত হিমশিম খাচ্ছিল পুলিশ।

জলকামান, টিয়ারগ্যাস নিয়ে শুরু হল মিছিল প্রতিরোধ করার কাজ। পাল্টা ইটবৃষ্টি হয় পুলিশের দিকেও। চলে লাঠিচার্জও। বেশ কিছুক্ষণ চলার পর শিরোনামে চলে আসে বড়বাজার। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের গাড়িতে। তারমাঝেই নবান্ন অভিযান শেষ বলে ঘোষণা করেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কিন্তু, সাঁতরাগাছি তখনও নিজের ফর্মে। বিকেল চারটে পেরিয়ে পাঁচটার দিকে। মেঘলা আকাশে তখন সন্ধে হয়ে আসছে। দ্বিতীয়বারের জন্যে ফের শিরোনামে আসল সাঁতরাগাছি। লাঠিচার্জ, জলকামান, ইটবৃষ্টি তখনও অব্যাহত। প্রথমবারে পুলিশের সামনে একদল এগিয়ে এল। পুলিশ জলকামান ব্যবহার করতেই সেই জল থেকে বেঁচে এগিয়ে যাওয়া। পরেরবার আরেকটি দল এগিয়ে আসল জলকামানের দিকে। এইভাবে ধাপে ধাপে গেরিলা পদ্ধতিতে নবান্ন অভিযানে পুলিশের সঙ্গে লড়াইয়ের ইতিহাস গড়া। এদিন শহর কলকাতার জমায়েতের তুলনায় সাঁতরাগাছির মিছিলের জমায়েত ছিল অনেক কম। কিন্তু, রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্ব যা করে দেখাতে পারেননি, তা করে দেখিয়েছে সাঁতরাগাছি। যেভাবে পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীরা লড়াই চালিয়েছে শুভেন্দু-সুকান্ত-দিলীপ এই তিন মাথা ছাড়াই, একপ্রকার নজিরবিহীন। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গেলে বিরোধী দলের যে কৌশল লাগে, যে কৌশল একসময় নিতে দেখা গিয়েছিল তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, দেখা গিয়েছিল তৎকালীন বিরোধী দলে থাকা জ্যোতি বসুকেও, বঙ্গ বিজেপির অভ্যন্তরে প্রতিযোগিতার মাঝেই সেই টিকে থাকার কৌশল শিখিয়ে দিয়ে গেল সাঁতরাগাছি। আগের বারের নবান্ন অভিযানে রঙিন জলে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যাওয়ার যে চেনা ছবি মানুষের মনে ছিল, তা কার্যত ধুয়ে মুছে সাফ করে বাংলার বিরোধী রাজনীতির গন্ডিতে নয়া নজির গড়ল ‘সাঁতরাগাছি’, রাজনৈতিক মহলের।

 

About Post Author