সময় কলকাতা ডেস্কঃ বসিরহাটের বড় কালীবাড়ি মানেই তার সঙ্গে যুক্ত চারশো বছরের পুরনো ইতিহাস, ঐতিহ্য আর আড়ম্বর। বসিরহাটের অন্যতম জাগ্রত দেবী বড় কালীবাড়ির মা। আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ৪০০ বছর আগে দন্ডী স্বামী নামের এক সাধু একটি ঘট নিয়ে মায়ের আরাধনা শুরু করেন অধুনা বসিরহাটের ১২নং ওয়ার্ডের টাকি রোড পার্শ্বস্ত এলাকায়। কালের নিয়মে সেই সময় থেকে ধীরে ধীরে স্থানীয় মানুষদের সহযোগিতায় বাঁশ ও খড়ের ছাউনি দিয়ে শুরু হয় কালীমন্দির নির্মাণের কাজ। ছোট রূপে একটি কালিমাকেও প্রতিস্থাপন করা হয় মন্দিরের গর্ভগৃহে। যদিওকালের নিয়মে কংক্রিটের ঘরে স্থানান্তরিত হয়েছে বড় কালীবাড়ির মা। তারপরে কেটে গিয়েছে বহু বছর। জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল মন্দির চত্বর। সেই মন্দির সংস্কারে অবশেষে ১৩০৬ বঙ্গাব্দে এগিয়ে আসেন বসিরহাটের অন্যতম উকিল হরি মোহন দালাল।

একদিন তিনি কলকাতা হাইকোর্টে যাচ্ছিলেন একটি মোকদ্দমার জন্য। তখন মায়ের কাছে মানত করেছিলেন যদি এই মোকদ্দমা তিনি জিততে পারেন তাহলে মায়ের মন্দিরকে পুনর্নির্মাণ করে তুলবেন। সেই মোকদ্দমা জেতার পর তিনি নিজের কথা রেখেছিলেন। ধীরে ধীরে মায়ের মন্দিরটিকে নতুন রূপে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন উকিল হরি মোহন দালাল। এই মন্দিরের সাথে জড়িয়ে রয়েছে বহু অলৌকিক গল্প। স্থানীয় বাসিন্দারা বড় কালী বাড়ির এই মাকে খুবই জাগ্রত মনে করেন। বিশেষ করে যারা নিঃসন্তান দম্পতি তারা মায়ের কাছে এসে মানত করলে মা তাদের মনস্কামনা পূরণ করেন।

আজ থেকে বহু বছর আগে হাসনাবাদের এক মৃৎশিল্পী সবার আগে বানিয়েছিলেন এই বড় কালীবাড়ি মাকে। তারপরে একে একে টাকি এবং সংগ্রামপুরের কালীমাকে রূপ দিয়েছিলেন। সেই কারণেই এখানকার মা বড় কালী বাড়ির মা হিসেবে পরিচিত। জানা গিয়েছে,দীর্ঘদিন ধরে বংশ পরম্পরায় এই মন্দিরে পূজা করে আসছেন মল্লিক পরিবারের সদস্যমরা। আজও দন্ডী স্বামী নামের ওই সাধুর ঘট রয়ে গিয়েছে। বর্তমানে শ্যামা পুজোর দিন এখানে কয়েক হাজার ভক্তের সমাগম হয়। সেই সঙ্গে চলে খিচুড়ি ভোগ বিতরণ।


More Stories
ঝড়ে ভেঙে পড়ল বারাসাতের কালীপুজোর ওভারহেড গেট
কালীপুজোয় শব্দবাজির দাপট, প্রতিবাদ করে বৃদ্ধার জুটল প্রহার, ভবানীপুর থেকে বারাসাত -ছবি কি আদৌ পাল্টেছে?
ধূপগুড়ির এই মন্দিরের রয়েছে প্রাচীন এক ইতিহাস! মন্দির নিয়ে প্রচলিত রয়েছে বহু অলৌকিক কাহিনী